adv 728
“খিদে পেলেই প্যাকেটবন্দি নোনতা কুকিজ, বা চিপ্‌স নিজেও যেমন খাচ্ছেন, শিশুকেও কিনে দিচ্ছেন অনবরত। কিন্তু এ সবে মিশে থাকা অতিরিক্ত নুন যে নিঃসাড়ে স্ট্রোক ডেকে আনছে, তা কি জানেন? অতিরিক্ত নুনের প্রভাবে রক্তচাপ বাড়ে এবং তা মস্তিষ্কে রক্ত সংবহনে বাধা দেয়। ফলে আজই রাশ টানুন অতিরিক্ত নুন মেশানো খাবারে”

প্রতিদিনের এই ভুলগুলিই কিন্তু আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে স্ট্রোকের দিকে

সকালে উঠে বাজার সেরেছেন, সাংসারিক ঝুটঝামেলা সামলেছেন, দরকারি কাজ মিটিয়ে সবে আরাম করে বসে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎই জড়িয়ে গেল কথা, বেঁকে গেল মুখ। চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই মারা গেলেন মানুষটি। এমন ঘটনা আমাদের চার পাশেও ব্যতিক্রম নয়। অতর্কিতে হানা দিয়ে জীবন কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রোক একেবারে প্রথম সারিতে।

স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় আপনারই কয়েকটা ভুল। সে সব যদি শুধরে নিতে পারেন দ্রুত, তা হলে এর আক্রমণ থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পারবেন। প্রতি দিনের অভ্যাস থেকে তাই ছেঁটে ফেলুন কিছু ত্রুটি।

খিদে পেলেই প্যাকেটবন্দি নোনতা কুকিজ, বা চিপ্‌স নিজেও যেমন খাচ্ছেন, শিশুকেও কিনে দিচ্ছেন অনবরত। কিন্তু এ সবে মিশে থাকা অতিরিক্ত নুন যে নিঃসাড়ে স্ট্রোক ডেকে আনছে, তা কি জানেন? অতিরিক্ত নুনের প্রভাবে রক্তচাপ বাড়ে এবং তা মস্তিষ্কে রক্ত সংবহনে বাধা দেয়। ফলে আজই রাশ টানুন অতিরিক্ত নুন মেশানো খাবারে।

আচ্ছা, আপনি ব্রেকফাস্টে কী খাচ্ছেন? ২০১৭-য় ‘স্ট্রোক’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, দিনের পর দিন সকালের প্রথম খাবারেকোনও সিরিয়াল বা প্যানকেক খেয়ে চলেছেন, তাঁরাও দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিপদপথে। এই সব সিরিয়াল ও প্যানকেক পেস্ট্রিতে অতিরিক্ত চিনি থাকে।ইস্কিমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

নিয়ম করে কয়েক পেগ মদ্যপানের অভ্যাস আছে? ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত ২০১৯-এর একটি গবেষণা বলছে, মদ্যপান করেন না ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাঁরা স্ট্রোকের থেকে অনেকটাই নিরাপদেথাকেন। তুলনামূলক ভাবে মদ্যপায়ীরা রয়েছেন বিপদে। এই প্রসঙ্গে ২০১৫-র আর একটি গবেষণা বলছে, দিনে দু’পেগের বেশি মদ খেয়ে থাকলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায় আরও।

শরীরে ভিটামিন সি-এর কোনও অভাব পড়ছে কি না, সে দিকে খেয়াল রাখুন। হেমোরহ্যাজিক স্ট্রোককে ডেকে আনে এই ভিটামিনের ঘাটতি। পাতে রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার।

মেদ ঠেকাতে ও জিভকে আরাম দিতে সাধারণ নরম পানীয় ছেড়ে ডায়েট পানীয়কে বেছে নেন অনেকেই। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে। যা হার্টের জন্যও ক্ষতিকর। মেদ ও কোলেস্টেরলও বাড়ায়। স্ট্রোক ডেকে আনতেও এর জুড়ি নেই।

শীত হোক বা গরম, শরীরকে শুষ্ক করে দেওয়া চলবে না মোটেই। তাই জল খেতে হবে পর্যাপ্ত। অ্যালকোহল শরীরে জল শোষণ করে শরীরকে শুষ্ক করে দেয়। তাই মদ ছাড়তে পারলে খুবই ভাল। সঙ্গে জলের অভাব যাতে না হয়, তার খেয়ালও রাখতে হবে।

মানসিক অবসাদও স্ট্রোক ডেকে আনার অন্যতম কারণ। হাতশা ও মানসিক অবসাদ হৃদযন্ত্রে যেমন চাপ ফেলে, তেমনই মস্তিষ্কের কোষে রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়। ঘন ঘন হতাশায় ভোগেন যাঁরা, তাঁরা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসকের কাছে মাঝে মাঝেই শারীরিক পরীক্ষার জন্য না যাওয়া কি আপনার স্বভাব? তা হলে এই ভুল থেকে সরে আসুন আজই। বিভিন্ন ক্রনিক অসুখে ঠিক করে চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে চলা বা ওষুধে শৃঙ্খলা না রাখলে তা শরীরে প্রভাব ফেলে। এর জেরেও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একটু আধটু ব্যথা-বেদনা হলেই মুঠো মুঠো বেদনানাশক ওষুধ খান? এতে থাকা স্টেরয়েড ভাস্কুলার ডেথ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো অসুখের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। কাজেই অতিরিক্ত এ সব খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করুন আজই।

বিজ্ঞানীরা এ ছাড়াও এমন এক কারণ জানাচ্ছেন, যা আজকাল কম-বেশি প্রায় সব চাকুরিজীবীকেই ভয় ধরিয়ে দিতে পারে। দিনে সাত-ঘণ্টা একই জায়গায় বসে কাজ করলে তাঁদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের জোগান কম হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাঝে মাঝেই সিট ছেড়ে উঠুন, হাঁটাহাঁটি করে আসুন।

বদ্ধ ঘরে সারা ক্ষণ এসি চালিয়ে বসে থাকেন? তা হলেও সাবধান হোন। মাঝে মাঝেই খুলে দিন জানালা। বাইরের হাওয়াবাতাস ঢুকতে দিন ঘরে। ঘরের ভিতরের হাওয়া যাতে দূষিত না থাকে সে দিকেও নজর দিন। বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে যা যা করণীয়, তা করুন। বায়ুদূষণও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

খাবার পাতে দুগ্ধজাত জিনিস রাখুন। যাঁরা ল্যাকটোজেন সহ্য করতে পারেন না, তাঁরাও এর বিকল্প কোনও খাবার জেনে নিন চিকিৎসকের থেকে। দুধ থেকে তৈরি জিনিস প্রতি দিন পাতে রাখলে তা স্ট্রোকের শঙ্কা ঠেকায়অনেকটাই।

ভিটামিন ডি-এর উৎকৃষ্টতম ও প্রায় একমাত্র উৎস সূর্যালোক । সারা ক্ষণ এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে সূর্যের আলো লাগান শরীরে। ভিটামিন ডি-এর অভাবও স্ট্রোক ডেকে আনে। ভিটামিন ডি-এর অভাব হাড়ের অসুখেরও অন্যতম কারণ। এর অভাব ঘোচাতে বেশ কিছু ওষুধও মেলে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খেতে পারেন সে সব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − fourteen =