মাতারবাড়ীর ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের চেক এলএ অফিসে, ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

fec-image

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসন, শ্রমিকদের এককালিন ক্ষতিপূরণ ও টপআপের চেকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীর টাকা বিতরণের জন্য কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ এলাকায় পৌঁছলে পুরো মাতারবাড়ী বাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ আর হতাশা। এমনকি পুরো মাতারবাড়ীতে চলছে তুষের আগুন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়া নামে খ্যাত মাতারবাড়ীবাসীর এক মাত্র আয়ের উৎস লবণ ও চিংড়ি জমি। ২টি ইউনিটের মাধ্যমে ১২শত মেগাওয়াট ক্ষয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪ সালে সরকার ১৪১৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে উক্ত জমিতে চলছে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এতে বেকার হয়ে পড়েছে বর্গা চাষী, লবণ শ্রমিক, দাদন ব্যবসায়ী, লবণ পরিবহন শ্রমিক, আড়ৎদার, ট্রলার মালিক, ট্রলার শ্রমিকসহ ২২ ক্যাটাগরীর লোক।

জমির মালিকরা বিভিন্ন কাগজপত্র ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে দায়ের করার পরও শতকরা দালালদের মাধ্যমে অফিসকে দিতে হয় ২০ থেকে ৩০ ভাগ। এভাবে জমির মালিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও দালালদের হয়রানী থেকে জমির মালিকদের রক্ষা করতে সরকার দফায় দফায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দালালদের জেলে পাঠালেও হয়রানী থামছে না।

এ অবস্থায় মালিক ও শ্রমিকদেরকে হয়রানী থেকে রক্ষা করতে এককালীন পূণর্বাসনের টাকা মাতারবাড়ীস্থ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় পৃথক পৃথক ভাবে সম্প্রতি কিছু কিছু চেকও বিতরণ করেছেন। কিন্তু এ সিন্ধান্ত পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূনর্বাসন টাকাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীর ক্ষতি পুরণের টাকা কক্সবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের মাধ্যমে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জমির মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে হৈ চৈ পড়ে যায়। পুরো মাতারবাড়ীতে চলছে ক্ষোভ আর হতাশা।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য বশির আহামদসহ আরও কয়েকেজনের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা বলেন, কক্সবাজার এলও অফিসে টাকা দেয়ার চেয়ে মাতারবাড়ীবাসীকে পুঁড়িয়ে মারা বহু শ্রেয় ছিলা।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, পূনর্বাসন টপআপসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীর চেক বিতরণের কার্য্যক্রম কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে কোন অবস্থাতে নিতে দেয়া হবে না। কারণ কক্সবাজার ভূমি অফিসের হয়রানি দেখলে মনে হয় মাতারবাড়ীবাসীর উপর চলছে মগের মুল্লুকের শাসন।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ীর কোন ভূমির মালিক ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদের ফাইল ফেলে রাখা হয় হিমাগারে। ফলে তাদের এ অত্যাচার চোখে দেখেও নিরবে সহ্য করে যাচ্ছে মাতারবাড়ীবাসী। এ অবস্থায় মাতারবাড়ীবাসীকে আরও দূর্ভোগে ঠেলে দেয়ার জন্য একটি চক্র পূনর্বাসন কার্যক্রম কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। তা কোন অবস্থাতে মেনে নেব না। ক্ষতিগ্রস্থ ২২ ক্যাটাগরীর পূনর্বাসনের টাকা মাতারবাড়ীতে বসে দিতে হবে।

এদিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু হায়দার থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি সর্ব প্রথম আমার নজরে আসলে সাথে সাথে আমি কোল-পাওয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানাই। এবং তাৎক্ষনিকভাবে সাংসদ অালহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিককে বিষয়টি অবগত করি।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ১৪১৪ এবং ১২০০ একর কয়লা বিদ্যূত প্রকল্পে পূনর্বাসনের নামে প্রদানকৃত শ্রমিকের টাকা, এককালীন অনুদান, টপ আপসহ সবধরণের টাকা এল এ অফিসে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আম জনতা রেহাই দেবেনা আপনাদের যাদের কারণে এত বড় ক্ষতির সম্মূখীন হতে যাচ্ছে মাতারবাড়িবাসী।

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 19 =

আরও পড়ুন