চকরিয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিং

প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট জনগণ

fec-image

রমজান মাসের শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার শহর থেকে গ্রামের প্রতিটি জনপদে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।

সারাদিন রোজা রেখে ধর্মপ্রাণ জনগণ তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজির কারণে মসজিদে ঠিকমতো নামাজ পড়তে পারছে না ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

তীব্র গরম আর বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অসহ্য হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ সর্বসাধারণ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। দিনরাতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

একদিকে অসহনীয় গরম অপরদিকে ঘনঘন লোডশেডিং বিপর্যস্ত করে তুলেছে জনজীবন।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, আগে ঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে চকরিয়া উপজেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। বিশেষ করে সেহেরী ইফতার ও তারাবির নামাজের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে তীব্র গরম অন্যদিকে ঘনঘন লোডশেডিং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোজাদারদের। রোজায় সুষ্ঠভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ধর্মপ্রাণ মুসলিরা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে বিদ্যুৎ এর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবস্যা বাণিজ্যে ধ্বস, ব্যাংক, বীমা, বিভিন্ন কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, কম্পিউটার সাইবার ক্যাফেগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণও ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

বিশেষ করে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে সেচ মৌসুম শেষ হয়েছে। এরপরও ঘনঘন লোডশেডিং জনজীবনকে বির্পযস্থ করে তুলেছে। তার সাথে বিদ্যুৎ সেবার মান সহনীয় রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।

চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ জানায়, চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন ৮ মেগাওয়াট, আরও ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। ২৪ ঘন্টায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে।

অফিসের সংশ্লিষ্টরা আরও জানায়, চকরিয়া পৌরশহরের কোচপাড়া পাওয়ার ট্রান্সমিটার থেকে ২২ হাজার গ্রাহককে ৫টি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩টি লাইন চালু থাকলেও অন্য ২টি লাইন বন্ধ রাখতে হয়। গ্রাহকদের মাঝে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দ মিলেছে। কিন্তু কিছু মালামাল আসতে দেরি হচ্ছে, সে কারণে দ্রুত সময়ে কাজ করা যাচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও চকরিয়া সিটি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক সোলতান আহমেদ বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার এবং তারাবির নামাজের সময় প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একদিকে তীব্র দাপদাহ অন্যদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ দুর্ভোগ লাগবে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও এগিয়ে আসতে হবে।

জানতে চাইলে চকরিয়া বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তার মধ্যে অতিরিক্ত গরম। বিদ্যুতের চাহিদাও রয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। এরপরও দিনে শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে রাতের মধ্যে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আশা করি সহসা এই সমস্যা আর থাকবে না।

ঘটনাপ্রবাহ: চকরিয়া, লোডশেডিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =

আরও পড়ুন