কুতুবদিয়ায় শীত মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদনের হিড়িক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

মৎস্য আর লবণ উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দ্বীপ কুতুবদিয়ায় শীত এলেই শুটকি উৎপাদনে হিড়িক পড়ে। কাঁচা মাছের চেয়ে শুটকি অনেকটা মজাদার হওয়ায় দামও থাকে বেশি। বিশেষ করে উৎপাদিত শুটকি বিদেশেও চাহিদা থাকায় রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

যে কারণে প্রতি বছর নির্দিষ্ট স্থানে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টি শুটকি মহাল গড়ে ওঠে। বড়ঘোপ সমুদ্রচর, সন্দীপি পাড়া, তাবালের চর, বড়ঘোপ স্টিমারঘাট, উত্তর ধুরুং, কৈয়ারবিল,আলী ফকির ডেইল প্রভৃতি স্থানে বড় শুটকিমহাল ছাড়াও  অনেক জেলে পরিবারে নিজ আঙ্গিনাতেও লবণ, বিষ ছাড়া শুটকি উৎপাদন করে বাজারজাত করছে।

উৎপাদিত শুটকির মধ্যে লইট্টা, ছুরি, ফাইস্যা, চিংড়ি, মাইট্টা, ল্উাখ্যা, টেংরা, সুন্দরা সহ নানা প্রজাতির মাছ অন্যতম। বৃষ্টি না থাকায় শীত মৌসুমে মাছ শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন সরবরাহ চলছে সাধারণত: চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর। সেখান থেকে সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তানসহ আরো কয়েকটি দেশে  রপ্তানি করা হয়। শীত মৌসুমে উৎপাদিত শুটকি তুলনামূলক দাম কম থাকায় আগত পর্যটকেরা সাধ্যমত কিনে বাড়ি ফিরছে। বড়ঘোপ বাজারের শুটকি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, শুটকি মহাল মালিক শফিউল আলম, ধুরুং বাজারের শুটকি ব্যবসায়ী বদিউল আলম, শাহ আলম জানান, নতুন ছুরি শুটকি কেজি ৮০০-১০০০ টাকা, লইট্টা ৪০০-৫০০ টাকা, মাইট্টা (সুরমা) ১৫০০-১৮০০ টাকা, চাকা চিংড়ি ১২০০-১৫০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৩০০-৪০০ টাকা, ফাইস্যা ৪০০-৫০০ টাকা রইস্যা ৪০০-৬০০, হুন্দরা ৮০০-১২০০ টাকা কেনা-বেঁচা হচ্ছে।

বিশিষ্ট শুঁটকি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বহদ্দার বলেন, এবার তুলনামূলক সাগরে মাছ কম মেলায় শুটকি উৎপাদনে কাচা মাছের ঘাটতি রয়েছে। গতবছরের একই দাম এবারও বাজারে। স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ীরা মহাল থেকে পাইকারী ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন। বিষ, লবণ বিহীন শুটকি হওয়ায় বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শুটকি মহালগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে উৎপাদন খরচ কম হবে। ফলে আরো বেশি শুটকি উৎপাদনে আগ্রহী হবে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। আয় হবে কোটি কোটি টাকা। সেই সাথে সরকারও রাজস্ব পাবে বিপুল পরিমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =

আরও পড়ুন