আশা নিয়ে মাঠে লবণ চাষীরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে লবণ চাষে মাঠে নেমেছে চাষীরা। কক্সবাজারের ৬৫ হাজার একর জমিতে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এবারে মাঠে নেমেছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার জন লবণ চাষী। তবে সব চাষীদের ভয় এক জায়গায়, যদি বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করা হয় তাহলে তারা উৎপাদিত লবণের দাম পাবে না। এতে সব কিছু মাঠে মারা পড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে কক্সবাজারের একমাত্র স্বয়ং সম্পূর্ণ খাত লবণ শিল্প।

সংশ্লিষ্টদের দাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি মধ্যস্বত্বভোগী ভুল বুঝিয়ে লবণ আমদানী করে দেশের চরম ক্ষতি করছে। এদিকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে লবণ চাষে ব্যাপক হারে মাঠে নেমে পড়েছে প্রান্তিক চাষীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-ধান কাটা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে লবণ চাষের প্রস্তুতি। এবার ন্যায্য মুল্য পাওয়া নিয়ে মনে একধরনের শঙ্কা নিয়ে মাঠে নেমেছে হাজারো লবণ চাষী। ইতিমধ্যে অনেক এলাকা থেকে শ্রমিক প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক সামগ্রীসহ মাঠে আগমন করেছে। অনেকেই খতমে কোরআনের মাধ্যমে লবণ চাষের কাজ উদ্বোধন করেছেন। এবারের প্রথম লবণ উৎপাদন হয়েছে টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের কাটাখালী, লম্বাবিল, উনছিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া, নয়াপাড়া, নয়াবাজার, মিনাবাজার, ওয়াব্রাং, সিকদার পাড়া, স্লুইস পাড়া, নাটমুরা পাড়া, চৌধুরী পাড়া, রঙ্গিখালী, লেদা, মোছনী পাড়া, জাদীমুরা, জইল্যারদ্বীপ, টেকনাফ সদরের চৌধুরীপাড়া, মৌলভীপাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া, সিকদার পাড়া, নয়াপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষীগণ পুরোদমে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।

সব জায়গায় লবণের চাষ শুরু হলেও শাহপরীরদ্বীপের লবণচাষীদের চিন্তার শেষ নেই। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে একাকার শাহপরীদ্বীপ। বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ২ হাজার একর লবণ মাঠ সাগরের জোয়ারে ডুবে যায়। তাই সবখানে পুরোদমে কাজ শুরু হলেও শাহপরীরদ্বীপের চিত্র ভিন্ন। তাতে শুধু লবণ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, সাথে হারাবে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ রাজস্ব। ফলে শাহপরীরদ্বীপে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। তবে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার হচ্ছে আস্তে আস্তে। আগামী বছর নাগাদ চাষীরা লবণ চাষ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাহারছড়া শামলাপুর এলাকার লবণ চাষী মিজান, নুর মোহাম্মদ ও শরিফ জানান, আমরা ৪ জন মিলে শেয়ারে ২৫ খানি লবণ মাঠ নিয়ে এই এলাকায় প্রথম কাজে নেমেছি। প্রথম দিন পুরো মাঠে এখনো লবণ উৎপাদন না হলেও ১০  মাঠে লবণ তুলেছি ৪ মন। যা বিক্রি হবে ১২০০ টাকা করে। তিনি আরও বলেন-আমরা প্রতি বছর কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় লবণ মাঠ বর্গা নিয়ে চাষ করে থাকি। এবছর অধিক লবণ উৎপাদনের আশায় উপকূলীয় এলাকায় ৪ জন শেয়ার মিলে আরও ৪ জন কৃষক নিয়ে কাজ করছি।

তাদের দাবি-লবণ চাষীদের সরকারিভাবে ঋণের পৃষ্টপোষকতা করলে ও ন্যায্য মূল্য দিলে এ খাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটানোর দাবি চাষীদের।

এদিকে গত বছরে স্থানীয় পর্যায়ে লবণের দর পতনের রেকর্ড পরিমান কমেছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়েও উপকূলে বিগত বছরের মজুদকৃত লবণ প্রতিমণ মাত্র ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা। অথচ প্রতিমণ লবণ উৎপাদন করতে স্থানীয় পর্যায়ে খরচ পড়ে প্রায় দেড়শ টাকা। এভাবে অব্যাহত লোকসানের ফলে লবণ উৎপাদনে চাষীদের নাভিশ্বাস জন্মেছে। কৃষকরা লবণ শিল্পকে এখন অনেকটা বৃথাশ্রম মনে করছে। লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বক্তভোগিরা। এক্ষেত্রে পুরো মৌসুমে হাজার হাজার লবণ চাষী গুটি কয়েক অসাধু দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। এ থেকে পরিত্রান ও সঠিক মূল্য নির্ধারনে সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া জরুরী বলে মনে করেন লবণ শিল্পে জড়িতরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − sixteen =

আরও পড়ুন