শান্তিবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার প্রতিবাদে পিবিসিপি’র শোক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় শান্তিবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ ( পিবিসিপি) শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিবিসিপি’র রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পিবিসিপির জেলা সেক্রেটারি মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মোমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- পিবিসিপি’র জেলা সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আল আমিন, রাঙামাটি সরকারি কলেজ  শাখার পিবিসিপি’র সভাপতি ফয়েজ আহমেদ মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক  রবিউল ইসলাম, পিটি আই সভাপতি মো. আবু নাঈম, পৌর সদস্য সচিব মো. জামিল হাসানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, তৎকালীন পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন শান্তিবাহিনী  ১৯৮৬ সালের আজকের দিনে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৮৫টি গ্রামের সাধারণ, নিরীহ, শিশু, নারী-পুরুষ সকলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করে ঘরে আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেয়। সেইদিনের আক্রমনে ৪শ’ বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং ৮শ’ জনের অধিক মানুষ সেদিন আহত হয়। অবিলম্বে  এসব হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনায় জন্য বক্তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। আলোচনা শেষে বক্তারা সেইদিনের ঘটনায় নিহদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস) এর অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা ও উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক নিন্মোক্ত গণহত্যা পরিচালিত হয়।

মাটিরাঙা গণহত্যা:

১৯৮৬ সালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দং,তবলছড়ি, বর্ণাল, বেলছড়ি, আমতলি,গুমতি, মাটিরাঙা, গুইমারাসহ ৮টি ইউনিয়নের ৮৫টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাঙ্গালি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এই গণহত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস) এর অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

বাঙ্গালিদের সমস্ত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। উপজাতি সন্ত্রাসীরা সামনে বাঙ্গালি যাকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করেছে। মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে ৪শ’ জনের অধিক নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা নিরস্ত্র নিরীহ বাঙ্গালিকে হত্যা করা হয়েছে এবং আহত করা হয়েছে আরও ৮শ’ জনের অধিক বাঙ্গালি।

পানছড়ি গণহত্যা:

১৯৮৬ সালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং, চেঙ্গী, পানছড়ি, লতিবান, উল্টাছড়িসহ ৫টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাঙ্গালি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এই গণহত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস) এর অঙ্গ সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রাসীরা। বাঙ্গালিদের সমস্ত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। উপজাতি সন্ত্রাসীরা সামনে বাঙ্গালি যাকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করেছে। মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে ৩শ’ ৫০ জনের অধিক নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা নিরস্ত্র নিরীহ বাঙ্গালিকে হত্যা করা হয়েছে এবং আহত করা হয়েছে আরও ৫শ’ জনের অধিক বাঙ্গালি।

শান্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রাসীরা সেদিন এতগুলো মানুষকে হত্যা করতে একটি বুলেটও ব্যবহার করেনি। হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে জবাই করে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, বেয়ানোট ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানা ভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল এই অসহায় মানুষ গুলোকে।

প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তারা। ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখা এবং বেঁচে যাওয়া কিছু কিছু স্বাক্ষী আজও আছে।

One Reply to “শান্তিবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার প্রতিবাদে পিবিসিপি’র শোক সভা”

  1. বাচতে হলে বাংগালীদের এক জোট হয়ে
    থাকতে হবে।
    ★ পাহাড়ি ভাইদের সাথে মিলে মিশে থাকতে হবে।
    ★পাহাড়িদের সাথে আত্বিয়তা করতে হবে।
    ★ শীখা অ’জন করতে হবে।
    ★ নিজেদের পরিবারের লোক সংখ্যা বাড়াইতে হবে।
    ★ পাহাড়ি মেয়েদের সাথে সম্প’ক করে
    বিয়ে করতে হবে এবং বউকে সূখে রাখতে হবে।
    ★ মদ্য পান, জুয়া, মাদক হতে দূরে থাকতে হবে।
    ★* সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + four =

আরও পড়ুন