ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গমন নিশ্চিত করতে হবে- সুলতানা কামাল

স্টাফ রিপোর্টার:

ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গমন নিশ্চিত করতে হবে। এখন নির্বাচন জনগণের কথা ভেবে হয় না। নির্বাচন হয় শুধু ক্ষমতায় যাবার জন্য।

বুধবার(১২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে “ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলার আদিবাসী ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণ” বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট(এএলআরডি) এর যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা ও ব্যরিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন গৌতম দেওয়ান, অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী। এএলআরডির পক্ষ থেকে ছিলেন শামসুল হুদা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন পার্বত্য নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ান। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটারদের অধিকার নিশ্চিতকরণে কোনো লিখিত আবেদন করিনি, তবে মাঠে কোথায় ভোটারদের ভয় ও শঙ্কা রয়েছে তা আরও জরিপ করে তারপর আমরা লিখিতভাবে আবেদন করব।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা হুমকি দিচ্ছেন “ অমুক মার্কায় ভোট দিলে হামলা করা হবে” তাদের কেন ধরা হচ্ছে না?

ভোট কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকরা মোবাইল নিতে পারবে না, কোনো প্রকার ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে না। তারা যদি মোবাইল নিতে না পারে, ক্যামেরা ব্যবহার না করা যায়, তাহলে প্রমাণ কোথা থেকে সংগ্রহ করবে? পর্যবেক্ষকরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা কীভাবে নিবে? তা না হলে তো পর্যবেক্ষক থাকার কোনো মানেই হয় না।

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ স্বাধীন নয় অভিযোগ করে তিন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। পার্বত্য অঞ্চলের ভোটারদের র্নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পারবে কি না আমরা তাঁর নিশ্চয়তা চাই।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদ এখনো বহাল আছে, মন্ত্রীরা এখনো তাঁদের পদে থেকে সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। এটা একদম অনৈতিক ব্যবহার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একজন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তিনি কীভাবে নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকেন?

মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির বলেন, সবাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এতে আমরা আনন্দিত। নির্বাচন কমিশনের উচিত তারা যেন শুধু সরকারের পক্ষ না নিয়ে সবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলকে সমান ভাবে দেখে।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণেরও একটি দায়িত্ব আছে। জনগণের নিজেদেরও উচিত চারদিকে নজরদারী রাখা। জনগণকে বলব, আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ভোট কেন্দ্রে যদি জনগণের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি থাকে তাহলে ভোট জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।

অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, এটা কোনো উৎসবমূখর নির্বাচন নয়। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিভিন্ন স্থানে ঘটতে থাকা সংঘাতই এর প্রমাণ। একদিকে এক দল মামলায় হয়রানি হচ্ছে। নির্বাচনের আগেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মামলা চলমান রয়েছে। অন্য দল নির্বাচনি প্রচারণায় মাঠে নেমেছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে যেখানে সন্দিহান সেখানে পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দুঃখজনক।

এসময় পার্বত্য অঞ্চলের এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটাররা নির্বিঘ্নে যেন ভোট দিতে আসতে পারে তার নিশ্চয়তায় নির্বাচন কমিশনের প্রতি পদক্ষেপ নিতে তিনি আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 7 =

আরও পড়ুন