‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা বন্ধ করতে না পারলে সু চি’র পদত্যাগ করা উচিত’

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার নেত্রী অং সাং সু চি যদি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা বন্ধ করতে না পারেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত বলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান মনে করেন। তিনি বলেন, ‘নোবেল বিজীয় বোনটির ওপর আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে আরো দুই নোবেল বিজয়ীকে নিয়ে গত রবি ও সোমবার বাংলাদেশ সফর করেন কারমান।

মিয়ানমারের রাখাইনে ব্যাপক যৌন সহিংসতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের প্রমান সংগ্রহ করছে বিভিন্ন মানবাধিকার গ্রুপ ও জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। সেখানে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য কয়েক দশক সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সু চি সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হন। মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে কথিত রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জের ধরে ওই অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।

কারমান বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘সত্য কথাটি প্রকাশ না করতে না পারলে তার পদত্যাগ করা উচিত। বর্তমান ভূমিকা একই থাকলে তিনিও সেনাবাহিনীর দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’

২০১১ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান কারমান। তিনি বলেন, সেনা অফিসারদের সঙ্গে সু চি’কেও আন্তর্জাতিক বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। কারণ তিনি বেসামরিক জনগণকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে সু চি’র মুখপাত্রের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এক সেনা মুখপাত্রকে প্রশ্ন করা হলেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। সু চি’র নেতৃত্বাধিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা জানান যে তারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না।

কারমান রয়টার্সকে জানান, তিনি ১৫ জন নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছে যে তাদের স্বামী ও কয়েক সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর হাতি উপর্যুপরি ধর্ষিত হয়েছেন।

কারমান বলেন, ‘আমরা আজ যা শুনেছি তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।’

 

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + nineteen =

আরও পড়ুন