বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান যারা

আবদুল মাবুদ, বাঘাইছড়ি  প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে চলছে ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে নানা গুঞ্জন। কেউ কাগজে কলমে হিসাব করছেন। আবার কেউ এলাকা দখলে নিয়ে চলছে বিরাট হিসাব নিকাশ।

যে দল বেশি এলাকা দখল নিতে পারবে সে দলের জয়ের অনেকটা সম্ভাবনা বেশি মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। আবার অনেকে মনে করেন বাঙালিদের ভোটে নির্বাচিত হবেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। বাঙালিদের ভোট যে বেশি টানতে পারবে সে হবে উপজেলা চেয়ারম্যান। আঞ্চলিক দলগুলো ইতোমধ্যেই বাঙালিদের কাছে ফোনে শুভেচ্ছা  বিনিময় ও দোয়া চাচ্ছেন অনেক প্রার্থীরা।

বাঙালীদের মধ্যে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বাঘাইহাট বর্জন ইস্যুটি বাঙালী ভোটারদের মাঝে প্রাধান্য পাবে। বাঘাইহাট বাজার বাঙালীদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। যে ব্যক্তি বা দল বাঘাইহাট বাজার বর্জন করে তাদের কষ্ট দিচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে বাঙালী ভোটারগণ ভোটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে আঞ্চলিক দল থেকে ৩ জনের নাম শোনা গেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ  থেকে কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি। তবে বাঙালিদের একজন স্বতন্ত্র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।

২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন জেএসএস এমএনলারমা দলের প্রার্থী সুদর্শন চাকমা। ২০১৪ সালে তিনি আবার নির্বাচন করলেও জেএসএস এমএনলারমা ও ইউপিডিএফ মধ্য সমঝোতা না হওয়া দুই দলের মধ্যেকার কোন্দলে জেএসএস সন্তু দলের প্রার্থী বড়ঋষি চাকমার কাছে হেরে যান সুদর্শন চাকমা। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হচ্ছেন হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থী।

জেএসএস(এমএনলারমা)  দলে থেকে এবারও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার নাম শোনা যাচ্ছে। দলের অনেক সিনিয়র নেতারা সুদর্শন চাকমার নামটি নিশ্চিত করেন। তবে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগজেএসএস(সংস্কার) এর মধ্যে দৃশ্যমান অঘোষিত সমঝোতা উপজেলা নির্বাচনেও বহাল থাকবে কিনা, থাকলে তার অনুকুলে যাবে- তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো সূত্র।

জেএসএস (সন্তু) দল থেকে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা আবারও নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে । জেএসএস দলের একাধিক নেতা বড়ঋষিকে সমর্থন করেছেন বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।

ইউপিডিএফ প্রসিত থেকে একজন নির্বাচন করবেন বলে এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও প্রার্থীর নাম এখনো চুড়ান্ত হয়নি। কিছু দিনের মধ্য নাম চুড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে জেএসএস(সন্তু) ও ইউপিডিএফ(প্রসীতের) মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা বহাল থাকলে শেষ পর্যন্ত এই দুই সংগঠন থেকে একক প্রার্থিও দেখা যেতে পারে।

ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে রয়েছেন দুই বারের নির্বাচিত দীপ্তিমান চাকমা।  তিনি আবারো নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

ভাইস চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাইযুম এর নাম এবার শোনা যাচ্ছে । ২০১৪ সালে তিনি দীপ্তিমান চাকমার  কাছে হেরে যান। তিনি আবারো নির্বাচন করবেন বলে লোকের মুখে শোনা যাচ্ছে।

খেদারমার থেকে বিল্টু চাকমা নামে এক জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি এবার ভাইস চেয়ারম্যানে নির্বাচন করবেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০০৯ সালে সুমিতা চাকমাকে পরাজিত করে সাগরিকা চাকমা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালে তিনি নির্বাচন করতে চাইলেও আঞ্চলিক দলের বাঁধার মুখে তিনি আর নির্বাচন করতে পারেনি। তিনি এবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় সুমিতা চাকমা। তিনি আবারো ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে আঞ্চলিক দলের মধ্য আধিপত্য বিস্তার, এলাকা দখল, উপদলীয় কোন্দলসহ নানা  জটিল সমীকরণ। তবে এবার উপজেলা নির্বাচনে পাহাড়িদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তেমনটা থাকবে না। আঞ্চলিক দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে  চিন্তা ভাবনা করে প্রার্থী পরিবর্তনও করা হতে পারে। তবে সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী তফসিল পর্যন্ত।

তবে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে প্রার্থিরা মাঠে সরগরম থাকলেও প্রকাশ্যে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে কেউ রাজী হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা নির্বাচন

One Reply to “বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান যারা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − 2 =

আরও পড়ুন