এনজিওগুলো ত্রাণ সামগ্রী দিলেও ইফতার সামগ্রী দিচ্ছে না কেউ

শুধু পানি মুখেই ইফতার করছেন অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবার

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের মধ্যে রমজানে ইফতারী জুটছে না বেশীরভাগেরই মুখে। অভাবের কারণেই ইফতার সংকটে রয়েছে তারা।

চলছে রমজান মাস। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রমজানকে ঘিরে দাম বেড়েছে বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রীর। ক্যাম্পে গুটিকয়েক রোহিঙ্গা টাকা পয়সায় স্বচ্ছল হলেও হাজার হাজার পরিবার জীবনযাপন করছে অভাবের মধ্য দিয়ে। সারাদিন রোজা রেখে দিন শেষে পানি মুখেই ইফতার করছে হাজারো রোহিঙ্গা পরিবার। রোহিঙ্গারা কোনো এনজিওর কাছ থেকে ইফতার সামগ্রী পাচ্ছে না। প্রত্যেক পরিবার নিজের সামর্থে ইফতার সামগ্রী কিনছেন। সংস্থাগুলো বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী দিলেও রমজান উপলক্ষে আলাদা কোনো কিছুর ব্যবস্থা করেন নি।

এদিকে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অভাবী পরিবারগুলো রমজানে বিভিন্ন পণ্য ও দ্রব্যাদি ক্রয় করতে পারছেন না। অসহায়ের মত ভাল কোনো খাবারও জুটছেনা ইফতারের বেলায়।

কথা হচ্ছিল এক রোহিঙ্গা দোকানী রুহুল আমিনের সাথে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতারীর বন্দোবস্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, “ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যথেষ্ট ইফতারীর সংকট রয়েছে। কেউ আনন্দের সাথে ইফতার করতে পারছে বলে মনে হয় না। পছন্দসই ইফতার করছেন অল্প সংখক পরিবার। বাকি পরিবারগুলো ইফতারে শুধু কলের পানিই জুটছে।”

মিয়ানমারে কিভাবে ইফতার করতেন এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাম্প ১১’র মাঝি নুরুল বশর পার্বত্যনিউজকে জানান, “আমাদের দেশে (বার্মা) ইফতার সংকট অবশ্যই ছিল না। কিন্তু এখানে যথেষ্ট ইফতারের সংকট দেখা যাচ্ছে। আমরা যখন আমাদের দেশে ছিলাম তখন ইফতার মসজিদেও দান করতাম। যদিও এখানে রমজানে ইফতার মিলছেনা বেশিরভাগ পরিবারের যা সত্যিই বেদনাদায়ক।”

তিনি নিজের ব্লকের (জে থ্রি) উদাহরণ দিয়ে আরো বলেন,”আমি আমার আওতাধীন পরিবার কথা বলি। আমার ব্লকে রয়েছে ১০২ টি পরিবার। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ ৭-৮ টি পরিবার ভালভাবে ইফতারি সাজিয়ে ইফতার করেন। আর বাকিগুলো কোনমতে ইফতার করছেন।

একই ব্লকের রোজাদার মহিলা জুলেখার সাথে কথা বললে তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান,”আমার পরিবারে রয়েছে ৯ সদস্য। আমার ৭ সন্তানই মেয়ে। স্বামী বৃদ্ধ। কিছুই রোজগার করতে পারেন না। ত্রাণ-সাহায্যের মাধ্যমে সংসারটা চলে যায়। এই রমজানে কোনো রোজাতে একদিনও ভালভাবে ইফতার করা হয়নি। এমনকি সেহেরিতেও ভাল কিছু জুটে না আমাদের। সহায়-সম্পত্তি যা ছিল তার এক-আনাও আনতে পারিনি। তাই সেদিক থেকে আরো খারাপ সংসারের অবস্থা। প্রতিদিনকার মত আজকেও পানি এবং ভাত দিয়েই ইফতারী করলাম। কেউ এসে রমজানের জন্য সামান্য কিছুও আলাদা দেয় না।

এর ঠিক পাশের বাড়ির অবস্থাও একই। পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এরকম আরো অনেক জুলেখার গল্প শোনা যায়। পবিত্র রমজানে তারা ইফতার সংকটে ভুগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 5 =

আরও পড়ুন