চকরিয়ায় ৩ সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইয়াছমিন আক্তার (২৮) নামের তিন সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে শনিবার (২৯জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত ইয়াছমিন আক্তার ওই এলাকার কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী মো: শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী। পূর্ব বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এটি কি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে পুলিশ ও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইয়াছমিন আক্তারের স্বামী মো: শাহাব উদ্দিন একজন ক্ষুদ্র কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী। উপজেলার রামপুর স্টেশনে ব্যবসা করে কোন রকম সে সংসার চালাতো। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে উঠেও সে তার ব্যবসা প্রতিষ্টানে চলে যাই। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পরে নিহতের স্বামী বাড়ির জন্য মাছ ও তরকারী কিনে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার স্ত্রী ইয়াছমিনকে বাজার নেয়ার জন্য কয়েকবার ডাকাডাকি করলে স্ত্রীর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বাড়িতে খোঁজ নেয়।

এ সময় পর্দার আড়ালে তার ছোটভাই ছোটনের রুমের দরজার সামনে গেলে তার স্ত্রীকে মাটিতে পড়াবস্থায় দেখতে পেয়ে সে জোরে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষনিক পূর্ব বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল ও স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত থানা পুলিশকে খবর দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আতিক উল্লাহর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশসহ নিহত লাশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এস আই) অরুণ কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলের দিকে তার শিশু সন্তানরা তাদের মাকে (ইয়াছমিন আক্তার) দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকলে পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী ওই শিশুদের তাদের দাদার বাড়িতে খেলতে পাঠিয়ে দেয়। এ সময় নিহতের বড় ছেলে পাশ্ববর্তী হেফজখানায় ছিল। তার স্বামী ব্যবসায়ী কাজে ঘরের বাহিরে ছিল। তবে কি কারণে গৃহবধু ইয়াছমিন মারা গেছে তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে নিহত গৃহবধু ইয়াছমিন আক্তারের পরিবারের দাবী তাদের মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগের তীর নিহতের দেবর ছোটনের দিকে। সে প্রায় সময় তার ভাবি ইয়াছমিনকে নানা বিষয় নিয়ে মারধর করে নির্যাতন করতো বলে দাবী করেছেন। এটি কি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে পুলিশ ও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্ত রির্পোট পেলেই ঘটনার মূল উদঘাটন বের হয়ে যাবে বলে পুলিশ জানান।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ নোয়াপাড়া এলাকায় তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধুর লাশ বাড়ির মধ্যে পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ফোন করে আমাকে জানায়। ঘটনার ব্যাপারটি জানতে পেরে আমি তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছেন।

মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এস আই) অরুণ কান্তি চাকমা কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিহত ইয়াছমিন আক্তারের শরীরে কোন ধরনের বড় আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়াছমিনের দেবর শাহ আলমকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহত গৃহবধুর মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তার এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, পূর্ব বড় ভেওলা নোয়াপাড়া এলাকায় এক গৃহবধুর লাশের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এস আই অরুণ কান্তি চাকমা নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করার পর লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তার মূত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =

আরও পড়ুন