পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত শেষ হবে কবে?

অধ্যাপক আবদুল গফুর

মোহাম্মদ আবদুল গফুর

বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা নিয়ে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। এই চক্রান্ত শেষ না হওয়ার অন্যতম কারণ এর সাথে এদেশের কিছু মানবাধিকার কর্মী নামধারী ব্যক্তির সাম্রাজ্যবাদের শিখন্ডি হিসেবে ব্যবহৃত হবার উদগ্র বাসনা।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেই পলাশী যুগে জগৎ শেঠ, মীরজাফর, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ, ঘষেটি বেগমদের যে ভূমিকা পালনের পরিণতিতে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজরা আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা হরণ করে নিতে সক্ষম হয়, মনে হয়, আজও তাদের এ যুগের উত্তরসূরিরা নতুন করে পলাশী বিপর্যয় ডেকে আনতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন তথা সিএইচটির গাড়ি বহরে কথিত হামলা নিয়ে দেশে বেশ উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। এই গাড়ি বহরে ছিলেন উল্লেখিত কমিশনের কো-চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালসহ অন্যরা। দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেলে সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ বাঙালিদের তোপের মুখে ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দুপুরে কড়া পুলিশ প্রহরায় পর্যটন মোটেল থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোবাসযোগ রাঙ্গামাটি ছেড়ে যাওয়ার পথে ওমদ্যামিয়ণ হিল এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জসহ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

বিক্ষুব্ধ বাঙালিদের এ বিক্ষোভের সূত্র সম্পর্কে যতদূর জানা গেছে, তা হচ্ছে পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় কমিশন প্রতিনিধিদের রাঙ্গামাটিতে না আসতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু গরজ বড় বালাই। এ অনুরোধকে কোনো পাত্তা না দিয়ে এমনকি প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে তারা রাঙ্গামাটি আসেন। এর আগে এই কমিশনের প্রতিনিধি দলের গোপনে রাঙ্গামাটি সফরের প্রতিবাদে শনিবার সকালে শহরের প্রধান সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে বাঙালিদের ছয়টি সংগঠন। অবরোধের কারণে রাঙ্গামাটি শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কমিশনের প্রতিনিধি দল যতক্ষণ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ত্যাগ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সংগঠনের নেতারা। কমিশনের রাঙ্গামাটি সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে ৩৬ ঘণ্টার অবরোধ শুরু হলেও কমিশন রাঙ্গামাটি থাকবে না বলে জানানো হলে ৭ ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল বাঙালি সংগঠনগুলো।

কিন্তু শুক্রবার রাতে কমিশনের প্রতিনিধি দল গোপনে রাঙ্গামাটি অবস্থান করলে প্রতিবাদকারী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বাঙালি সংগঠনগুলো কাঁঠালতলী ফিসারি বাঁধ সড়কের ওপর ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সুস্পষ্ট যে, কমিশন যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের অবস্থান সম্পর্কে লুকোচুরি না খেলতেন, তাহলে অন্তত সর্বশেষ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটত না।

এখানে উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘মানবাধিকার’ লঙ্ঘনজনিত ঘটনা খতিয়ে দেখার নামে মাঝে-মধ্যেই এই কমিশনের প্রতিনিধি দল তিন পার্বত্য জেলা সফরে যায়। গত ২ জুন প্রতিনিধি দলটি খাগড়াছড়ি পৌঁছে। ঐদিন দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় ৫১ বিজিপি ব্যাটালিয়ন ও উচ্ছেদ হওয়া পাহাড়ি ২১টি পরিবার দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্যকারণবশত তা বাতিল করা হয়। তবে ঐদিন খাগড়াছড়িতে একটি প্লাজায় স্থানীয় চার উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে তাদের বৈঠক হয়। বাবুছড়ায় প্রস্তাবিত ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এলাকাও তারা পরিদর্শন করে। বিজিবির ব্যাটেলিয়ন উপঅধিনায়ক ও স্থানীয় সেনাবাহিনী সাবজোন কমান্ডার জানান, হেলিপ্যাডে কলাগাছ লাগানোর সময় বাধা দিল পাহাড়িরা বিজিবির ওপর হামলা চালায়, স্থাপনা ভাংচুর করে এবং বিজিবি সদস্যদের আহত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। তিনি প্রতিনিধি দলকে আরো জানান, ১২৩ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েই বিজিবি কাজ করছে। এতে পাহাড়িদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

আসলে বিজিবির ঐ প্রকল্প সফল হলে বিরোধী একটি সশস্ত্র গ্রুপের অবাধ বিচরণ এলাকার নিরাপত্তা নজরে আসার আশঙ্কায়ই গ্রুপটি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলতে চাইছে। এখানে উল্লেখ্য, গত মে মাসে বাবুছড়ায় বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। এরপর থেকেই একশ্রেণীর পাহাড়ির মধ্যে উত্তেজনা দানা বাঁধতে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন সন্ধ্যায় কয়েকশ’ পাহাড়ি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন বাবুছড়া বিজিবি সদর দফতরে হামলা চালালে ছয় বিজিবি ও পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

মজার ব্যাপার এই যে, এতসবের পরও তথাকথিত সিএইচটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাহাড়িরা অজানা আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, কমিশনের এক পেশে বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় কাজ করছে। কমিশন সদস্যরা মুখে মানবাধিকারের কথা উচ্চারণ করতে কখনও ক্লান্তি বোধ করেন না। অথচ পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের মানবাধিকার নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরা এমনিতেই তাদের মানবাধিকার নিয়ে সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। কারণ শান্তি চুক্তিতে পাহাড়ি আর বাঙালিদের অধিকারের মধ্যে যথেষ্ট বৈষম্য ছিল। যেমন পাহাড়িরা বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে পূর্ণ নাগরিক অধিকারসহ বসবাস করতে পারলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসে বাঙালিদের ওপর অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সিএইচটি প্রতিনিধি দল পাহাড়িদের অধিকার নিয়ে যতটা উৎসাহ প্রদর্শন করেন ওই অঞ্চলে বসাবসরত বাঙালিদের মানবাধিকারের জন্যও যদি ততটা দায়িত্ব অনুভব করতেন তবে সমস্যা মোটেই এভাবে গড়াত না। সাম্রাজ্যবাদের মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে তারা উপাজাতিদের মধ্যে প্ররোচনা না দিয়ে চলতে এবং বাঙালিদের জন্যও সমান মানবাধিকারের চিন্তা করলে বাঙালিদের মধ্যে নিশ্চয়ই ক্ষোভ সৃষ্টি হতো না ও কমিশনের প্রতিনিধি দলকে বাঙালিদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতো না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য তাদের সংগঠনের নামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তাদের সংগঠনের নামই সমঅধিকার আন্দোলন। অর্থাৎ তারা বাংলাদেশের এক-দশমাংশজুড়ে যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থান, সেখানে অন্যদের সাথেও সমান অধিকার চান। উপজাতিদের যেমন রয়েছে বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলে বসবাস করার অধিকার, বাঙালিরা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেরূপ অধিকারই দাবি করে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বাঙালিদের জন্য এতটুকু অধিকারও বরদাশত করতে রাজি নয়। এর মধ্যে তিনি সাম্প্রদায়িকতার ভূত পর্যন্ত আবিষ্কার করেছেন।

সুলতানা কামালদের পক্ষে এটাই সম্ভবত স্বাভাবিক। কারণ তিনি ঐ কমিশনের কো-চেয়ারম্যান হলেও ভেতর থেকে ওই কমিশনের আসল কলকাঠি যিনি নাড়েন তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ততম প্রতিনিধি লর্ড এরিক অ্যাভেবরি। সাম্রাজ্যবাদের সেবায় বিশ্বজোড়া রেকর্ড তার। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব তিমুরকে বিচ্ছিন্ন করা ও সুদান থেকে দক্ষিণ সুদানকে বিচ্ছিন্ন করাসহ সাম্রাজ্যবাদী বহু ষড়যন্ত্রেরই হোতা তিনি। দেশে দেশে সুলতানা কামালরা শুধু শিখন্ডি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে যাচ্ছেন। নইলে যে সুলতানা কামাল বাংলাদেশের অন্যত্র বাংলাদেশীর বিপরীতে নিজেকে কম্পানী প্রমান করতে কখনও এতটুকু কার্পণ্য করেন না, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এতবড় সর্বনাশা ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে যাবেন কেন?

আসলে ‘মানবাধিকার’ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের দ্বারা, যারা সারা বিশ্বে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহতম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, সেই সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি। কুখ্যাত হান্টিংটক তত্ত্ব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কমিউনিস্টদের পতন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন-পরবর্তী বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদীয়মান মুসলিম বিশ্বসহ তৃতীয় বিশ্ব। তাই তো দেখি, আফগানিস্তানে ও ইরাকে এখন প্রতিষ্ঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সরকার। বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব তিমুর এবং সুদান থেকে দক্ষিণ সুদান বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ থেকে তার এক-দশমাংশ এলাকায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে সে অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদ পৃষ্ঠপোষিত একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা সাম্রাজ্যবাদের বহু দিনের। ওই পরিকল্পনা নিয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করছে তথাকথিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিশন, যার শিখন্ডি কো-চেয়ারম্যান ও মূল কলকাঠি নড়ার কে কে তা ইতোপূর্বেই উল্লেখিত হয়েছে।

মানবাধিকার রক্ষার নামে তথাকথিত মানবাধিকারবাদীরা মুখে উচ্চকণ্ঠ হলেও প্রকৃত মানবাধিকারে যে তাদের উৎসাহ নেই, তা তাদের কার্যকলাপেই সুস্পষ্ট। তা যদি না হবে তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বাঙালিদের সমান অধিকার যে চরম ভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে তা বলতে তারা ভুলে যাবেন কি করে? তাদের উচিত ছিল পাহাড়িরা যেভাবে বাংলাদেশের সর্বত্র বসতি স্থাপনের অধিকারী, তেমনি বাঙালিরাও যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপনের সমান অধিকার পায় তার দাবি তোলা। তা তারা তোলেননি, তোলেন না।
কমিশনের কো-চেয়ারম্যান মহোদয়া রাঙ্গামাটি সফরে গিয়ে বাঙলিদের বিক্ষোভের মুখে পড়বার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, হামলা করে আমাদের প্রতিহত করা যাবে না।

কথায় বলে, ভেড়া কোঁদে খুঁটির জোরে। তাদের খুঁটির জোর যে সাম্রাজ্যবাদী পৃষ্ঠপোষকতা এটা কাউকে নতুন করে বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তারা ভুলে যান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদের এসব চক্রান্ত এদেশের জনগণ কিছুতেই মুখ বুজে সহ্য করবে না। তারা ভুলে যান, পলাশীর চক্রান্তের পর প্রথম একশ’ বছর সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ, পরে দীর্ঘ দিন নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম, সব শেষে পুনরায় নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। এদেশের মানুষ মীরজাফর, ক্লাইভ, ঘষেটি বেগমদের কোনো চক্রান্তই আর সফল হতে দেবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের কোনো অংশের বিরুদ্ধেই কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। যে দেশের জন্ম হয়েছে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, প্রয়োজন হলে পুনরায় এদেশের জনগণ তাদের বুকের শেষ রক্তবিন্দুর বিনিময়ে এদেশের সার্বভৌম অখন্ডতা রক্ষা করবে।

অধ্যাপক আবদুল গফুর: অগ্রজ ভাষা সৈনিক, সাংবাদিক ও কলামনিস্ট।

ঘটনাপ্রবাহ: অবরোধ, আন্তর্জাতিক সিএইচটি কমিশন, পার্বত্যনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 7 =

আরও পড়ুন