নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষের জালিয়াতি ফাঁস

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মডেল ইন্সটিউট আলীম মাদরাসার বহু অভিযোগের হোতা ছৈয়দ হোছনের বিরুদ্ধে এবার জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কমিটির এক সদস্যের সাথে জালিয়াতি করে মাদরাসা বোর্ডের প্রজ্ঞাপন বিকৃত করার ঘটনায় ইতোমধ্যেই ব্যংক কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা চেয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশের পর মাদরাসা পরিচালনা কমিটিসহ অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা গেছে, মদিনাতুল উলুম মডেল ইন্সটিউট আলীম মাদারাসায় ২০১৮ সনের ১৮ ডিসেম্বর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভার রেজুলেশন কপি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদিত হয়ে কার্যক্রম চলে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ফাঁদে পড়ে অধ্যাক্ষ ছৈয়দ হোছন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসিফ হাসান জানান, ব্যাংকে মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে মাদরাসা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মাদরাসা থেকে প্রেরিত কপির সাথে গড়মিল রয়েছে।

অধ্যক্ষ ছৈয়দ হোছন কর্তৃক ব্যাংকে প্রেরিত কপির ৫ নম্বর ক্রমিকে সদস্য হিসেবে তসলিম ইকবাল চৌধুরীর নাম রয়েছে এবং মাদরাসা নির্বাহী কমিটির সভার কার্যবিবরণীতেও একই নামটি রয়েছে। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন কপিতে ৫নম্বর ক্রমিকে তসলিম ইকবাল চৌধুরীর নামের স্থলে মো: ছৈয়দ আলম নামে একজনের নাম রয়েছে। অথচ অধ্যাক্ষ ছৈয়দ হোছেন ও মাদরাসা বোর্ডের উভয় কপিতেই প্রজ্ঞাপন স্মারক নং (বামাশিবো/প্রশা/৩৪০১৮১০৩১৩২১/১৪৬৬৯/নথি নং-৭) তারিখ ১৮-১২-২০১৮ একই রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদরাসার নির্বাহী কমিটির সদস্য তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, অধ্যক্ষ ছৈয়দ হোছেন জঘন্যভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এইজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা অধ্যাক্ষ ছৈয়দ হোছেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ব্যংকের ব্যাখ্যা চাওয়ার পত্রটি আমি পাইনি, তবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শক্রমে আগের কমিটিতে থেকে যাওয়া ছৈয়দ আলমের নাম পরিবর্তনের জন্য মাদরাসা বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদরাসা নির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক মো: শফিউল্লাহ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আমি কমিটির সভাপতির পদে না থাকার বিষয়টি বলেছি’ কারো নাম সংযোজন বা বিয়োজনের কথা বলিনি। অধ্যক্ষ ওই অভিযোগ থেকে বাচঁতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষ ছৈয়দ হোছেন ওই মাদরাসায় যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নারী কেলেংকারী, শিক্ষার্থী নির্যাতনসহ শিক্ষকদের মাঝে কোন্দল সৃষ্টি করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন পর্যায় থেকে তদন্ত হলেও অদৃশ্য কারনে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ পায়নি। এই অবস্থায় বির্তকিত ওই অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি, মদিনাতুল উলুম মডেল ইন্সটিউট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − 7 =

আরও পড়ুন