আতংক, উৎকন্ঠায় উৎসব বিহীন বিজু!

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

সম্প্রতি সময়ে পাহাড়ে হত্যা, খুন, গুম, চাঁদাবাজি সর্বপরী দলীয় কোন্দলের জেরে শান্ত পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠেছে। সবুজ রংয়ে রক্তের লাল দাগ লেগে আছে। তাই তো আর কোন উৎসব রঙিন করতে পারেনি পাহাড়কে।

পাহাড়ে অস্তিরতা বিরাজ করায় এ বছর সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতংক ছিলো। ফলে বিজু উৎসব উৎযাপন হলো উৎসবিহীন। পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সম্প্রদায়ের মানুষেরা কোন রকমে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে ঘরমুখী হয়ে পড়ে।

স্থানীয় এসব সম্প্রদায়ের একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিজু।

এ দিনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক অপরের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে। ঐতিহ্যবাহী পাজন দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সাথে আনন্দ পেতে খাওয়া হয় পাহাড়ি মদ।

কিন্তু এ বছর ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, খুন, আধিপত্য বিস্তার সব মিলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে মানুষের মনে আনন্দ নেই। উৎসব করবে কিভাবে!

তাদের দাবি, কে কখন গুলিতে মারা পড়ে। সব সময় আতংক উৎকণ্ঠায় থাকেন তারা। তাই তারা কোন রকমে উৎস বিহীন বিজু উৎযাপন করছে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের রাজবাড়ি ঘাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সম্প্রদায়ের লোকেরা নদীতে ফুল ভাসিয়ে যে যার মতো চলে গেছে।

বিগত বছরগুলোতে শহরের গর্জনতলী এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকেরা নদীতে ফুল ভাসানোর পর পৃথক পৃথক স্থানে মুরব্বীদের স্নান করানো, তারপর বস্ত্র বিতরণ, আলোচনা সভার আয়োজন করা। এরপর ঐতিহ্যবাহী গড়ায় নৃত্য পরিবেশন করা হতো আনন্দ উল্লাসে।

কিন্তু এ বছর উৎসবে তেমন আমেজ লক্ষ্য করা যায়নি। কোন রকম নদীতে ফুল ভাসিয়ে, স্বল্প সময়ে অতিথিদের আলোচনা করা হয়। এরপর একই স্থানে বস্ত্র বিতরণ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।

ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা জানান, পাহাড়ের পরিস্থিতি ভাল না থাকায় আমরা সাদামাটা অনুষ্ঠান করেছি। তাই অনুষ্ঠানে তেমন কোন উৎসব ছিলো না।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা আর পাহাড়ে কোন রক্তপাত চাই না।  আজকের দিনের মতো সারা বছর পাহাড়ে সম্প্রতি বিরাজ করুন। তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে, এলাকার উন্নয়ন হবে।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা জানান, শান্তি চুক্তির আগে পাহাড়ে এভাবে কেউ বিজু উৎসব পালন করতে পারতো না। চুক্তির পরবর্তী পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের লোকেরা এখন মিলে মিশে বিজু উৎসব পালন করছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ (সোমবার) বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীরা ভোট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ৭ জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং একই ঘটনায় আহত অবস্থায় সর্বশেষ একজনের মত্যু ঘটে।

এছাড়া বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকে তার পরিবারের সামনে গুলি করে হত্যা এবং রাজস্থলী উপজেলায় ৭জনকে গুলি করে হত্যার কথিত ঘটনায় পাহাড় জুড়ে চাপা আতংক বিরাজ করছে।

ঘটনাপ্রবাহ: আতংক, উৎকন্ঠায় উৎসব বিহীন বিজু!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × four =

আরও পড়ুন