বান্দরবানে বাড়ছে নতুন সম্ভাবনাময় ফসল কাজু বাদাম

fec-image

গ্রামে কিছুদিন আগেও ‘কাজু বাদাম’ সম্পর্কে তেমন জানতেন না অনেকে। তবে গ্রামের মানুষ এই ফলটিকে আমের ভাই বা ‘টাম’ নামে অতিপরিচিত।

সম্প্রতি এই নতুন সম্ভাবনাময় ফসল কাজু বাদামের চাহিদা বেড়েছে বান্দরবানে। যার কারণে গত ৪-৫ বছর ধরে জেলায় পাহাড়ি ঢালুতে সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজু বাদাম চাষ শুরু করেছে চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে গত বছর জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় ৭০৮ মে.টন কাজু বাদাম উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছর ৬ উপজেলায় ৪১১ হেক্টর জমিতে কাজু বাদাম চাষ হয়েছে।

এই এলাকার কৃষকদের মাঝে কৃষিপণ্যের মধ্যে ইতোমধ্যেই কাজু বাদাম বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। পাহাড়ি ঢালে ঢালে আম বাগানের পাশাপাশি কাজু বাদাম চাষ করছে কৃষকরা।

সরেজমিনে জেলার রুমা উপজেলার বটতলী পাড়া ঘুরে জানা যায়, এই গ্রামে প্রতিটি ঘরেই কম বেশি কাজু বাদাম বাগান চাষ রয়েছে। এছাড়াও ওই উপজেলার বেটলপাড়া, বটতলীপাড়া, মুনলাইপাড়া, আমতলী, ময়ূরপাড়া ও পলিতং-এ কাজু বাদাম চাষ রয়েছে।

বটতলী পাড়ার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই পাড়ায় ৮০ পরিবার রয়েছে। পাড়ার সবাই কম বেশি কাজু বাদাম চাষ করেন।

পাড়ার বাসিন্দা উক্য চিং মারমা জানান- তিনি ৫একর জায়গায় কাজু বাদাম চাষ করেছেন। গত বছর ১৫মন ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ মন ফলন হবে বলে আশা করছেন। তিনি আরো জানান- অন্য চাষের মত কাজু বাদাম চাষে তেমন শ্রম ও টেনশন ভোগতে হয়না। যার কারণে এই চাষের দিকে মানুষ দিন দিন ঝুঁকছে।

গ্রামের অপর বাসিন্দা মংনু অং জানান- প্রতিমন কাজু বাদাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলন নিয়ে বাজারে গিয়ে বসে থাকতে হয়না। পাইকারী ক্রেতারা পাড়ায় এসে কাজু বাদাম নিয়ে যান। গেল বছর তিনি ৬০হাজার টাকার ফলন বিক্রি করেছেন, চলতি বছর লক্ষাধিক টাকার কাজু বাদাম বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন।
পাড়ার বাসিন্দা মমি বম ফলন নিয়ে খুশি হলেও আক্ষেপ করে বলেন- কাজু বাদাম চাষ করতে গিয়ে সরকারের কোন বিভাগ তাদের কোন ধরনের সহায়তা করেনা। তামাক চাষের মতো পাহাড়ীরা মানুষ থেকে আগাম দাদন নিয়ে চাষ করে থাকে। সরকারি ঋণ বা সহায়তা পেলে কাজু বাদাম চাষ আরো সমৃদ্ধি হতো বলে মনে করেন তিনি।

তবে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, কাজু বাদামের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব থানছিতে একটি মতবিনিময় সভা করেছেন।

বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় প্রকল্প প্রণয়নের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অনুকূলে কৃষকদের উন্নতমানের চারা সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের প্রসেসিং মেশিন স্থাপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের বিকল্প ফসল হিসেবে কাজু বাদাম চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × three =

আরও পড়ুন