ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন কুমার চাকমার নির্বাচনী ইশতেহার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খাগড়াছড়ি আসনে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুতন কুমার চাকমা।

ইশতেহারে ভূমি অধিকার; বন্দী মুক্তি, ধরপাকড় বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, সর্ব প্রকার নারী নির্যাতন রোধ, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ ও পর্যটন ব্যবসা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, শিক্ষা ও চাকুরি সংক্রান্ত, প্রত্যাগত ও আভ্যন্তরীণ শরণার্থী, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত, অপসংস্কৃতি রোধ, বিচ্যুত যুবকদের পুনর্বাসন, খনিজ সম্পদ ও স্থল বন্দর, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহৎ সামাজিক উৎসব ছুটি–এসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শনিবার(২২ ডিসেম্বর) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ইশতেহার ঘোষণার কথা জানানো হয়।

২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটি’ কর্তৃক ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়ায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে,  ‘এখানে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বছর খানেক আগেই। ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পোষমানা প্রার্থীকে ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা, অথবা এলাকা দখলে রেখে ফাঁকা ভোট কেন্দ্রে জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা অনেক আগ থেকেই বলে দাবি করা হয়েছে।

ইশতেহারে ইউপিডিএফ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হলে ১৪টি দফা প্রাধান্য দিয়ে জনস্বার্থে নিবেদিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

১। ভূমি অধিকার: পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রথাগত ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভূমি দস্যুদের আগ্রাসন রোধ, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকুরিরত সরকারি কর্মকর্তাদের পাহাড় বন্দোবস্তি প্রদান বন্ধ করা, বিভিন্ন কোম্পানির নিকট হাজার হাজার লিজ দেয়ার নামে পাহাড়িদের উচ্ছেদ বন্ধ করা।

২। বন্দী মুক্তি, ধরপাকড় বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা: সংবিধান স্বীকৃত স্বাধীন মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকার সমুন্নত রাখা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় আটক ইউপিডিএফসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তিদান, অন্যায় ধরপাকড় বন্ধ, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

৩। সর্ব প্রকার নারী নির্যাতন রোধ: সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী নির্যাতনকারী ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি বিধান করা।

৪। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ ও পর্যটন ব্যবসা: ভূমিধস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন রোধ, পর্যটনের নামে পরিবেশ ক্ষতিসাধন অনুমোদন না দেয়া।

৫। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়: কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে দালাল-ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, উন্নত ফসলের বীজ ও জৈবসার সহজলভ্য করা, হিমাগার প্রতিষ্ঠা, কাপ্তাই হ্রদের পানি চাষাবাদ ও ফসল উত্তোলনের মৌসুমে নির্দিষ্ট  স্তরে রাখা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার জল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া, স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ লাভে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের সহায়তাদান। শ্রমজীবী জনসাধারণের ন্যায্য মজুরি আদায় ও বৈষম্যের শিকার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে সহায়তা প্রদান। শিল্পাঞ্চলে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ’ও ‘ইন্ডাস্ট্রিক গোয়েন্দা’ ব্যবস্থা তুলে দিতে ভূমিকা রাখা।

৬। শিক্ষা ও চাকুরি সংক্রান্ত: প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রাখা, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, পাঠ্য পুস্তকে পাহাড়িদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য বাদ দেয়া, ছাত্রদের স্বার্থ সংরক্ষণার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, শিক্ষক সংকট নিরসন, বর্ধিত ফি রোধ, তিন পার্বত্য জেলা  সদরে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের স্কুল ছাত্রাবাস পুনরায় চালুকরণ, কলেজ ছাত্রাবাস, খাগড়াছড়ি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে বিষয় সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ ও ভূমিকা রাখা। ১ম ও ২য় শ্রেণীসহ সকল সরকারি-আধা সরকারি ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পাহাড় ও সমতলের জাতিসত্তাসমূহের জন্য পূর্বতন ৫% কোটা সুবিধা বহাল রাখতে ভূমিকা রাখা। বিশেষ বিশেষ সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান ও ক্ষুদ্র শিল্পের সম্প্রসারণ।

৭। প্রত্যাগত ও আভ্যন্তরীণ শরণার্থী: চুক্তি মোতাবেক অনতিবিলম্বে প্রত্যাগত শরণার্থীদের বাস্তুভিটা ও জমি ফিরিয়ে দেয়াসহ তাদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা, আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের জায়গা-জমি ফেরত প্রদানের ব্যাপারে ভূমিকা রাখা।

৮। সামাজিক সুরক্ষা: অসহায় বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা, প্রতিবন্ধীদের জীবন ধারণে সহায়তার জন্য সচেষ্ট হওয়া।

৯। স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি কালো বাজারে হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি বন্ধে ভূমিকা রাখা। শুটকী ও খাদ্য সংরক্ষণে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে ভূমিকা রাখা, সর্বোপরি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা।

১০। অপসংস্কৃতি রোধ, বিচ্যুত যুবকদের পুনর্বাসন: জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা, সমাজবিরোধীদের খপ্পড়ে পড়ে সমাজে উৎপাত সৃষ্টিকারী বখাটে যুবকদের সংশোধনের লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

১১। খনিজ সম্পদ ও স্থল বন্দর: পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজ সম্পদে জনগণের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, সেমুতাং গ্যাসের ওপর স্থানীয় জনসাধারণের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা। রামগড় ও ঠেগা অঞ্চলে স্থল বন্দর নির্মাণে জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া লোকজনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ লাভে সহায়তা করা।

১২। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহৎ সামাজিক উৎসব ছুটি: বৈসাবি (বৈসুক-বিঝু-সাংগ্রাই) উপলক্ষে নববর্ষসহ তিন দিন সরকারি ছুটি আদায়।

১৩। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহকে সরকারি দলিল ও মিডিয়ায় অসম্মানজনক “উপজাতি” নামে আখ্যায়িত না করতে আহ্বান জানানো।

১৪। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইনী জটিলতা ও সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মোট ভোটারদের এক শতাংশ সমর্থনের স্বাক্ষর সংগ্রহের অযৌক্তিক বিধি তুলে দিয়ে নির্বাচনে “না ভোট” রাখার বিধান পুনরায় চালু করে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।

ইশতেহারে আগামী ৩০ ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিংহ মার্কায় ভোট দিয়ে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুতন কুমার চাকমাকে বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 13 =

আরও পড়ুন