পার্বত্য চট্টগ্রাম কি স্বাধীন হবে?

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের অবকাশ চিরদিনের জন্য তামাদি হয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আ ল ম ফজলুর রহমান

(২৫)
পার্বত্য চট্টগ্রাম কি স্বাধীন হবে? হবে না। কেন হবে না? আলোচনায় আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতা কি সমর্থনযোগ্য? না সমর্থনযোগ্য নয়। কেন নয়? আলোচনা করবো। এই সব গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নের চুলচেরা বিশ্লেষণের পূর্বে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনেকরি ।

সপ্তম শতাব্দীতে আরবরা ধর্ম প্রচার এবং ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে ভারত এবং বাংলায় আসেন। আরবের তেঁতুল মিষ্টি হয় । ভারতে এবং বাংলায় এসে আরব বণিক ও ধর্ম প্রচারকরা টক তেঁতুলের সাথে পরিচিত হন । আরবরা এই টক তেঁতুলের নাম দেন “তামার আল হিন্দ” যার অর্থ হিন্দের তেঁতুল । পরে এই তামার হিন্দ থকে ইংরেজি শব্দ ট্যামারিন্ড শব্দের উৎপত্তি হয় ।

রাসুলে পাক হযরত মুহাম্মদ ( সা: ) এর আপন মামা চট্টগ্রাম হয়ে চীনের সাংহাইতে গমন করেন ইসলাম প্রচারের জন্য সাথে অনেক সঙ্গী সাহাবীদের নিয়ে। আমার ধারণা বাংলাদেশে এবং চট্টগ্রামে নিশ্চয় কোনো সাহাবী (রা:) কবর থেকে থাকবে।

আরব বণিক এবং ধর্ম প্রচারকরা কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে প্রথমে দক্ষিণ ভারতে নোঙর করেন। আরবরা দক্ষিণ ভারতের রাজাদের এতোই বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন যে, আরবদের অনেকে দক্ষিণ ভারতের রাজাদের সেনাবাহিনীতে জেনারেলের পদে অধিষ্ঠিত হন। এই আরব বণিকরা দক্ষিণ ভারতে “মাই পোলা” নামে অভিহিত হতেন। মাই অর্থ স্তন এবং পোলা অর্থ ছেলে সন্তান। অর্থাৎ এই আরবদের দক্ষিণ ভারতীয়রা দুধ সন্তান হিসাবে অভিহিত করতেন। এই মাইপোলা থেকে মোপোলা এবং মোপোলা থেকে বর্তমানের পোলা শব্দের উৎপত্তি হয় বাংলায়।

যৌক্তিক ইতিহাস চিন্তায় এও উপলব্ধি কর যায় যে, আরবরা দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলায় আসেন বলেই বাংলায় পোলা শব্দের উণ্মেষ ঘটে। দক্ষিণ ভারতের মতো বাংলাতেও আরবরা আপন সন্তানের মতো সমাদৃত হতেন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ধর্ম প্রচারক আরবরা এবং বণিক আরবরা জেদ্দা থেকে সোজা বাংলায় আসেন।

যৌক্তিক ইতিহাস চিন্তায় আমাদের নবী পাকের আপন মামার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক মতামত যুক্তিযুক্ত মনে হয়। কারণ তাঁকে চীনে গিয়ে ধর্ম প্রচারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। সেই ক্ষেত্রে পাক ভারত উপমহাদেশে আরবদের প্রথম আগমন ঘটে বাংলায়। এবং বাংলার মাটি ধন্য হয় নবী পাকের আপন মামা ( রা: )এবং তাঁর সাথী সাহাবীদের ( রা : ) পদস্পর্শে।

আরবরা যখন বাংলায় আসেন তখন সম্ভবতঃ গঙ্গা নদীর গতিপথের প্রবাহ ফরিদপুরের কোটালিপাড়া হয়ে চট্টগ্রামে সমুদ্রে গিয়ে মিশতো। আরব বণিকরা গঙ্গা নদী দিয়ে চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রামে আসার পরে চট্টগ্রামকে গঙ্গা নদীর উপদ্বীপ বলে মনে হয় আরব বণিকদের। আরবীতে উপদ্বীপকে বলা হয় সাত । আরব বণিকরা চট্টগ্রামের নাম দেন ” সাত আল গঙ্গা”। অর্থ গঙ্গার উপদ্বীপ। এই সাত আল গঙ্গা থেকে সাত গাঁ এবং সাত গাঁ থেকে চাট গাঁ। শেষে বর্তমানের চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের নামকরণ নিয়ে অনেক ঐতিহাসিক মতভেদ আছে। তবে উপরের ঐতিহাসিক বর্ণনা অধিক যুক্তিসংগত মনে হয়েছে যৌক্তিক ইতিহাস চিন্তায়।

সার্বিকভাবে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। মোটাদাগে চট্টগ্রামের পার্বত্য বর্ধিতাংশটিই হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম যা সর্বকালে চট্রগ্রামের এবং বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ থেকেছে।

নয় শত পঞ্চাশ খৃ: চট্টগ্রাম আরাকান রাজার অধীনস্ত হয়। বারোশত চল্লিশ খৃ: চট্টগ্রাম সুলতানী শাসনের অধীনে আসে। পনেরো শত সাতান্ন খৃ : চট্টগ্রাম পুনরায় আরাকান রাজার শাসনে শাসিত হতে থাকে। ষোলশত ছেষট্টি খৃ: চট্টগ্রাম মোগল শাসনে আসে। সতের শত সাতান্ন খৃ: বাংলার নবাব সিরাজোদ্দৌলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হবার পরে বাংলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এবং পরে বাংলা ব্রিটিশ শাসনে এলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ইংরেজ শাসনের অধীন হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিরা ষোলশত খৃষ্টাব্দের দিকে নিজ নিজ স্হান হতে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী উপজাতিরা মূলতঃ মিয়ানমারের আরাকান এবং চীনহিল অঞ্চল থেকে প্রথমে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন করে। পরে তারা ধীরে ধীরে পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে । এই উপজাতিদের মধ্যে আছে যেমন- চাকমা, মারমা (মারাম্মা), ব্যোম, পাঙ্খু, তনচ্যঙ্গা, ত্রিপুরা, চাক, খুমি, খিয়াং, গোর্খা, কুকি, মুরং প্রভৃতি । উপজাতিদের মধ্যে চাকমারা তেত্রিশ শতাংশ। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতির সংখ্যা একান্ন শতাংশ এবং বাঙালীর সংখ্যা উনপঞ্চাশ শতাংশ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ইংরেজ শাসনে আসার পরে উনিশ শত খৃ: হিলট্রাক্ট ম্যানুয়াল এক্ট-১৯০০ পাশ করে ইংরেজ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে নন রেগুলেটেড এরিয়া ঘোষণা করে। এই রেগুলেশনের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে চাকমা, মারমা এবং ব্যোমাং সার্কেলে ভাগ করে তিনজন সার্কেল চীফ নিয়োগ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসনের সুবিধার জন্য সার্কেল চীফ বা তিনজন রাজার অধীনে মৌজা প্রধান হিসাবে হেডম্যানদের এবং গ্রাম প্রধান হিসাবে কারবারীরা নিয়োগ পান। এই সব হেডম্যন এবং কারবারীদের মাধ্যমে খাজনা আদায় করে সার্কেল চীফরা ইংরেজ সরকারের কাছে দেওয়ানদের দ্বারা খাজনা জমা করতো।

পাকিস্তান আমলেও একই পদ্ধতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসিত হয় । বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পরে জেনারেল এরশাদের শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রাম হিল কাউন্সিল গঠন করেন সরকার। পরে উনিশ শত সাতানব্বই সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যুদ্ধের অবসান ঘটে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কেন শান্তিবাহিনী যুদ্ধ শুরু করলো ? শান্তিবাহিনী কেন এবং কিভাবে গঠিত হলো? এবিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন মনে করি ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। উনিশ শত বাহাত্তর সালের ঘটনা। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সময় গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি করেন। সরকার মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার এই দাবি অগ্রাহ্য করে। পরে বঙ্গবন্ধু রাঙ্গামাটিতে সফরে এসে তাঁর বক্তৃতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের বাঙালী হবার আহ্বান করেন। ফলে উপজাতিদের মনে তাদের পরিচিতির বিলুপ্তির আশংকার সৃষ্টি হয়।

এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ও সন্তু লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা ষ্টাফ ব্যাটলার্স সংক্ষেপে এসবি যা পরে শান্তিবাহিনী নামে পরিচিতি পায় ( এস- শান্তি বি- বাহিনী= শান্তিবাহিনী ) সৃষ্টি হয়।

বঙ্গবন্ধুর উপজাতিদের বাঙালী হবার এক আহ্বানে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি হলো এবং গেরিলা যুদ্ধের শুরু হয়ে গেলো এমন ধারণা অতি সরলীকরণ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে প্রতিভাত হবে যে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ও অখণ্ডতার আওতায় বাঙালী জাতীয়তাবাদকে মেনে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্বশাসনের দাবীকে পরিহার করার পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের প্রতি আহ্বানই ছিলো বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের মর্মমূলে।

বঙ্গবন্ধুর বাঙালী হবার আহ্বানে চাকমা উপজাতি বাঙালীতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে এমন ধারণা কোনো সুস্হ মস্তিষ্কজাত হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের বাঙালী জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্বশাসনের দাবীকে পরিহার করতে বলেছিলেন। দেশের অখণ্ডতার জন্য সকল উপজাতিদের বাঙালী জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিলো। বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের বাঙালী জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করতে বলে তাদের বাঙালী হবার আহ্বান জানাননি। আর এটা যুক্তিসংগতও নয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের স্লোগান ছিলো বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এই আহ্বানে কেবল বাঙালীর উল্লেখ থাকলেও এই আহ্বান বাঙালী, উপজাতি সবার জন্যই ছিলো। উপজাতিদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানও তেমনই ছিলো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি কেন হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে পিছনে ফিরে যেতে হবে। পাকিস্তানের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তান আর্মি নাগা এবং মিজো গেরিলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতো। এর ফলশ্রুতিতে উওর পুর্ব ভারতের সাত রাজ্য অশান্ত হতে থাকে। ভারতের পক্ষে এই গেরিলা যুদ্ধের অবসান করা সম্ভব হয় নাই।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে ভারতের স্বাধীনতাকামী গেরিলারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্যাম্প করে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। ভারতের জন্য ভারতের সাত রাজ্যের গেরিলা যুদ্ধের অবসানের পরিকল্পনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম খুবই গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আবির্ভুত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতীয় গেরিলাদের অভয়ারণ্যকে ধ্বংস করতে এবং একই সাথে সদ্য স্বাধীন দুর্বল বাংলাদেশকে চাপে রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি হ্যান্ড হিসাবে ভারতীয় গেরিলাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে একটি উপজাতি গেরিলা ফোর্সের সৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা উপজাতিদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় উনিশ শত তিহাত্তর সালে ভারতের এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি হ্যান্ড হিসাবে মুখ্যত চাকমা উপজাতিদের দ্বারা শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি হয়।

উনিশ শত তিহাত্তর সালে শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি হলেও উনিশ শত সাতাত্তর সালের আগে শান্তিবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশনে যেতে পারেনি কারণ বঙ্গবন্ধুর সাথে ভারতের গভীর বন্ধুত্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণে শান্তিবাহিনী ভারতের সহযোগীতা পায় নাই বলে।

উনিশ শত পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় শান্তিবাহিনীর জন্য ভারতের সাহায্য উন্মুক্ত হয় এবং উনিশ শত সাতাত্তর সালে শান্তিবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে প্রথম সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন পার্বত্য চট্টগ্রাম কি স্বাধীন হবে? আমি দৃঢ় ভাবে মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন হবে না। কারণ:

এক। পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন হলে ভারতের সাত রাজ্য যা পার্বত্য চট্টগ্রাম সংলগ্ন স্বাধীন হয়ে যাবার উজ্জল সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে যা ভারত কোনোদিনও চাইবে না ।

দুই । পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরা নৃতাত্বিকভাবে মঙ্গলয়েড অতএব পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন রাষ্ট্র হলে তা চীনের প্রভাব বলয় ভুক্ত হবে। এটা ভারতের চাওয়ার মানে হবে নিজ বাড়ীতে খাল কেটে কুমির আনার মতো আত্মঘাতী ঘটনা। যা ভারত কখনই সমর্থন করবে না।

একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতার প্রশ্ন সমর্থনযোগ্য নয় কারণ অন্যের স্বাধীন ভূখণ্ডে মাত্র তিন / চার শত বছর পূর্বে আশ্রয় গ্রহণকারী একটি অতি ক্ষুদ্র উপজাতির জনগণ যা বাংলাদেশের জনগোষ্ঠির দুই শতাংশের কম তাদের স্বাধীনতার দাবীকে যদি সমর্থন করতে হয় তবে তিনশত বৎসর পূর্বে ইংল্যান্ডে গমনকারী বাঙালীদের ঐদেশে স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য যদি স্বাধীনতা দাবী উত্থাপন করে তবে সেই দাবীকে ও সমর্থন করতে হবে- এটা কি যুক্তিসংগত? না এই দাবী যুক্তিগ্রাহ্য নয়।

অতএব পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের স্বাধীনতার দাবী কষ্মিনকালেও সমর্থনযোগ্য হবেনা। উনিশ শত সাতানব্বই সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের অবকাশ চিরদিনের জন্য তামাদি হয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

♦ জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান: প্রাক্তন মহাপরিচালক বিডিআর।

ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য চট্টগ্রাম, স্বাধীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

আরও পড়ুন