“দাবি আদায়ে আগামী ৯ জুন সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচি দিয়েছে সংগঠনটি।”

বাসন্তী চাকমাকে এলাকা ছাড়ার দাবীতে খাগড়াছড়িতে ঝাড়ু মিছিল

fec-image

বাসন্তী চাকমাকে উগ্র সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করে ও তার বক্তব্যকে অসাংবিধানিক মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে তা প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান।

 

সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার খাগড়াছড়ি আসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতীয় সংসদের তার দেওয়া সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের প্রতিবাদে ও বাসন্তী চাকমা এমপি-কে এলাকা ছাড়ার দাবীতে শুক্রবার পার্বত্য অধিকার ফোরাম খাগড়াছড়িতে ঝাড়ু  মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। ফলে পর্যটকসহ হাজারো যাত্রী চরম দূর্ভোগের শিকার হয়।

দাবি আদায়ে আগামী ৯ জুন সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচি দিয়েছে সংগঠনটি। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। অবরোধ চলাকালে বৃষ্টি নামলেও রাস্তা ছাড়েনি নেতাকর্মীরা।

পার্বত্য অধিকার ফোরাম বাসন্তী চাকমাকে উগ্র সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করে ও তার বক্তব্যকে অসাংবিধানিক মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে তা প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান।

এর আগে খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার থেকে একটি ঝাড়ু মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের মহাজন পাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা বাসন্তী চাকমা এমপিকে এলাকা ছাড়ার দাবীতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান ও আগামী ৯ জুন রবিবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচী হুমকি দেয়।

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈন উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, মাটিরাঙা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শাখার পার্বত্য অধিকার ফোরামে সদস্য সচিব আনিসুজ্জামান ডালিম, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাহাবুদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক এস এম হেলালসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বাসন্তী চাকমাকে উগ্র সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করে ও তার বক্তব্যকে অসাংবিধানিক মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে তা প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবীতে জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে উপর আঘাত করে এমপি বাসন্তী চাকমা শপথের লংঘন করেছেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত শতকারা ৫১ শতাংশ বাঙ্গালী সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে অপবাদমূলক, মিথ্য ও বানোয়াট কল্পকাহিনী তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের মূল অংশ ছিলো উগ্র সাম্প্রদায়িক।

১৯৯৬ সালের ১লা মে নিয়ে সংসদে বাসন্তি চাকমা যে বক্তব্য রেখেছেন, তা ছিল সম্পূর্ন অসত্য। তার কথার কোন ভিত্তি নেই। সেদিন জেলার পানছড়িতে এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি। তার বক্তব্যে তৎকালীন গেরিলা নেতা সন্তু লারমার শান্তিবাহিনীর খুনিদের ভাই সম্বোধন করলেও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে খুনী ও বাঙ্গালীদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

বাসন্তি চাকমা সংসদে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অমান্য করে শান্তিবাহিনী সৃষ্টির ইতিহাস তুলে না ধরে শান্তিবাহিনীর সদস্যদের নিজের ভাই বলে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের লেভেল গায়ে দিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থেকে মূলত সাম্প্রদায়িক আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার ছিলেন।

বাসন্তি চাকমার জাতীয় সংসদের দেওয়া বক্তব্যে শান্তিবাহিনীর কোন্দলে সন্তু ও প্রীতি গ্রুপের দ্বন্দ্বে বহু সাধারণ উপজাতীয়দের জীবননাশের কথা বললেও সুকৌশলে তিনি বাঙ্গালী গসহত্যার কথা এড়িয়ে গিয়ে বাঙ্গালীদের বহিরাগত ও সেটেলার বলে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বিষোদগার করেছেন। সন্ত্রাসীদের আবারো পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির দিকে উৎসাহিত করছেন।

প্রসঙ্গত. গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মহান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা সেনাবাহিনী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে বক্তব্য রাখেন। সে থেকে বাঙালিরা বাসন্তী চাকমা এমপিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়িতে, ঝাড়ু মিছিল, বাসন্তী চাকমাকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =

আরও পড়ুন