রাঙামাটি সদরের ১০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও জেলা সদরের ১০হাজার মানুষ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত। বর্তমান সরকার বারবার বলে আসছে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দিবে কিন্তু রাঙামাটি সদরের মগবান ইউনিয়নের ১০হাজার বাসিন্দা এখনো সেই সুবিধা পাইনি।

এ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবি ছিলো এ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া। অথচ ইউনিয়নটি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হয়েছে অনেক আগে থেকে। এ ইউনিয়নের সাথে জল বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কাপ্তাই উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। দু’টি এলাকার সাথে সড়ক পথে দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটারের মতো। সেই এলাকার বাসিন্দারা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধা পায়নি।

বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার মতো সকল সুবিধা রয়েছে এ ইউনিয়নে। স্থানীয়রাও অর্থনৈতিক ভাবে বেশ স্বাবলম্বী। কিন্তু কোন এক অজানা রহস্য’র কারণে স্বাধীনতার পর থেকে এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

কিন্তু জেলা সদরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের নাম মগবান। কাপ্তাই হ্রদের চারপাশ ঘিরে এ ইউনিয়নটি গড়ে উঠেছে। এ ইউনিয়নে প্রায় ১০হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটির পথ মারিয়ে কাপ্তাই উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব সহজে করা যায়।

এ ইউনিয়নটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার মূল কারণ হলো-  ইউনিয়নটিতে এখন পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে  এখানে থাকা-খাওয়ার জন্য কয়েকটি ভোজনশালা ও কটেজ। এর মধ্যে বড়াদম, বেড়াইন্ন্যা রেস্টুরেন্ট অন্যতম। একদিকে কাপ্তাই হ্রদ অন্যদিকে পাহাড় সব কিছু মিলে একাকার। তাই প্রতিদিন এ এলাকায় হাজার পর্যটকের সমাগম  ঘটছে।

পর্যটকসহ এ এলাকার মানুষের দীর্ঘ বছরের একটি আক্ষেপ; দীর্ঘ বছর ধরে তারা বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশাল এ জনবসতির জীবন-যাপন থমকে যাচ্ছে। এ এলাকা বর্তমানে পর্যটন সম্ভবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। হতে যাচ্ছে পর্যটন ভিত্তিক অর্থনৈতিক একটি অঞ্চল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায়  এ উন্নয়ন ত্বরানিত করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা সবিতা চাকমা জানান- আমরা রাঙামাটির সদরের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে এ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছি। সরকার নাকি বলছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিবে। কিন্তু কখন সেই  বিদ্যুৎ সুবিধা পাবো জানা নেই।

ওই ইউনিয়নের বড়াদম এলাকার বাসিন্দা মিন্টু চাকমা বলেন- আমাদের আক্ষেপের শেষ নেই। বিলাইছড়ি উপজেলার মতো দূর্গম উপজেলায় বিদ্যুত পৌঁছে গেছে অথচ আমাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও এ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই বিষয়টি খুবুই দুঃখজনক।

আরেক বাসিন্দা শষী চাকমা জানান, বর্তমানে আমাদের এলাকাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে সারাদেশে আলাদা ভাবে সুখ্যাতি পেয়ে গেছে। একদিকে পাহাড়ের আঁকাবাকা পথ অন্যদিকে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের নীল জলধারা এ এলাকাটি আলাদা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ভিত্তি করে অনেকে স্থানীয় ভাবে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলেছে। গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যোগে কটেজও।

কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে আমাদের অন্ধকার এলাকা আলোকিত করুক।

এ বিষয়ে রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই এলাকার বাসিন্দা অরুন কান্তি চাকমা জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিলো মগবান ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান। বিদ্যুতের দাবিতে অনেক আন্দোলন করেছি। স্বাধীনতার পরও আমরা বিদ্যুৎ সুবিধা পায়নি।

বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া এবং কৃষিকাজ ব্যাপক বাঁধার সন্মুখীন হচ্ছে।

চেয়ারম্যান জানান, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জেনেছি আমাদের এলাকাকে বিদ্যুত সংযোগের আওতায় আনা হবে। আশাকরি আমাদের দীর্ঘ বছরের আন্দোলন এবার সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × one =

আরও পড়ুন