পুরনো উইকেটেই খেলবে আফগানিস্তান ও টাইগাররা

fec-image

দুইদিন আগে ভারত-আফগানিস্তান যে উইকেটে খেলেছে আজ বাংলাদেশ-আফগানিস্তানও একই উইকেটে খেলবে। ভারতের বিপক্ষে খেলা রোজ বোলের ওই উইকেটটি ছিল মন্থর। দুই দলের ক্রিকেটারদের রান করতে যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে। ভারতকে ২২৪ রানে আটকে রেখেও জিততে পারেনি আফগানরা। এদিকে প্রায় ১৫ বছর পর এই ভেন্যুতে খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল।

সোমবার একই উইকেটে খেলা হবে দেখে খুব বেশি শঙ্কিত দেখা গেলো বাংলাদেশকে। অনেকটা বাংলাদেশের উইকেটের মতোই আচরণ করবে রোজ বোলের উইকেট! বিকেল সাড়ে তিনটায় খেলা শুরু হবে সাউদাম্পটনের রোজ বোলের এই মাঠে।

২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ম্যাচে এই উইকেটে খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে এমন উইকেট দেখে কোচ স্টিভ রোডসের মন্তব্য, ‘উইকেট কিছুটা স্লো এবং কিছুটা টার্ন আছে। আমরা এ ধরনের উইকেটেই সাধারণত খেলে থাকি। তবে ক্রিকেটে খেলাটা নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিনের ওপর, বিশেষ করে ইংলিশ কন্ডিশনে। আবহাওয়া নিয়েও আগাম কিছু বলা কঠিন। রোদ থাকলে একরকম হবে, আবার মেঘলা আকাশ থাকলে আরেক রকম হবে। তবে স্পিন নির্ভর দল হওয়াতে দুই দলের জন্যই ভালো হবে।’

টানা পেস নির্ভর উইকেটে খেলে অভ্যস্ত বাংলাদেশকে দ্রুত রোজ বোলের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। কেননা মাঠের আকারের মতো এই উইকেটও ইংল্যান্ডের গড়পড়তা উইকেট থেকে কিছুটা আলাদা। এখানকার উইকেট উপমহাদেশের মতই মন্থর, টার্নও আছে অনেক। এর পাশাপাশি উইকেটে গিয়ে বিশ্লেষণ ভালো হতে হবে। নয়তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বাংলাদেশের!

উইকেট ঠিকমতো বিশ্লেষণ করতে না পারায় মূলত ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। কোচ অবশ্য স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন এমন মন্থর উইকেটে সিঙ্গেলের ওপরই জোড় দিতে হবে, ‘ব্যবহৃত উইকেট হওয়াতে উইকেটটি মন্থর হতে পারে। এখানে চার-ছক্কার চেয়ে সিঙ্গেলস কিংবা ডাবলের দিকে চোখ রাখতে হবে মাশরাফিদের। বিশেষ করে মাঠের সীমানা বড় হওয়াতে বাউন্ডারি কম হবে। মনে হচ্ছে আমরা সেই ১৯৮০-৯০ এর দশকে ফেরত যাচ্ছি। যখন কিনা অনেক বড় মাঠে খেলা হতো। এই ম্যাচে ভারতের ম্যাচের মতো চার-ছক্কা কম দেখা যাবে।’

ব্যাটিংয়ের চেয়েও ফিল্ডিংটা ভালো করা জরুরি বড় মাঠে। বোলিং খারাপ হলে ফিল্ডিংয়ে দিয়ে সেটাকে অনেকটাই পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব। মাশরাফিও বলছেন তা, ‘ফিল্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন ধরেই আমাদের ফিল্ডিং আপ টু দ্য মার্ক হচ্ছে না। কিন্তু ম্যাচ জেতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটা। আমাদের ভালো করতে হলে ফিল্ডিংয়ে উন্নতির বিকল্প নেই।’

চলতি বিশ্বকাপে রোজ বোল স্টেডিয়ামে ছিল মোট পাঁচ ম্যাচ। এরমধ্যে একটি ম্যাচ ভেসেছে বৃষ্টিতে। বাকি তিন ম্যাচের কোনটিতেই কোন দল আড়াইশ রানও করতে পারেনি। প্রোটিয়াদের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২১২ রানে আটকে সহজেই জেতে ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ম্যাচে ভারতকে মাত্র ২২৪ রানে আটকে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি আফগানিস্তান। এবার দেখা যাক বাংলাদেশ এই মাঠের পুরনো ইতিহাস বদলাতে পারে কিনা?

ঘটনাপ্রবাহ: ক্রিকেট, টাইগার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 1 =

আরও পড়ুন