খাগড়াছড়িতে পরকীয়ায় বলি গৃহবধু শিরিনা হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়িতে মাদকাসক্ত বখাটে স্বামী মো. নিজাম উদ্দিনের পরকীয়ায় বলি আলোচিত গৃহবধু শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার খাগড়াছড়ি শহরের শাল বাগানে হত্যাকাণ্ড ঘটে।

হত্যাকারী প্রভাবশালী হওয়ায় বাদীর পরিবার কাটাচ্ছে আতংকে। মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়েও শংকিত শিরিনা আক্তার শিরিনের পরিবার। ঘটনার চার মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো ময়না তদন্তে রিপোর্ট জমা হয়নি। সে সাথে আদালতে দাখিল হয়নি অভিযোগপত্র। হত্যাকারী নানা কৌশলের জামিনের বের হওয়ার চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় গৃহবধু শিরিনা আক্তার শিরিন খুন হয়। শিরিনের পিতা মো. তাজুল ইসলামের অভিযোগ, মাদকাসক্ত স্বামী পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর এক বছরের শিশু কন্যাকে শশুর বাড়ীতে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘাতক স্বামী নিজাম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে পরিবারের সদস্যরা।

৪ অক্টোবর শিরিনা আক্তার শিরিন পিতা মো: তাজুল ইসলাম খাগড়াছড়ি সদর থানায় (মামলা নং ০৩, তারিখ-০৪-১০-২০১৮ ইং ধারা ৩০২ দ:বি) দায়ের করে। শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যার বিচার দাবীতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়।

জানা গেছে, এ হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই লিটন চাকমা। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন,এসআই মো: ইকবাল হোসেন ভূইয়া। মালার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা লিটন চাকমা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার দাখিলকৃত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, আসামী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

ঘটনার পর খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ নিজাম উদ্দিনকে আটক করা। প্রাথমিক আলামতে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি শহরের ঠিকাদার তাজুল ইসলামের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শিরিনা আক্তার শিরিন সবার ছোট হওয়ায় পরিবারে সবার আদরের সে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শিরিনা আক্তারকে আবু ড্রাইভারের বখাটে ছেলে নিজাম উদ্দিন অপহরণ করে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করে। এ নিয়ে থানায় সাধারন ডায়েরীও হয়। পরবর্তিতে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি তাজুল ইসলাম মেনে নেয়।

ঠিকাদার তাজুল ইসলাম জানান, মেয়ের সুখের কথা ভেবে শহরের শাল বাগান এলাকায় মেয়ের স্বামী নিজাম উদ্দিনকে ১০ শতক জমি কিনে সেখানে বাড়ী করে দেয়। পরবর্তিতে গাড়ীও কিনে দেওয়া হয়।

শিরিনা আক্তারের মা মোর্শেদা বেগম মেয়ে হত্যার বিচার দাবী করে বলেন, মাদকাসক্ত নিজাম উদ্দিন, পরকীয়া প্রেমেও আসক্ত ছিল। এ নিয়ে প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। ঐ মধ্যরাতেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর ঐদিন রাত দেড় টার দিকে নিজাম উদ্দিন এক বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে এসে বলে, তার স্ত্রী অসুস্থ।

ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় নিজাম উদ্দিনকে পরিবারের সদস্যরা আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে বাসায় গিয়ে দেখে শিরিনা আক্তরের লাশ খাটের উপর পড়ে আছে।

মামলার বাদী মো: তাজুল ইসলামের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের দীর্ঘ চার মাস সময় পার হলেও পুলিশ এখনো আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেনি। তার মেয়ের হত্যাকারী প্রভাবশালী। সে এখন মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি জামিনের জন্য চেষ্টা-তদবির করছে। জামিনে বের হলে মামলার সুষ্ঠু বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোটেক জসিম উদ্দিন জানান, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল না করায় বিচার কাজ বিলম্ব হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন ভূইয়া জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে দেরী হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা বলেন, শিরিনা আক্তার শিরিনের মৃত্যুর ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে। এলাকাবাসী গৃহবধু শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবী করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − six =

আরও পড়ুন