বাল্য বিয়ে দিতে পেরে আইনজীবীর শোকরিয়া আদায়!

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় ১২ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীর বাল্য বিয়ে দিতে পেরে শোকরিয়া আদায় করেছে এক আইনজীবী।

উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী মো. ফিরোজ আহমদ ভান্ডারী এই কাজটি করেছেন।

কাজটি করেই ক্ষান্ত হননি বরং শোকরিয়া জানিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক প্রত্রিকায় (আজকের কক্সবাজার) ৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাখ্যা প্রদানের নামে প্রচারও করেন।

অবশ্য আইন বিরোধী কাজটি করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত ২ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমান আদলতের মাধ্যমে আইনজীবীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অর্থ অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

একই সাথে বরের পিতা, কনের বাবা-মাকেও মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিজ্ঞ আদালত।

এ সংবাদটি স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী পত্রিকায় প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো চাঁদা দাবীর মিথ্যা অভিযোগ তোলে ওই আইনজীবী।

উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওমর ফারুক জানান, ডিআর তথ্য অনুযায়ী লেমশীখালী বশির উল্লাহ সিকদার পাড়ার নুর আবছারের মেয়ে আসমা বেগম ২০১৭ সালে স্থানীয় পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সনদে জন্ম তারিখ ১৭.০৭.২০০৭ ইং উল্লেখ আছে বলেও তিনি জানান।

জানা যায়, আসমা বেগম আল ফারুক দাখিল মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায়  গত বছর ২১ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আনু মিয়াজির পাড়ার মোস্তাক আহমদের পুত্র ২ সন্তানের জনক হেলালের সাথে বিয়ে ঠিক করা হয়। বিষয়টি কনে নিজেই প্রতিবেশীর মাধ্যমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোয়ারা বেগমকে জানালে তাৎক্ষণিক বিয়েটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। একই সাথে কনের মা-বাবার কাছ থেকে বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা নেয়া হলেও দু’সপ্তাহ পরেই কনের মা রোকসানা বেগম গোপনে মেয়ের আক্দ করান।

মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে গত ২ ফেব্রয়ারি পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২৯ জানুয়ারি কুতুবদিয়া আদালতের আইনজীবী ফিরোজ আহমদ ভান্ডারী মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে লেমশীখালী  ইউনিয়নের নিবন্ধন ফরমে কনের নাম আংশিক পরিবর্তন (আসমউল হুসনা) করে জন্ম সাল ২০০০ দেখিয়ে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে কাবিননামা করে দেন। নকল নিবন্ধন নম্বর-২০০০২২১৪৫৬৭০২১৬২৫।

লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা জসীম উদ্দিন বলেন, এটি নকল জন্ম সনদ। কম্পিউটারে বয়স, সাল বসিয়ে নকল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস বলেন, আইনজীবী ফিরোজ আহমদ বহু বির্তকের ঘটনার সৃষ্টিকারী। অহেতুক নিরীহ মানুষকে হয়রানীমূলক মামলা, অভিযোগও করে থাকেন। কিছু দিন আগেও একজন মক্কেলের মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টায় জনতার বিক্ষোভের মুখে আটক হয়ে জেলও খাটেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জেলা গোয়েন্দা শাখার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলেও জানান ওসি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, বাল্য বিয়ে সম্পন্ন  করতে ভূয়া জন্মসনদ সৃষ্টি করে কাবিননামা করতে সহযোগীতা করায় আইনজীবী ফিরোজ আহমদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।

এর আগেও একই বিষয়ে মোবাইল কোর্টের একটি আদেশকে অবজ্ঞা করেন তিনি। এই আদেশকে তিনি বেআইনী, বাল্য বিয়ে আইনের অপ-প্রয়োগসহ নানা কথা উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারও করেন।

এই আইজীবীর নানা বির্তকের কারণে অন্যান্য আইনজীবীগণও বিব্রত বলে একাধিক সিনিয়র আইজীবী জানান।

আইনজীবী ফিরোজ আহমদ ভান্ডারী ১২ বছরের শিশু আসমাকে প্রাপ্ত বয়স্ক দাবি করে বলেন, তিনি গত ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদন করে অবলা নারীর স্বামীর সেবা করা আইনগত বৈধতা সৃষ্টি করে দিতে পারায়  মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইনজীবীর শোকরিয়া আদায়, কুতুবদিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − twelve =

আরও পড়ুন