ডেমুশিয়ায় সন্ত্রাসীদের অত্যচারে অতিষ্ঠ মানুষ

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার উপকূলীয় ডেমুশিয়া ইউনিয়নে এক সন্ত্রাসী বাহিনী ও জবর দখলকারীর অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ডেমুশিয়া এলাকার সাধারণ লোকজন। ওইসব সন্ত্রাসীরা পুরো ডেমুশিয়া এলাকায় মৎস্য ঘের ও চাষাবাদের জমি জবর-দখল করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এক ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে থানায় পাঁচ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসামী আজিম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে এক ডজনের অধিক বিভিন্ন অপরাধে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উপকূলীয় ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা এলাকার আলহাজ মুমিনুল হক সিকদারের ছেলে মো.শোয়াইব বাদল তাদের ক্রয়কৃত তিন একর তিরাশি শতক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে মিঠা পানিতে মৎস্য ঘের ও চাষাবাদ করে আসছে। ওই মৎস্য ঘের ও চাষাবাদ জায়গায় ডেমুশিয়া গান্ধির পাড়া এলাকার মৃত করিম দাদ মেম্বারের ছেলে নুরুল আজিম, রহিম উল্লাহর ছেলে আতিক, তেচ্ছাপাড়া এলাকার আবদুর রসিদের ছেলে জামাল হোছেন, তার ভাই মো. হোছন ও গান্ধির পাড়া এলাকার মৃত হামিদ বকসু ছেলে ছিদ্দিক আহামদ নেতৃত্বে একদল ভাড়াঠিয়া অবৈধ সন্ত্রাসী দিয়ে মৎস্য চাষের খাল জবর-দখলের চেষ্টা চালায়। এনিয়ে ঘের চাষী ও তার অপারাপর অংশিদার জবর-দখলকারী ও সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৎস্য ঘের চাষী মো. শোয়াইব বাদল বাদী হয়ে থানায় পাঁচ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগটি বর্তমানে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এস.আই) মো. ঈসমাইলের হাতে তদন্তধীন রয়েছে।

মৎস্য ঘের চাষি মো. শোয়াইব বাদল অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত আসামীরা এলাকার চিহ্নিত জবর-দখলকারী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাদের অপরাধ কর্মকান্ড ও অত্যচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত আসামী আজিম, তার ভাই দিল মোহাম্মদ, হুমায়ুন, ইসমাঈল, নুরুল ইসলাম, নুরুল কাদের, নুরুল আমিন ও তার ছেলে ডালিম, আতিকের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মারামারি, জবর-দখল নিয়ে থানা ও আদালতে ডজন খানেক মামলা রয়েছে। ওইসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তারা বেপরোয়া ভাবে এলাকায় চলাফেরা করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আজিমের ভাতিজা ডালিম মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পুরো এলাকায় মাদকের আখড়া পরিণত করেছে। পুলিশ তাদেরকে খুঁজতে ও গ্রেপ্তার করতে এলাকায় অভিযানে যাওয়ার সাথে সাথে তারা গা ডাকা দেয়। এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গত ১৭ জানুয়ারী ২০০৮ সালে পরিষদের মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভায় এলাকার জবর-দখলখালী ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে রেজুলেশন আকারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দীর্ঘ একযুগের সময় ধরে ডেমুশিয়া এলাকার নিরীহ লোকজন তাদের নানা অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপার চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান জানান, ডেমুশিয়া এলাকায় মৎস্য ঘের চাষাবাদে জবর-দখলে চেষ্টার বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে পরবর্তীতে আইনগত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, চকরিয়া, ডেমুশিয়া ইউনিয়ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =

আরও পড়ুন