পানছড়ির আনসার সদস্য তালেবের মানবেতর দিনযাপন

fec-image

‘আমি অমানবিক দিনযাপন করছি। তেত্রিশটি বছর দেশ সেবা দিয়ে শূণ্য হাতে ঘরে ফিরব তাই কি প্রাপ্য ছিল? ২০১৯ সালের ১ মার্চ সাত সকালে সাদা কাগজে লেখা একখানা অব্যাহতি পত্র হাতে নিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরলাম। সেই থেকেই চলছে আমার মানবেতর দিনযাপন।’- কান্নায় আর কোন কথা বের হচ্ছিলনা সাবেক হিল আনসার হাবিলদার মো: আবু তালেবের।

পানছড়ির কলোনীপাড়া নিবাসী মৃত নিলাশা শেখের সন্তান তালেব দু’সন্তানের জনক। ১৯৮৬ সালে পাহাড়ে যখন ছিল নিত্য অশান্তির আগুন তখন পাহাড়ি জনপদে নিরাপত্তায় আবু তালেব আনসারে যোগ দিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সাথে দায়িত্ব পালন করে। তার আশা ছিল সরকার একদিন তাদের চাকুরী স্থায়ী করে নিবে।

সে আশা পূরণে ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী আনসার একাডেমিতে এক দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিল আনসার সদস্যদের চাকুরী স্থায়ীকরণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। তখন পানছড়ির হাবিলদার তালেব দেখেছিল রঙিন স্বপ্ন।

ধারণা ছিল অন্তত: যাবার বেলায় পেনশনসহ নানাবিধ সুযোগ নিয়ে অবসরে গেলে আর কষ্ট থাকবে না। কিন্তু সরকার প্রধানের প্রতিশ্রুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ থাকলেও সে আশা আর পূরণ হয়নি। অবশেষে ত্রেতিশ বছরের চাকুরী জীবনের অবসান ঘটিয়ে শূণ্যহাতে মানবেতর ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক।

আবু তালেব আরো জানায়, ১৯৮৬ সালের গন্ডগোলের সময় তৎকালীন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুলতান আহমদের হাত ধরেই এই কর্মে আসা। সে সময় বেতন ছিল ৭৭৫ টাকা। রেশনের ১৪ কেজি: চাউল আর গম দিয়ে মেসে খেতাম। তখন ছিলাম আমি ২০/২২ বছর বয়সী যুবক। কাজ করার অদম্য শক্তিও ছিল। আজ আমার বয়স প্রায় ৬০। নেই কাজ করার ক্ষমতা নেই উপার্জন।

তিনি বলেন, বর্তমানে হিল আনসার সদস্যদের বেতনভাতা ১৫,৩০০টাকা আর রেশন ২৮ কেজি: চাউল ২৮ কেজি: গম। তালেবের দাবী অনেক জায়গায় ধর্না দিয়েছি কিন্তু আমার কথা কেউ শুনা তো দুরের কথা কারো কাছে যাবারও সুযোগ আমায় দেয়নি।

পানছড়ির সুশীল সমাজ জানায়, হাবিলদার তালেব ছিল পানছড়ির একটি প্রাণ। উপজেলার বিভিন্ন জাতীয় দিবস থেকে শুরু করে সব ধরণের অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ মাঠ তালেবের হাতে সেজে উঠত নান্দনিক সাজে। সবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকত তালেব। নিপুন হাতে মাঠ সাজানো শিল্পীর অভাব এখন দেখা যায় জাতীয় দিবসগুলোতে। তালেব এখনও আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হয়তো আমার দিনবদলের সুযোগ হতে পারে।

পানছড়ি আনসার ও ভিডিপি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫৯ বছর পূর্তি হওয়ায় সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক জেলা অফিস থেকে অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়। বিদায় বেলা তাকে কোন সহযোগিতা দেয়া হয়নি।

খাগড়াছড়ি জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন সিদ্দিক জানান, তারা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ বিধায় সরকারীভাবে কোন কিছু দেয়ার সুযোগ নাই।

ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, পানছড়ি

One Reply to “পানছড়ির আনসার সদস্য তালেবের মানবেতর দিনযাপন”

  1. এটাই হল বাংলাদেশ ।যারা দেশের জন্য কাজ করেন, তাদের এমনি হয় ।ভালো কাজের মূল্যায়ন নাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =

আরও পড়ুন