আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী

পার্বত্যনিউজ:

রাখাইন রাজ্যের বৌদ্ধ বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মিকে  সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

সম্প্রতি গ্রুপটি বড় ধরনের একটি অভিযান পরিচালিত করার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার(১৮ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সামরিক বাহিনী।

রাজধানী নেপিডোতে এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে নেত্রী আং সান সু চি নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই রাখাইনেই ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী নৃশংস হামলা চালিয়েছিল। এতে করে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে যেতে বাধ্য হয়।

বিদ্রোহী গ্রুপটি অনেকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়াত্তশাসন দাবি করে আসছে।  ৪ জুন তাদের আক্রমণে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও ৯ জন আহত হয়।  মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অফিসে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সু চি বলেন, আরাকান আর্মি কেবলমাত্র একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। তাদেরকে পরাজিত করতে হবে দ্রুত ও সুস্পষ্টভাবে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর তথ্য কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল নিয়ি নিয়ি তুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি তাদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, সু চি বলেছেন, তিনি যদি আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ না দেন, তবে পাশ্চাত্য মনে করবে, মুসলিম বলেই ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে তিনি আরসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। কারণ উভয় গ্রুপই একই ধরনের অপরাধ করেছে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, আরাকান আর্মির সাথে সামরিক বাহিনীর ২০১৫ সালে ১৫ বার, ২০১৬ সালে ২৬ বার, ২০১৭ সালে ৫৬ বার, ২০১৮ সালে ৬১ বার সংঘর্ষ হয়েছে।  তারা বলেন, চলতি বছর অন্তত আটবার তাদের মধ্যে মোকাবিলা হয়েছে। এই দলের গেরিলারা অন্য গ্রুপগুলোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ লাভ করে। বিশেষ করে কচিন রাজ্য থেকে তারা ভালো সুবিধা পেয়ে থাকে।

আরাকান আর্মি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। তাদের কয়েক হাজার সুসজ্জিত ও পোশাকধারী সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা গেরিলারা একেবারেই হীন অবস্থায় রয়েছে।

ডিসেম্বরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ৫টি রাজ্যে যুদ্ধরীতি ঘোষণা করে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে রাখাইনকে রাখা হয়নি। কর্মকর্তারা বলেন, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, তিনি মনে করেন, আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − ten =

আরও পড়ুন