লক্ষ্মীছড়িতে আনন্দ স্কুলের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

image_47007

মোবারক হেসেন, লক্ষ্মীছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় আনন্দ স্কুলের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, চলতি বছর জুলাই মাস থেকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ১০টি স্কুল নিয়ে আনন্দ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থ্যায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনজিও সংস্থা পাপান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ঝড়ে পড়া শিশুদের নিয়ে এ শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে লক্ষ্মীছড়ির ১০টি আনন্দ স্কুলের শিক্ষকদের এক সাথে ৪ মাসের বেতন ও আনুষাঙ্গিক ব্যয়ের বরাদ্দ আসছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। ১০টি স্কুলের বরাদ্ধের পরিমাণ প্রায় ৩লাখ টাকা। তবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষায় অনগ্রসর পশ্চাদপদ এ উপজেলায় এমন একটি মহৎ উদ্যোগের শুরুতেই কিছু অনিয়মের খবর সকলকে অবাক করেছে। জানা যায়, প্রতিটি স্কুলের গড় বরাদ্ধ প্রায় ৩২হাজার টাকা। এরমধ্যে শিক্ষকদের বেতন ১২ হাজার টাকা ও ঘর ভাড়া ১ হাজার ৬শ টাকা শিক্ষকদের হাতে দেয়া হলেও শিক্ষা উপকরণসহ আনুষাঙ্গিক ব্যায়ের বাকি প্রায় ২০হাজার টাকা এনজিও সংস্থার লোকজন রেখে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এ প্রতিনিধির কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন শিক্ষক জানান, ৪মাসের বেতন ১২হাজার টাকা এবং ঘর ভাড়া ১হাজার ৬শ টাকা ছাড়া আর কোন টাকা পাইনি। এ বিষয়ে পাপান এনজিও সংন্থার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা তত্ত্বাবধায়ক মো: তারেক হোসেন জানান, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে, কয়েক দিনের মধেই এটি মিট হয়ে যাবে। কোন সমস্যা থাকবে না বলে তিনি জানান।

পাপান ফাউন্ডেশনের ৩টি উপজেলার সমন্বয়ক ও কো-অডিনেটর মো: ইব্রাহীম বলেন, ঘটনাটি এমন হওয়ার কথা নয়, আমি খোঁজ নিচ্ছি কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কোন ব্যক্তির কারণে এমনটি হতে পারে বলে তার ধারনা। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি স্কুলের জন্য একটি কমিটি আছে, ওই কমিটি ভাল মন্দ দেখবে। সরাসরি ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ টাকা এভাবে ওঠানোর নিয়ম নেই। শিক্ষক ও ঘর ভাড়ার মালিক এর নামে আলাদা একাউন্টে এ টাকা জমা হওয়ার কথা।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এর বাইরে অন্য কারো হাতে টাকা যাওয়ার কথা নয়। কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে এ অভিযোগ তিনি শুনেছেন বলেও স্বীকার করেন। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। জানা যায়, অবকাঠামো বাবদ ৩ হাজার ৫শ টাকা, ঘর ভাড়া ১ হাজার ৬শ টাকা, শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরী বাবদ ৮ হাজার ৪শ টাকা, পরীক্ষা খরচ ১ হাজার ৫০ টাকা, শিক্ষা উপকরণ ক্রয় ২ হাজার ৫শ ২০ টাকা এবং ছবি খরচ বাবদ ২ হাজার ৬শ ২৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১০টি স্কুল খোলা হয়েছে। সেগুলো হলো জুর্গাছড়ি পাড়া আনন্দ স্কুল, ময়ূরখীল গুচ্ছ গ্রাম, ডি.পি পাড়া, ব্যাংছড়ি পাড়া ও বাতোয়া পাড়া। দুল্যাতলী ইউনিয়নে মগাইছড়ি মার্মা পাড়া, রাঙ্গামাছড়া, হাজাছড়ি পাড়া ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে বোদ্ধ পাড়া ও উল্টাছড়ি পাড়া আনন্দ স্কুল। ২০১৪ সালে পুরো উপজেলায় ৫০টি আনন্দ স্কুল খোলার পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৩২টি স্কুলের কার্যক্রম চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ: অনিয়ম, দুর্নীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 17 =

আরও পড়ুন