বাঘাইছড়িতে উপজাতি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৭, আহত ১৬

আপডেট

নিউজ ডেস্ক:

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক মাচালং ও বাঘাইহাট ভোট কেন্দ্র থেকে উপজেলায় ফেরার সময় উপজাতি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশ ফায়ারে ৬ জন ঘটনাস্থলে এবং পরে আরও একজন নিহত ও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার মারিশ্যা নয়কিলো নামক স্থানে পৌছালে উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক এ্যাম্বুশের মধ্যে পতিত হয়।

জানা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক মাচালং ও বাঘাইহাট ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট কার্যক্রম শেষে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দ বাঘাইছড়ি উপজেলায় ফিরছিলেন।

এসময় সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ৬ জন ঘটনাস্থলেই এবং পরে আরও একজন মারা যায়। এছাড়াও  ১৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। হতাহতদের মধ্যে বেশির ভাগই আনসার বাহিনীর নারী ও পুলিশ সদস্য। এছাড়াও ভোটগ্রহণকারী বেসামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছে।

বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ৭ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত যাদের নাম নিশ্চিত হওয়া যায় তারা হলেন- আনসার-ভিডিপি সদস্য মো, আল আমিন, বিলকিস, জাহানারা, মন্টু চাকমা, মিহির কান্তি দত্ত, মো. আমির হোসেন (শিক্ষক কিশোলয় প্রাথমিক বিদ্যালয়), সহকারী শিক্ষক আবু তোয়েব।

বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের ওসি এমএ মনজুর জানিয়েছেন, সাজেক ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তারা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিজিবি প্রহরায় চাঁদের গাড়ি (জিপ) করে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের গাড়িতে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়িতে থাকা কর্মকর্তাদের নামানোর পর একে একে গুলিবিদ্ধরা মারা যান।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর জানিয়েছেন, বাঘাইছড়ির কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে তাৎক্ষণিক তিনজন নিহত হন। হাসপাতালে আরো চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আরও ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের সেনাবাহিনী উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সিএমএইচ এনেছে। মুমূর্ষুদের চট্টগ্রাম সিএমএইচ থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, তিনটি কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে তারা সবাই ফিরছিলেন। তখন তাদের ওপর নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটে।

এ বিষয়ে নিবার্চনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জন নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলার জন্য জনসংহতি সমিতি ( সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফকে (প্রসিত) দায়ী করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ওই এলাকায় আমাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম বা অবস্থান নেই। ওইটা পুরোটাই ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। আমরা যেহেতু সকালেই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, আমরা কেন এমন কাজ করবো। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের আস্থা আছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফের (প্রসিত) মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই নির্বাচনে আমাদের এখানে কোনো প্রার্থীও ছিল না। আমরা কেন এ কাজ করতে যাব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + eight =

আরও পড়ুন