“প্রতিবছর এ সময় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে মানুষের জীবন যাত্রা বির্পযস্ত হয়ে পড়ে।”

প্রকৃতিতে নগ্ন থাবা বান্দরবানে পানি সংকটের মূল কারণ

fec-image

প্রকৃতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ এবং বিরূপ প্রভাবের কারণে বান্দরবানে ঝিরি ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, ঝিরি-ঝরণা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও অপরিকল্পিত জুম চাষ পানি সংকটের মুল কারণ। ফলে বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি বিশাল জনগোষ্ঠি।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতীদের বাৎসরিক খাদ্য সংস্থান করতে গিয়ে প্রতিবছর শত শত পাহাড়ে অপরিকল্পিত ভাবে জুম চাষ করা হয়। জুম চাষের ফলে একদিকে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যায় অন্যদিকে মাটি ক্ষয় হয়। এতে ভু উপরিভাগ উষ্ণতার ফলে ভু গর্ভস্থ পানির লেয়ার নিচে নেমে যায়।

এছাড়াও ঝিরি-ঝরণা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এবং নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন পানি সংকটের অন্যতম আরেকটি কারণ। ঝিরিতে পাথর না থাকায় এবং পাহাড়ে পর্যাপ্ত গাছ না থাকার কারণে পানির উৎসস্থল ধংস হয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ে বসবাসরত মানুষ। পানির এই সংকটের মধ্যে বিশেষ করে জেলার আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, রোয়াংছড়িতে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
জানা গেছে, বান্দরবানে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পানি সংকটের তীব্রতা বেড়েছে।

প্রতিবছর এ সময় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে মানুষের জীবন যাত্রা বির্পযস্ত হয়ে পড়ে। তারা পাড়া বা মহল্লা থেকে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি-ঝরণার পাশে ছোট ছোট পাত কুয়া সৃষ্টি করে পানি সংগ্রহ করতে হয়। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে পুকুর বা ডুবার পানি ফুটিয়ে পান করছে।

আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান- বর্তমানে আলীকদমে পানির প্রকট সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানি সংকটের কারণে প্রতিদিন নিজেদের সমস্যা নিয়ে বলতে আসেন। কিন্তু উপজেলা পরিষদে সরাসরি কোন অর্থ বরাদ্দ থাকেনা। তাই অতি দ্রুত আলীকদমে পানির সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয় নাগরিকদের মতে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক একটি রিং ওয়েল ১২০ ফুট এবং টিউবওয়েল ৪৫০ ফুট খনন করার কথা থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খনন করেন সর্বোচ্চ ৬০ ফুট ও ২০০ ফুট। যার কারণে শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই সেইসব রিং ওয়েল ও টিউবওয়েলে পানি থাকে না।

নাইক্ষ্যংছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শাহ আজিজ বলেন- প্রচণ্ড গরমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকুপ গুলোতে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। কিছু স্থানে ১৫০ ফুট নিচে গিয়েও নলকুপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, জেলায় অধিকাংশ এলাকায় পাথরে ভরপুর হওয়ার কারণে রিংওয়েল ও টিউবওয়েল স্থাপন করা কঠিন। সেই তুলনায় জিএফএস থেকে মানুষ অনেক সুবিধা পাচ্ছে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় রিংওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে ৮হাজার ৬৬১টি। যার মধ্যে ৫হাজার ৬৮৯টি সচল এবং ২হাজার ৯৭২টি অচল। জিএফএস লাইন ৮৮টির মধ্যে ১৭টি সচল, অকেজো ৭১টি।  সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন নির্মল প্রকৃতির উপর মানুষের নগ্ন থাবা বন্ধ করতে পারলে এবং পাহাড়ে পানির উৎসস্থল ধ্বংস যাতে না হয় সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা গেলে নতুন করে পাহাড় তার প্রাণ ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

ঘটনাপ্রবাহ: পানি সংকটের, প্রকৃতিতে, বান্দরবানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + twenty =

আরও পড়ুন