adv 728
“ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের বর্তমানে কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা অভিযোগ করেন, প্রসীতের নেতৃত্বে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী কার্যকলাপ, রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বর্জনের মত রাজনীতি করছে।তিনি বলেন, প্রসীতের ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা এখন পকেট ভারী নেতা হিসেবে পরিচিত। মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নীতিহীন, আদর্শহীন, লক্ষ্যভ্রষ্ট, দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের আর্থিক দণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড করা হয়। ইউপিডিএফ’র বর্তমান নেতৃত্ব জুম্ম জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।”
নিহতদের স্মরণে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের নানা কর্মসূচী পালন

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সভাপতি তপন জ্যোতি বর্মা হত্যার প্রথমবার্ষিকী আজ

২০১৮ সালের এ দিনে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের হামলায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয় আরো ১০ জন। নিহতরা হচ্ছে, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা, সুজন চাকমা, টনক চাকমা, সেতু চাকমা ও মাইক্রোবাস চালক মো: সজিব।

সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ নিহতদের স্মরণে শোকসভাসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে সংগঠনটি।

দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় গণ জমায়েত, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী, নিহতের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন, শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে স্মরণসভা ও সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলনের কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে সদস্য সুমেল চাকমার সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেএসএস এমএন লারমা সমর্থিত কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক তজিম চাকমা, এমএন লারমা সমর্থিত জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য যুব রানী চাকমা ও আয়তন চাকমা প্রমূখ।

স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চাকমা।

স্মরণসভায় বক্তারা ইউপিডিএফ প্রসীত বিকাশ খীসা ও সঞ্চয় চাকমা গ্রুপের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ এনে সাধারণ পাহাড়িদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের বর্তমানে কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা অভিযোগ করেন, প্রসীতের নেতৃত্বে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী কার্যকলাপ, রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বর্জনের মত রাজনীতি করছে।

তিনি বলেন, প্রসীতের ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা এখন পকেট ভারী নেতা হিসেবে পরিচিত। মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নীতিহীন, আদর্শহীন, লক্ষ্যভ্রষ্ট, দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের আর্থিক দণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড করা হয়। ইউপিডিএফ’র বর্তমান নেতৃত্ব জুম্ম জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের এ দিনে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের হামলায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয় আরো ১০ জন। নিহতরা হচ্ছে, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা, সুজন চাকমা, টনক চাকমা, সেতু চাকমা ও মাইক্রোবাস চালক মো: সজিব।

ইউপিডিএফ প্রসীত বিকাশ খীসা ও সঞ্চয় চাকমার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালের ১৫ নভেস্বর তপন জ্যোতি চাকমা ও শ্যামল কান্তি চাকমার নেতৃত্বে গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পন করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। আর ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ানে শত শত পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবীতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট( ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের নেতৃত্বে দুই সংগঠনের আধিপত্য রক্ষার লড়াই।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জেএসএস ভেঙ্গে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস(এমএন) গ্রুপ। তারই ধারাবাহিকতায় চার গ্রুপের সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৬শ শতাধিক প্রাণোচ্ছল যুবক। এছাড়াও সহস্রাধিক আহত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + 6 =

আরও পড়ুন