টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও গোলাগুলিতে ডাকাত-ইয়াবা কারবারিসহ নিহত-৪

fec-image

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও গোলাগুলিতে তিন ডাকাত ও এক ইয়াবা কারবারিসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতের পৃথক সময়ে এ বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ৭টি অস্ত্র, ৫টি কিরিচ, ২৫ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। আটক হয়েছেন আরো দুই ইয়াবা কারবারি। এমনটি জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

বন্দুকযুদ্ধের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান, পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, এএসআই সজিব ও কনস্টেবল মেহেদী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলেন, টেকনাফ সদরের কায়ুকখালীপাড়ার আবদুল গফুরের ছেলে ইয়াবা কারবারি মেহেদী হাসান, চিহ্নিত ডাকাত কুতুবদিয়ার লেমশিখালীর নুরুচ্ছফার ছেলে মো. আয়ুব ও একই উপজেলার ধুরুংখালীর শাহাজাহান বাদশার ছেলে জুনায়েদ।

গোলাগুলিতে নিহত ইমরান মোললা (২৭) মাদারিপুরের কালকিনি থানার গাংগিঅরকুলের মৃত জহিরুল মোললার ছেলে।

এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পশ্চিম এনায়েতপুরের মোখলেসুর রহমানের ছেলে সাইফুদ্দিন শাহিন (৩৮) ও টেকনাফের হাতিয়াঘোনার মৃত বাঁচামিয়ার ছেলে মো. সিদ্দিক (২৭)।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শনিবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে তিনটার দিকে টেকনাফ থানাধীন নুরউললা ঘোনা নামক পাহাড়ে একাধিক মামলার পলাতক আসামি আবদুল হাকিম ডাকাত ১০/১৫ জন ডাকাতকে নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

অফিসার ফোর্সসহ উক্ত স্থানে পৌঁছিলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। পরিস্থিতি গুরুতর বিবেচনা করে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ানে নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স প্রেরণ করে। এতে উভয়ের মাঝে গোলাগুলি চলতে থাকে।

একপর্যায়ে ডাকাতের গুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান, পুলিশ পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, এএসআই সজিব ও কনস্টেবল মেহেদী গুলিবিদ্ধ হন। এরপরও রক্তাক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান, পুলিশ পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, এএসআই সজিব অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ জুনায়েদ ডাকাত, আয়ুব ডাকাতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন ।

অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা কারবারি মেহেদী হাসান ও মোস্তাক ডাকাতদের অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন। ঘটনাস্থল হতে ৭টি অস্ত্র, ৫টি কিরিচ, ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গুরুতর আহত ডাকাত জুনায়েদ, আয়ুব ও মেহেদী হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, একই রাত দেড়টার দিকে এস আই মসিউর রহমান ফোর্সসহ মেরিন ড্রাইভ রোডের দরগার পাড়া নামক স্হানে ডিউটি কালীন একটি সিএনজিকে রাস্তার পাশে সন্দেহজনক ভাবে দাঁড়ানো দেখে উক্ত স্থানে পৌঁছে। এসময় এক ব্যক্তিকে গুলি করে ২জন লোক পালানোর সময় অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুলিবিদ্ধের নাম ইমরান, আর বাকি দুজন সাইফুদ্দিন শাহিন ও মোঃ সিদ্দিক বলে জানায়। তারা জনৈক খলিলের কাছ থেকে ইয়াবা কিনে তা ইমরান মোললাকে খাইয়েছে উল্লেখ করে জানায়, ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সাইফুদ্দীন শাহীন ও মোঃ সিদ্দিকরা তাদের পার্টনার ইমরানকে গুলি করেছে।

গুলিবিদ্ধ ইমরান মোল্লাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পৃথক ঘটনার বিষয়ে অস্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + 14 =

আরও পড়ুন