বান্দরবানে মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ বৌদ্ধ ভিক্ষুর

fec-image

বান্দরবানে এক সাধারণ বুদ্ধ ভিক্ষুকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন সাংবাদিক পরিচয় ধারী এক মানবাধিকার কর্মী। মানুষের কাছ থেকে নানা কৌশলে চাঁদা আদায় করে আসছেন মহিবুল্লাহ মহিব চৌধুরী নামে এই ব্যক্তি।

সম্প্রতি এক সাধারণ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে নানাভাবে হয়রানি করে ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ভয় দেখিয়ে তার থেকে বড় অংকের টাকা দাবি করে মহিবুল্লাহ মহিব। যিনি তার কার্য হাসিল করার জন্য কোন সময় মানবাধিকার কর্মী, কোন সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সাধারণ এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাছ থেকে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন তৎপরতার ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলে ফেসবুক, গণমাধ্যম ও অন্যান্য জায়গায় বৌদ্ধ ভিক্ষুর কিছু তোলা ভিডিও ও ছবি খারাপভাবে উপস্থাপন করে ছেড়ে দিবেন বলে হুমকি দেন।

মহিবুল্লাহ মহিব বৌদ্ধ ভিক্ষুকে বলেন, ১৮ তারিখের মধ্যে তার দাবিকৃত বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভিতরে গোপনে একা হাজির হওয়ার জন্য।

ভান্তে কদঞে থের অভিযোগ করেন গত (২১ মে) মাহ্লা উ চৌধুরীসহ আরো দুইজন বান্দরবান শহরের পাসপোর্ট অফিস না চেনার কারনে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য আমার কাছে সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাদের পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে কাজ শেষে শহরের বনফুল ফাস্ট ফুড দোকানে নাস্তা খাওয়ার সময় বিবাদী আমাদের কয়েকটি ছবি তুলে। কৌশলে আমার ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে আমার কাছে চাঁদা দাবী করে। এই সময় সে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, আপনি নারী পাচারকারী। আমাকে দেড় লক্ষ টাকা না দিলে আমার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে দিবে। এক পর্যায়ে সে তাকে ডিজিএফআইয়ের লোক দাবি করেন।

মুহিবুল্লা বলেন চাঁদা দিতে না পারলে তোমার ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিব এবং সে আমাকে ডিজিএফআই এর লোকসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে দফায় দফায় আমার কাছে টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন তার কারণেই আমি থানায় অভিযোগ করেছি।

বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেন আমি এক সাধারণ ভান্তে। মানুষের সেবা মূলক কাজ ও ধর্মের পথে আমি সারাটা দিন ব্যয় করি ও মানুষকে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান দান করি। আমার মত সাধারণ এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হুমকি দিয়ে তিনি টাকা আদায়ের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন।তাই আমি সকল মিডিয়া কর্মী এবং প্রশাসনিক সকল ব্যক্তিবর্গের কাছে এই প্রতারক চাঁদাবাজ মহিবুল্লার হাত থেকে বাঁচার জন্য সকলের সহযোগিতা ও সাহায্য কামনা করছি। সে আমার মতো নিরীহ কোন মানুষকে যেন আর এই ধরনের হয়রানি করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি। সকল মিডিয়াকর্মীদের আমার পাশে থাকার জন্য আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার পুলিশ কর্মকতা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এইছ এম মহিবুল্লাহ চৌধুরী শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি তার নাম্বার থেকে ফোন করে চাঁদাবাদী করেছে।আমরাও এই ধরনের কথা শুনেছি তবে আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি আশা করছি খুব দ্রুত সত্য উদঘাটন করে আমরা অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করব।

ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান, মহিবুল্লাহ মহিব চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =

আরও পড়ুন