“বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান য়ই সা প্রু মারমা বলেন, বর্তমানে তাইংখালী এলাকায় এমন অবস্থা বিরাজ করছে যেখানে সন্ধ্যার পর কোন পুরুষ নিজ বাড়িতে থাকছে না। খুন, গুমের কারণে মানুষ আতংকে আছে।”
সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলছেনা এলাকাবাসী

ভয়ে আতঙ্কে এলাকা ছাড়া বান্দরবানে কুহালং ও রাজবিলার মানুষ

কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা বলেছেন, সাধারণ নাগরিকের মতো তিনি নিজেও ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন। ঠিকমত এলাকায় যেতে পারছেন না

বান্দরবানের কুহালং ও রাজবিলায় একের পর এক খুন, অপহরণের পর গুম এবং হামলার ঘটনা ক্রমেই র্দীঘ হচ্ছে। যারা খুন ও গুম হয়েছে তারা সবাই এলাকায় সাধারণ ও নিরীহ হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের দেহ ছিল আঘাতে ক্ষত বিক্ষত, কেউ গুলিবিদ্ধ, আবার কাউকে খুজেঁই পাওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় বান্দরবানের রাজবিলা ও কুহালং ইউনিয়নের অন্তত ১০টি এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ। একটু বিত্তশালীরা নিজ এলাকাকে নিরাপদ মনে করছেন না। প্রাণ বাঁচাতে তাদের অনেকে গ্রাম ছেড়ে জেলা সদরে ভাড়া বাসায় আবার অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে নিরুপায় নিম্নবিত্তরা দূর্গম এলাকায় রয়েছেন আতংকে।

সম্প্র্রতি একাধিক খুন ও অপহরণ ঘটনার পর উপদ্রুত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে আতঙ্কের কথা জানালেও ভয়ে নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

বৃহস্পতিবার জেলার বুড়িপাড়া উপরপাড়া, জর্দানপাড়া, উজিপাড়া, ত্রিপুরাপাড়া ঘুরে জানা গেছে, গত এক মাস যাবৎ এখানে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা সহিংস ঘটনা। কোন গ্রামে জেএসএস, আবার কোন কোন গ্রামে মগ লিবারেশন পার্টির আধিপত্য রয়েছে। যার কারণে পাড়াবাসীরা প্রাণ ভয়ে, আবার কেউ অনেকটা গোপনে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

উজিপাড়া থেকে গত বুধবার আওয়ামী লীগ নেতা চথোয়াই মারমাকে অপহরণ করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। স্থানীয়রা আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে জানান, অপহরণের পর তাকে ত্রিপুরা পাড়া হয়ে বুড়িপাড়ার দিকে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই ধারণা থেকে সন্দেহভাজন এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো কোন কুল কিনারা করতে পারেনি তারা।

সরেজমিনে এসব গ্রামের একাধিক জনসাধারণের সাথে কথা বললে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানায়। কিন্তু তাদের চোখে মুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। বোঝা যাচ্ছিল, সন্ত্রাসীদের ভয়েই তারা এমন কথা বলছে বা বলতে বাধ্য হচ্ছে।

বুড়িপাড়া এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করা এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রায়সময় ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে যান। গত দু’সপ্তাহ আগে ভারী অস্ত্রধারী প্রায় ২০-২৫জনের একটি উপজাতীয় পোশাকধারী বাহিনীকে মূল সড়ক দিয়ে উপরপাড়ার দিকে যেতে দেখেছেন তিনি। কিন্তু সেই পাড়ার একাধিক উপজাতীয় বাসিন্দা এ তথ্য স্বীকার করেননি।

এই প্রসঙ্গে ২নং কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা বলেছেন, সাধারণ নাগরিকের মতো তিনি নিজেও ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন। ঠিকমত এলাকায় যেতে পারছেন না।

তিনি বলেন, বান্দরবান সম্প্রীতির জায়গা, আমরা চাইনা এখানে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব হউক। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি দাবী জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান য়ই সা প্রু মারমা বলেন, বর্তমানে তাইংখালী এলাকায় এমন অবস্থা বিরাজ করছে যেখানে সন্ধ্যার পর কোন পুরুষ নিজ বাড়িতে থাকছে না। খুন, গুমের কারণে মানুষ আতংকে আছে।

আমরা এমন অশান্তির পরিবেশ চাই না। আমি একজন নারী হিসেবে চাইনা, কোন স্ত্রী স্বামীকে হারাক, কোন সন্তান তার বাবাকে হারাক, কোন বোন তার ভাইকে হারাক- তা আমরা চাই না। এই পরিস্থিতিতে আইন শৃংখলা বাহিনীর আরো জোরালো ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =

আরও পড়ুন