ইউপিডিএফ’র জুম্মল্যান্ড স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না: মেজর জেনারেল মতিউর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি ॥

চট্টগ্রামস্থ ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান এএফডব্লিউসি, পিএসসি বলেছন, ইউপিডিএফ এখন স্বাধীন দেশের পতাকা, মুদ্রা তৈরি করেছে। মানচিত্র তৈরি করেছে। কিন্তু ইউপিডিএফ’র এ দিবা স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না। পাহাড়ের মানুষ তাদের সন্ত্রাসী দল হিসেবে জানে। প্রসীত গ্রুপ নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ কর্তৃক পাহাড়ে জুম্মল্যান্ড স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না। সোমবার সকালে জুরাছড়ি জোন কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর জেনারেল মতিউর আরও বলেন, পাহাড়ে পাহাড়ি কোন তরুণী ধর্ষণের শিকার হলে বাঙালীদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু রাঙামাটির নানিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মিতালী চাকমা ইউপিডিএফ দলে যোগদান না করায় তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা।

তিনি মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা করে বলেন, কিছুদিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকারের বিরাট ধজাধারী এক পরিবার একটি বিষয় নিয়ে সেনাবাহিনীকে অপবাদ দেওয়ার জন্য খুব শোরগাল করার চেষ্টা করেছিল। অথচ প্রসিত গ্রুপের ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা মিতালীকে ধর্ষণের পরেও তারা এখন মূখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছেন। তার জ্ঞাতি ভাইয়েরাই নিরীহ এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছিল- এখন আর তিনি কিছু বলেন না।

মেজর জেনারেল জানান, সেনাবাহিনীকে দুর্বল ভাবার কোন অবকাশ নেই। পাহাড়ের মানুষের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সেই ১৯৭৬ সাল থেকে পাহাড়ে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর দৃঢ প্রচেষ্টায় এবং সরকারের সহযোগিতার কারণে অন্ধকার পাহাড়ে আলোর মুখ দেখছে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি আওতায় সেনা ক্যাম্প যতটুকু প্রত্যাহার করার, তা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলাদেশের রংপুর, খুলনা, বগুড়ায় সেনাবাহিনী থাকতে পারলে এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভোমত্ব রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামেও সেনাবাহিনী থাকবে।

তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্রগ্রামকে একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সচেষ্ট থাকবে । আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সকলের প্রতি আহব্বান করেন এ সেনা কর্মকর্তা।

এসময় রাঙামাটি রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জুরাছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল কে এম ওবায়দুল হক পিএসসি, উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কার্বারী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + 19 =

আরও পড়ুন