adv 728

লামায় গভীর রাতে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গভীর রাতে হানা দিয়েছে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। এসময় বেশ কয়েকজনকে মারধর, লুটপাটের চেষ্টা ও ২ জনকে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ভোরে তাদের ছেড়ে দেয়।

রবিবার রাত ২টায় লামা সদর ইউনিয়নের ঠাকুর ঝিরি, বরিশাল পাড়া ও বৈল্ল্যারচর এলাকায় এই তাণ্ডব চালায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তুলে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা হলো-সদর ইউনিয়নের ঠাকুরঝিরি এলাকার মেহের আলী (৩২) পিতা- সুরুজ আলী ও বরিশাল পাড়ার সমির উদ্দিন (৫৫) পিতা- আব্দুস সালাম।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে রাত ১টায় বৈল্ল্যারচর গ্রামের রবিউল আলম ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা চালায় সশস্ত্র গ্রুপটি। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা এক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। তারপর সন্ত্রাসীরা বরিশাল পাড়ার সাবেক মেম্বার আব্দুল ছোবহানের বাড়িতে ঘন্টাব্যাপী বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করে লুটপাট চালায় ও তাদের কাজের লোক সমির উদ্দিন (৫৫) কে মারধর করে নিয়ে যায়। কিছুদূর নেয়ার পরে তারা সমির উদ্দিনকে ছেড়ে দেয়। সবশেষে রাত ২টায় ঠাকুরঝিরি গ্রামের মেহের আলীকে মারধর করে তুলে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। ভোরে তাকেও ছেড়ে দেয়। গ্রুপটিতে প্রায় ৩৫ জন সন্ত্রাসী ছিল। তাদের সকলের গায়ে জলপাই রংয়ের ইউনিফর্ম ও হাতে অস্ত্র ছিল।

স্থানীয় একজন জানিয়েছেন, পুরো এলাকায় লোকজনের মাঝে এখন ভীতির সঞ্চার হয়েছে। মাস দুয়েক আগে সদর ইউনিয়নে দিনের বেলায় যে সন্ত্রাসী গ্রুপটি হামলা চালিয়েছিল এরা তারা। মূলত চাঁদা আদায়ের জন্য এই হামলা করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করেন।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, কয়েকদিন পর পর সন্ত্রাসীদের এই ধরনের হামলার কারণে জনগণ  উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন।

বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ঘটনাস্থলে দ্রুত ফোর্স পাঠানো হচ্ছে।

লামা সেনা ক্যাম্পের সাব জোন কমান্ডার বলেন, সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 2 =

আরও পড়ুন