কক্সবাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাই চক্রের টমটমপার্টি

fec-image

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পর্যটন শহর কক্সবাজার, হোটেল-মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকতে অন্তত শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী ও ছিনতাই চক্রের টমটমপার্টি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়ে শহরজুড়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারা। এদের মধ্যে সরাসরি ক্ষমতাসীনদলের নেতাদের ইন্ধনে, নিজস্ব পুলিশের সোর্স ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় এধরনের জগন্যতম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি শহর ও বিভিন্ন স্থান থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ একাধিক ছিনতাইকারীকে আটকও করেছে। তারপরেও তাদের তৎপরতা রয়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে এধরনের অসাধু কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যানজটের শহরে টমটম নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে দাড়িয়ে ছিনতাই করছে। এতে করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও বুঝে উঠতে পারেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে মাঠে অভিনব পন্থায় টমটম ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার শহর কেন্দ্রীক ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের সঙ্গে জেলা ও শহর ক্ষমতাসীনদলের কিছু নেতার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের ওইসব নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় অনেক চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করতে পারে না পুলিশ। আবার কোন চোর-ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে ধরা পড়লেই সে হয়ে যায় আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোন সংগঠনের নেতা বা কর্মী। নেতারা প্রভাব বিস্তার করে চোর-ছিনতাইকারীদের ছাড়িয়ে নেয়।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, বাসটার্মিনাল এলাকা, বাদশাঘোনা, হালিমা পাড়া, সমিতি পাড়া, সার্কিট হাউস এলাকা, হোটেল মোটেল জোন, লাইটহাউস পাড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, পাহাড়তলী, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, পেশকারপাড়া ও কলাতলী আদর্শ গ্রাম কেন্দ্রীক বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র বিভিন্ন আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে শতাধিক ছিনতাইকারী দলে দলে বিভক্ত হয়ে সমুদ্র সৈকতসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার নির্জন স্থানে ছিনতাই করে থাকে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে এরা তৎপর থাকে সবচেয়ে বেশি। আবার পর্যটন মৌসুমে এরা শহরের সমুদ্র সৈকত, ডায়াবেটিকস পয়েন্ট ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ওৎপেতে থাকে। অন্য সময় এরা বৃহত্তর পাহাড়তলী, হোটেল মোটেল জোন, রুমালিয়ারছড়া ও ঘোনারপাড়ায় পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে থাকে। কেউ বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসব ছিনতাইকারীর হাতে এমন কোন দিন নেই যেদিন ছিনতাই কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সরকারি দলের কিছু নেতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশ এসব ছিনতাইকারীকে আটক করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

কক্সবাজার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পেশাদার চোর ছিনতাইকারী ধরলেও সে হয়ে যায় আওয়ামীলী গের কর্মী! তাদের ছাড়িয়ে নিতে নেতারা তদবির করে। নেতাদের তদবিরের কারণে ধৃত অধিকাংশ অপরাধীকে কোর্টে পাঠানো সম্ভব হয় না। এমনও ঘটনা ঘটে, ছিনতাইকারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসার আগেই নেতারা থানায় এসে তদবির শুরু করে।

সূত্র আরও জানায়, মূলত মদ, গাজা ও ইয়াবার টাকা যোগাতেই উঠতি বয়সের কিছু ছেলে ছিনতাই করে থাকে। ছিনতাইকারী দলে রয়েছে ১৬ বছরের কিশোর থেকে ৩০ বছরের যুবকও। শহরের দুর্গম এলাকায় এদের বসবাস হলেও মূল আস্তানা হোটেল-মোটেল জোনের কটেজগুলো। ছিনতাই কর্ম সেরে এসব কটেজে জড়ো হয় তারা। শহরজুড়ে বর্তমানে ছিনতাইকারীরা টমটম ও গ্রুপ ভিত্তিক যাত্রীদের জিম্মী করে অস্ত্রের ভয়ে টাকা পয়সাসহ সবকিছু হাতিয়ে নিচ্ছে। সেখানে বাধা দিলে দ্রুত ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় শহরবাসী ও পর্যটকরা এক ধরনের ছিনতাইকারীদের কাছে জীম্মি হয়ে পড়েছে। অচিরেই এ অবস্থা উত্তরন না হলে পর্যটন ব্যবসা ও মানুষের জানমাল নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ২১ জুলাই রবিবার একাই দুই ছিনতাইকারী ধরে পুলিশে তুলে দিলেন কক্সবাজারের এক সাংবাদিক। এতে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন এক পথচারী।  সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার শহরের পৌরসভার সংলগ্ন কস্তুরী হোটেলের পাশে। সাহসী ওই সাংবাদিকের নাম ওমর ফারুক হিরু। তিনি জিটিভি’র কক্সবাজার প্রতিনিধি এবং দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার। সাংবাদিকের এই সাহসী ভূমিকায় প্রশংসা করেছেন পুলিশ ও সচেতন মহল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজারে, ছিনতাই চক্রের, টমটমপার্টি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × one =

আরও পড়ুন