বান্দরবানে ১১ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান:

বান্দরবানে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়াও জাতীয়করণ না হওয়ায় সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। এই অবস্থায় স্কুল সমূহ জাতীয়করণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়গুলো হলো বান্দরবান সদরের খমঙখ্যংওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম্পু পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মশাবনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেব্রন পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  লামা উপজেলার ধুইল্যা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুনারঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , মেরেঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর নাইক্ষংছড়ি উপজেলার শৈলশক্তি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোমখোলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাপ্ত তথ‌্য মতে জানা যায়, সারাদেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়ে গেলেও বান্দরবানের ১১টি বিদ্যালয় এখনো বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব স্কুলে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের অভাব, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীদের, আবার উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বাবা মায়ের স্বল্প আয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে না দুর্গম পাহাড়ের অনেক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

সরেজমিনে লামা উপজেলার ধুইল্যা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীদের। এক বেঞ্চে ৫ থেকে ৬ জনকে একসাথে বসে আমাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে হয়, আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বান্দরবান সদর উপজেলার মশাবনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ক্যসিং শৈ র্মামা বলেন, আমরা সরকারি কোন উপবৃত্তির টাকা পায় না, উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বাবা মায়ের স্বল্প আয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছি না।

শিক্ষকরা জানান, ২০১২ সালে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়কে সরকারিভাবে পরিচালনা করা হবে বলে ঘোষণা দেন, আর সেই ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পরে ও শিক্ষা বিভাগের তদারকির অভাবে এখনো বান্দরবানের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে, আর এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

বান্দরবানের লামা উপজেলার নুনারঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শাহনাজ পারভীন জানান, শিক্ষা বিভাগের তদারকির অভাবে এখনো বান্দরবানের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে, আর এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে, বেতন না নিয়ে বিদ্যালয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।

বান্দরবান সদর উপজেলার মশাবনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল হাই বলেন, আমরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক কষ্টে আছি। আমরা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই শীঘ্রই যেন পার্বত্য এলাকার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে এবং কিছু পরিমাণ বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি, তবে শীঘ্রই পার্বত্য জেলার এই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় চলে আসবে।

বান্দরবানের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, আর আমরা বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিস জেলার শিক্ষার মান রক্ষায় সার্বিক তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান আরো জানান, আমাদের বান্দরবানে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জাতীয়করণ হয়নি, তবে আশাকরি শীঘ্রই সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে যাচাই বাছাই করে জাতীয়করণ করা হবে।

One Reply to “বান্দরবানে ১১ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + one =

আরও পড়ুন