রোহিঙ্গারা কৌশলে মিয়ানমারে যাচ্ছে; নিয়ে আসছে ইয়াবা

fec-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের জন্য আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে লবিং, কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।রোহিঙ্গারা এদেশকে ইয়াবার বাজারে পরিনত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

গত বুধবার ২৬ জুন ভোর রাতে বালুখালী-১৩ ক্যাম্পের বাসিন্দা মো: নুর (২৭) সহ ৫/৬ জন রোহিঙ্গা ইয়াবার চালান নিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ক্যাম্পে ফেরার আগে সীমান্তের রহমতের বিল এলাকায় বালুখালী বিজিপির চোখে পড়ে। এ সময় বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করলে রোহিঙ্গারা বিজিপিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন করে। আত্বরক্ষার্থে বিজিপি ও পালটা গুলি চালালে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি মো: নুর ঘটনাস্থলে মারা যায়। বিজিপি সেখান থেকে ১৫ হাজার ইয়াবা ও দেশীয় তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।

এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ২০১২ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারী মো: নুর জানায় রাখাইনের ডেকিবুনিয়া বলি বাজার, ফকিরা বাজার, নাইঞ্চাদংসহ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে অভিনব কৌশলে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। পরে এ সব ইয়াবা রহমতের বিল সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারী কলিমুল্লাহ লাদেন, থাইংখালী নাজির হোসনের ছেলে মোস্তাক, রহমতের বিল গ্রামের আনার আলীর ছেলে মঞ্জুর, নুর বানু মেম্বারের ছেলে সোহেল, জাবেদ, লাল পুতিয়া, রিয়াজুল হক সোনার পাড়া ডেইল পাড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে ফজল কাদের প্রকাশ ইয়াবা কাদেরের মত গডফাদারদের হাত বেয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। ঐ রোহিঙ্গা নেতা জানায়, তাদের কারণে সমস্ত রোহিঙ্গাকে বদনামের ভাগি হতে হচ্ছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কিছু সংখ্যক এনজিও সংস্থার জামাই আদরে থাকা রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত সীমান্তের বিভিন্ন চোরাপথ দিয়ে রাখাইনে আসা যাওয়া করছে। তাদের মাধ্যমে এখানে ইয়াবার চালান ঢুকছে। তা না হলে স্থানীয়রা এত ইয়াবা পাওয়ার কথা নয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এলাকাকে মাদক মুক্ত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ গ্রহন করার পরদিন থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নড়েচড়ে ওঠে।

শুক্রবার রাতে পালংখালী বলবনিয়া এলাকায় একটি ইয়াবার আস্তানায় হানা দিলে ইয়াবার কারবারিরা বিজিপিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন করে। এ সময় বিজিবি পাল্টা গুলি চালালে ইয়াবা কারবারির আইয়ুব ও একটি শিশু গুলি বিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পালংখালী এলাকায় সারাশি অভিযান অবহ্যত রেখেছে।

উখিয়া থানার অভিসার ইনচার্জ গত ৩ মাসে ৪৫টি ইয়াবার মামলা যে ৯০ জন আসামী আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক। পূর্বাঞ্চলীয় জনপদে গড়ে ওঠা মাদক বিরোধী সংগঠনের নেতা এ্যাডভোকেট এ.টি.এম রশিদ আহম্মদ জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় শতশত রোহিঙ্গা ডেইলপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের যাচ্ছে। এ সব রোহিঙ্গারা ভোর রাতের দিকে মাদক নিয়ে ক্যাম্পে ফিরছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ত্যাগ করার উপর বিধি নিষেধ আরোপ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে কোন অবস্থাতেই মিয়ানমারের যেতে না পারে এবং মিয়ানমার থেকে কোন রোহিঙ্গা এখানে আসতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিপির উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার, রাজাপালং, রোহিঙ্গা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 5 =

আরও পড়ুন