বান্দরবান বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবান ৩০০ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্কাইপি বন্ধ করে দেওয়ার পর অন্য প্রসেস এর মাধ্যমে লন্ডনে বসে তারেক রহমান বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৩ জনের সাক্ষাৎকার নেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর স্কাইপির মাধ্যমে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত হলেও সোমবার দুপুরের পর স্কাইপি বন্ধ হয়ে যায়।

মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এস এম সরোয়ার আলম, বান্দরবান জেলা বিএনপি সভাপতি ম্যা মাচিং, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র আমির হোসেন, থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য লুসাই মং, বিএনপি নেতা মাহতুল হোসেন যত্ন, মহিলা বিএনপির সভানেত্রী নিলুফা তাজ, সাধারণ সম্পাদিকা উম্মে কুলসুম, নু মংপ্রু, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ।

সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্যাতিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি নির্বাচন ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দেলনের কথা বলেছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষে হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশা করেন তাকে মনোনয়ন দিয়ে শতভাগ নির্বাচিত হয়ে ৩০০ নং আসনটি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উপহার দেবেন।

বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির জেরী  ম্যা মাচিং গ্রুপের মধ্যে নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব আছে বহু বছর ধরে। আবার এরা দুজনেই সম্পর্কে মামি-ভাগ্নে ও বোমাং রাজপরিবারের সদস্য। মাম্যাচিং, জাবেদ রেজা একই  গ্রুপের হলেও অন্যরা প্রায় সবাই সাচিং প্রু জেরী গ্রুপের।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে মাম্যাচিংকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও সাচিং প্রু জেরী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর নির্বাচিত হন।

সাচিং প্রু জেরী এ পর্যন্ত ৪ বার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন এর মধ্যে ৩ বার দলীয় প্রার্থী হিসেবে ও একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে। ১৯৯৬ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

ম্যা মাচিং, সাচিং প্রু জেরী ও জাবেদ রেজা এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানাগেছে। অন্যরা সবাই বান্দরবানে ফিরেছেন বলে সূত্র জানিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ম্যা মাচিং- সাচিং প্রু জেরী অগ্রধিকার পাবেন। দলের পক্ষে নির্বাচনে যে কোন একজন অংশ নেবেন। নির্বাচনে তাদের মধ্যে ঐক্য না হলে বরাবরের মত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে রয়ে যাবে।

তাদের স্ব স্ব গ্রুপের নেতা কর্মীরা অধীর আগ্রহে আছেন কাকে দল থেকে মনোনয়ন দেবেন। কাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিবেন।

বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + 7 =

আরও পড়ুন