ঈদের আগে পাহাড় উত্তাল, লংগদুতে পড়লো লাশ

fec-image

আর মাত্র কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু এর মধ্যে বুধবার দিনগত রাতে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় জেএসএস সংস্কার গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য স্নেহাশীষ চাকমাকে (৪০) গুলি করে হত্যা করে। আর এ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে আবারো উত্তেজনা বেড়েছে। এ যেন লাশ ফেলার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে পাহাড়ের সশস্ত্র আঞ্চলিক দলগুলো।

তবে পাহাড়ে লাশ ফেলার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদাবাজি, আধিপত্য এবং নিজদের শক্তিমত্তা জানান দিতে দিনের পর দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

গত বুধবার দিনগত রাতে এরকইম একটি ঘটনা ঘটেছে লংগদু উপজেলার ইয়ারাংছড়ি উত্তর র‌্যাংকাইজ্যা নামক এলাকায়। ওইদিন রাতে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের (সংস্কার) সশস্ত্র সক্রিয় কর্মী স্নেহাশীষ চাকমা ওরফে ভবতাং চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে তাদের প্রতিপক্ষ সন্তু গ্রুপের পিসি জেএসএস’র সশস্ত্র গ্রুপের ক্যাডাররা।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ, স্থানীয় এবং সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, স্নেহাশিষ কিছুদিন আগেও সন্তু গ্রুপের পিসি জেএসএস’র সশস্ত্র গ্রুপের ক্যাডার ছিলেন। তিনি ওই এলাকায় সন্তু গ্রুপের হয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করতো। পরবর্তীতে হঠাৎ সন্তু গ্রুপ ছেড়ে জেএসএস সংস্কার গ্রুপে যোগ দেওয়ায় এবার তাকে লাশ হতে হলো।

সূত্রে জানা যায়, স্নেহাশিষ সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করে খাগড়াছড়িস্থ দীঘিনালা উপজেলা থেকে লংগদু উপজেলায় যাচ্ছিলেন। লংগদুর ইয়ারাংছড়ি উত্তর র‌্যাংকাইজ্যা নামক স্থানে পৌছলে ওই এলাকায় তার প্রতিপক্ষরা আগে ওঁত পেতে ছিলো। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আর এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কার সন্তু গ্রুপের জেএসএসকে দায়ী করেছে।

জেএসএস সংস্কার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু গ্রুপকে সরাসরি দায়ী করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মী স্নেহাশিষ দীঘিনালা উপজেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে করে লংগদুতে ফিরার পথে লংগদু ইয়ারাংছড়ি উত্তর র‌্যাংকাইজ্যা নামক স্থানে পৌঁছলে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। জেএসএস সন্তু গ্রুপ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জন কুমার সামন্ত জানান, মরদেহটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করার জন্য বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহটি তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, জেএসএস মূল গ্রুপের অন্যতম সামরিক কমান্ডার, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপর হামলার নেতৃত্বদানকারী ও সার্জেন্ট মুকুল চাকমা হত্যাকারী আবিস্কার চাকমা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সীমান্তবর্তী  সিজক এলাকার আরো গভীরে জেএসএস মূল গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তিনি নিহত হয়েছেন। তার লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে। সূত্র খবরটি নিশ্চিত করলেও জেএসএসের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

ঘটনাপ্রবাহ: খুন, হত্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =

আরও পড়ুন