চকরিয়ায় এক কিশোরের উপর অমানুষিক নির্যাতন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোবাইল চুরির অপবাদে মো. হাসান (১৪) নামে এক কিশোরের উপর দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরের উপর নির্যাতনের চিত্রটি নির্যাতনকারীরা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা সর্বত্রই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

নির্যাতনের শিকার মো. হাসান চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত জাকের আহমদের ছেলে। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার(৩ জুলাই) সকালে চকরিয়া পৌর শহরের হক মার্কেট কাঁচা বাজার ও তরছঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার মো. হাসানের বড় ভাই আনছারুল করিম বলেন, তার ছোট ভাই মো. হাসান চকরিয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গা হক মার্কেটস্থ কাঁচা বাজারের একটি মুরগীর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার সকালেও সে বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল মুরগীর দোকানে চলে যায়। দোকানে কাজ করার সময় সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে চকরিয়া পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা এলাকার জনু সওদাগরের পুত্র মিনহাজ উদ্দিন, একই এলাকার রশিদ আহামদের পুত্র আজিম ও তারবন্ধু ওসমান গণির নেতৃত্বে ৫-৬ জন বখাটে যুবক আমার ভাই হাসানের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

আনছারুল করিম আরও বলেন, একপর্যায়ে বখাটেরা হাসানকে নির্যাতন চালিয়ে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের তরছঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গাছের সাথে বেঁধে আবারও অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষ অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে সর্বত্রে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সামাজিক মাধ্যমে এসব বখাটেদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনারও দাবি জানায়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চুরির অপবাদে কিশোরের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ: চকরিয়া, নির্যাতন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 1 =

আরও পড়ুন