নাইক্ষ্যংছড়িতে গুম হওয়া গৃহবধু আমেনার হদিস মেলেনি ৩ বছর

fec-image

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলীর জামছড়ি গ্রাম থেকে ৩ বছর আগে গুম হওয়া আমেনার আজো হদিস মেলেনি। আরিফ উল্লাহ নামের পাষন্ড স্বামী পিতা-মাতার ফুসলানিতে আমেনাকে গুম করে বলে অভিযোগ করেন আমেনার পিতা আমির হোসেনের। শুক্রবার বিকাল ৫ টায় এ প্রতিবেদকের কাছে এ সব তুলে ধরেন তিনি।

আমির হোসেন বলেন, সে একজন নিরক্ষর। তার মেয়ে আমেনা খাতুনের সাথে বিগত ২০১৬ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে আরিফুল্লাহর সাথে। ২৮/৩০ বছরের যুবক আরিফুল্লাহ রূপ-গুনে বিমুগ্ধ হয়ে গোপনে তার মেয়ে আমেনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজি না থাকলেও আরিফুল্লাহরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকটা জোর করে এ বিয়ে হয়ে যায় বিগত ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি। নিকাহনামা বা কাবিনামা হয় শরীয়ত মোতাবেক। মোহরানা ধার্য হয় ৩ লক্ষ টাকা।

এর বালাম নম্বর ০২/২০১৬ পাতা নং-৩২ রেজিং নং ৮২/২০১৬। এ বিয়ে পরে মেনে নিতে বাধ্য হয় তার পরিবার। কিন্তু আরিফের মা-বাবা এ বিয়ে নিজেরা সম্পন্ন করলেও কিছুদিন যেতে না যেতে যৌতুকের লোভে আরিফের মা আজু মেহের তার মেয়েকে চাপ দিতে থাকে যৌতুকের জন্য।

আমেনার বাবার অভিযোগ, বার বার যৌতুক চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আজু মেহের কৌশল খাঁটায় আমেনাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য। পরে মায়ের বুদ্ধিতে আরিফুল্লাহ তার (আমির হোসেনের) মেয়ে আমেনা খাতুনকে গুম করে ফেলে। আরিফুল্লাহ নিজে গা ঢাকা দিয়ে মা-বাবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। পরে এ নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পরে বান্দরবান কোর্ট মামলা করে সে। যার কোর্ট মামলা নং ৩০/১৬। যাতে আসামী করা হয় ৩ জনকে। বাদি হন তিনি নিজে। এর পর বিভিন্ন সময় আজু মেহের ও তার স্বামী আবুল হাশেম আপোসের প্রস্তাব দেয়, এবং একাধিকবার বৈঠকে বসে। ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণের প্রস্তাব দেয়। যাতে সে রাজি না হয়ে মেয়ের সন্ধানে এখনও আছে।

তিনি বলেন,, মামলার পর ৩ আসামী আরিফুল্লাহ, তার পিতা মো হাশেম, মা আজু মেহের মামলার প্রভাবশালী তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে তাদের পক্ষে রির্পোট নিয়ে আসে বার বার। আর তার করা মামলাটিও ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে প্রভাব খাটায় শেষ পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ক’দিন আগে
তার আসামীদের মধ্যে ২ নম্বর আসামী আজু মেহের ও ৩ নং আসামী আবুল হাশেমকে পুলিশ আটক করলেও ৩ নম্বর আসামী গত সপ্তাহে জামিনে মুক্তি পায়। আজ কালের মধ্যে আজু মেহেরও বেরিয়ে আসতে পারে। আর আমার পরিবারে উপর শুরু হবে অত্যাচার ও নানা ষড়যন্ত্র। আমার মেয়ে আমেনা খাতুনের তো কিছু হলো না। তার হদিস তো পাওয়া গেলো না। বিজ্ঞ কোর্টও কোন নির্দেশনা এ পর্যন্ত দেয়নি।

আমির হোসেনের আশা মাননীয় কোর্ট তার মেয়ের বিষয়ে একটি গাইড লাইন দেবেন। তারা এ নিয়ে বেঁচে থাকবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 5 =

আরও পড়ুন