চকরিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের  চকরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিন । ফলে উপজেলার সাড়ে ৫ লাখ জনসাধারণের সরকারিভাবে চিকিৎসা সেবা পাবার একমাত্র ভরসাস্থলটি দিনদিন আস্থার সংকটে পতিত হচ্ছে।

একদিকে যেমন প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা  চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে বেসরকারি  ক্লিনিকের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন । অন্যদিকে  প্রতিদিন হাসপাতালে  ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এবং চিকিৎসা সেবা নিতে আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ডাক্তারসহ জনবল সংকটের বিষয়টি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত  উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও আলোচ্য বিষয় হিসেবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করে। সভায় জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে ডাক্তারসহ অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ৫০শয্যা বিশিষ্ট চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন বিভাগে মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে ১৫৭টি। তার বিপরীতে জনবল  রয়েছেন মাত্র ১০৬জন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৩৯টি চিকিৎসক পদের স্থলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচ) ও আরএমও সহ চিকিৎসক রয়েছেন ১১জন। এছাড়া ২৫জন মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিন জন। এনেস্তেসিয়া, অর্থোপেটিক, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও আয়ুবের্দিক মেডিকেল অফিসারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও ২০১৫ সাল থেকে ডাক্তার নেই । ২০০৭ সাল থেকেই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এক্সরে মেশিনটি। নাই টেকনেশিয়ানও। এছাড়া হাসপাতালে ২৪জন নার্স পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১১জন। তিনজন সুইপার পদের স্থলে একজন, তিনজন নাইট গার্ডের স্থলে  একজন এবং দুইজন আয়া পদের স্থলে রয়েছেন একজন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধানে থাকা উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণগুলোতেও মেডিকেল অফিসারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শোভন দত্ত  বলেন, হাসপাতালে দৈনিক ৩৫০/৪০০জন রোগী  চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুনের চাইতেও বেশি। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডেই রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি হাসপাতালে নার্স সংকটও প্রকট। ফলে সবকিছু সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহবাজ বলেন, হাসপাতালের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। তারমধ্যে বেশি সংকট রয়েছে মেডিকেল অফিসারের পদ গুলোর  ক্ষেত্রে। ফলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য জনবল সংকটের বিষয়টি দফায় দফায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে  হাসপাতালে ডাক্তারের শুন্যতা পূরণে সহায়তা চেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তার দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − six =

আরও পড়ুন