মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে

 

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে বিপাকে এ রুটে চলাচলকারী পরিববহনগুলো। ভোগান্তি যাত্রীদেরও। মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে দিন দিন। শুধু তাই নয়, জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথ হিসেবে সমুদ্রসৈকত দিয়ে চলতে হচ্ছে গাড়ি। আর এতে প্রায়েই ঘটছে দুর্ঘটনা। সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের প্রশ্ন একটাই এভাবে আর কতদিন চলবে গাড়ি ? কেন ১০/১২ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে।

‘গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পর্যটন নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহাল দশার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। তাই সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন’।
একথা জানিয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করতে গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনমাসের জন্য এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কক্সবাজার পৌরসভা।

এসময় ভ্রমণে আসা পর্যটক, রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এনজিও সংস্থার যানবাহন শহরের লিংক রোড থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোর্টবাজার হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেই তিনমাস সময় প্রায় ২৯ দিন আগে পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে ভ্রমণে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তির শেষ নেই।

তবে এ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বলছেন, বারবার প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন ও সড়কের ড্রেন নির্মাণে এলাকাবাসীর জমি না ছাড়ার কারণে প্রকল্পের কাজে এ ধীরগতি। আগামী দেড় মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আরসিসি ঢালাই ও একপাশে ড্রেন-দুই ভাগে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হলেও ওইদিন শুধু প্রায় ১৫ জন শ্রমিককে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করতে দেখা গেছে। লাতলী হাঙর ভাস্কর্য মোড় থেকে বেইলি হ্যাচারি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার (১৩শ মিটার) সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন, চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা হেঁটে সেই পথ পাড়ি দিচ্ছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক আহমদ গিয়াস বলেন, আমার বসতি দরিয়া নগর এলাকায়। তাই এখান থেকে শহরের দিকে যেতে আগে সাগরের জোয়ার ভাটা দেখতে হয়। অন্যথায় পাড়ে হেঁটে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

তিনি বলেন, মূলত পর্যটন বিকাশের জন্য মেরিন ড্রাইভ সড়কটি তৈরি করা হলেও এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে এ সড়কের গুরুত্ব হাজার গুণ বেড়ে গেছে। ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিদিন প্রায় ১২শ প্রাইভেটকারসহ শত শত যানবাহন এখন সাগরের বালুচর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। তাই প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা। কিছুদিন আগে দেখা গেছে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক সাগরের পানিতে রীতিমতো ভাসছে।

বালুচরে আটকে পড়ার পরে একপর্যায়ে জোয়ার চলে আসায় ট্রাকটি সাগরের পানিতে ভেসে যায়। পরে ভাটা হলে ট্রাকের ভাঙা বডি উদ্ধার করা হয়। এর আগে আটকা পড়ে একটি মাছের পোনা বোঝাই ট্রাক। এমন দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনের-যোগ করেন আহমদ গিয়াস।

টমটমচালক খালেক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে একবার গাড়ি নিয়ে আসলে গাড়ির একমাসের জীবনহানি হয়। তবুও কি করবো, নিরুপায় হয়ে আসতে হচ্ছে। সামনে বর্ষায় ভোগান্তি আরও বাড়বে। বাড়বে দুর্ঘটনার সংখ্যাও।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান বলেন, দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কলাতলী সড়কের সংস্কার কাজ করছে। আমার আওতাভুক্ত ২শ মিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, অধিক যান চলাচল ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পর্যটন নগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহালদশা হয়েছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। তাই সড়কটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেড় মাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেও জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করেছেন। নির্দেশ দিয়েছেন কাজ দ্রুত শেষ করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =

আরও পড়ুন