adv 728

দুই আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনলেন সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রী

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে লড়তে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এর মধ্যে কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া ও কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের জন্য এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে চকরিয়া-পেকুয়া আসনেও তার স্ত্রী সাবেক এমপি এডভোকেট হাসিনা আহমেদও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

মঙ্গলবার(১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। ফরম নেওয়ার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপি নেতারা।

দলীয় সূত্র জানা গেছে, ১২ নভেম্বর থেকে বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরু করলেও এ পর্যন্ত এই আসনে আর কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি। এই আসনে লড়তে কারা কারা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তা দেখতে বিক্রির শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান বিএনপি নেতারা।

এদিকে জেলার সবচেয়ে আলোচিত চকরিয়া-পেকুয়া আসনটিতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ আদৗ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি এখনো পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে অবস্থান করছেন। আইনী জটিলতা শেষে তিনি কবে দেশে ফিরবেন সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপি কর্মীরা জানান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। শিলংয়ের একটি আদালতে দীর্ঘদিন আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই মামলা থেকে খালাস পান তিনি। নিবার্চন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিলের মধ্যে আসতে না পারলে তার প্রার্থী হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে তার স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানান নেতাকর্মীরা।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে ঢাকা উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। নিখোঁজের দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে হদিস মেলে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি আদালতে মামলা দায়ের করে শিলং পুলিশ। ফরেনার্স অ্যাক্টের এ মামলার তদন্ত শেষে মেঘালয় পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালত সালাহউদ্দিনের বিচার শুরু করে। দীর্ঘ তিনবছর আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পান। তবে আইনী জটিলতার কারণে বর্তমানে শিলং অবস্থান করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে (এপিএস) দায়িত্ব পালন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পরবর্তী ওয়ান ইলেভেনের সময় দূর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হন এই বিএনপি নেতা। ওইসময় দূর্নীতির মামলায় তার সাঁজাও হয়। তিনি জেলে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 2 =

আরও পড়ুন