সাউদাম্পটনে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ

fec-image

 

আজ(শুক্রবার) বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বারবাডোজের দুই বড় ফাস্ট বোলার- একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের, অন্যজন ইংল্যান্ডের জন্য। বলা হচ্ছে জেসন হোল্ডার ও জোফরা আর্চারের কথা। সাউদাম্পটনে দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশির ভাগ আলোচনা আর্চারকে নিয়ে। দুপুর সাড়ে ৩টায় রোজ বোলে নামবে দুই দল। ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টেলিভিশন, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ফ্লোয়েড রেইফার বললেন, ইংল্যান্ডে আসার পরই আর্চার তার জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। উইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডারকে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো। তার স্বদেশীকে দলে কখনও সুযোগ দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তার সোজাসাপ্টা উত্তর, “না, আর্চার এখন ‘ইংলিশ’।”

এই বিশ্বকাপ হবে ব্যাটসম্যানদের এমন ভাবনার ইতি ঘটেছে শর্ট পিচ বোলিংয়ে। সঙ্গে গতির ঝড়ও তুলছেন বোলাররা। তাতেই আরও জমে উঠেছে এই বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে শেষ সময়ে জায়গা পেয়েছেন আর্চার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি ৩ উইকেট নিলে বোলারদের দাপটের আভাস মিলেছিল। ২৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার বাংলাদেশের বিপক্ষেও নেন ৩ উইকেট। ৩৮৭ রানের টার্গেটে নেমে তার বোলিংয়ে পাত্তা পায়নি টাইগাররা। তিন ম্যাচে স্বাগতিকদের হার একটি, পাকিস্তানের কাছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজও বোলিংয়ে কম শক্তিশালী নয়। হোল্ডারের সঙ্গে শেলডন কট্রেল, ওশানে থমাস ও আন্দ্রে রাসেলরা সুইং-বাউন্সে মাতিয়ে রেখেছে এই আসর। প্রথম ম্যাচে তারা পাকিস্তানকে ১০৫ রানে গুটিয়ে দেয়, ৭ উইকেটে জিতে শুরু করে ম্যাচ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে নামায় বড় ধরনের বিপর্যয়, যদিও ৭৯ রানে ৫ উইকেট হারানো অজিরা ঠিক জয় আদায় করে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের ম্যাচটি হয়েছে পরিত্যক্ত।

বোলারদের একই দাপট দেখার প্রত্যাশা হ্যাম্পশায়ারের রোজ বোলে। যদিও গত সোমবার বৃষ্টিতে ধুঁয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা-উইন্ডিজের ম্যাচের পর থেকে পিচ কাভারে ঢাকা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের ম্যাচ থাকবে বৃষ্টিমুক্ত।

শর্ট পিচ বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগানের মনে। একই সঙ্গে ক্রিস গেইলকে নিয়ে তার ভয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এই ওপেনারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছিল তার দল। দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি ছিল গেইলের। পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে গেলে ১২.১ ওভারে ৭ উইকেটে জিতে সিরিজ ২-২ এ সমতায় শেষ করে উইন্ডিজ।

সবশেষ এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। এবারও উইন্ডিজ বোলারদের রুদ্রমূর্তি দেখা যাবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে তারা প্রস্তুত, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’ আর্চারের পরামর্শ নিয়ে ছকও কষছেন তিনি। তবে এই ম্যাচে ইনজুরিতে মার্ক উডকে নিয়ে অনিশ্চয়তা কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজও সতর্ক আর্চারকে নিয়ে। প্রথমবার এই পেসারের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তাকে ভালোভাবে জানেন উইন্ডিজ অধিনায়ক, ‘অনেক বছর ধরে জোফরাকে আমি দেখছি। সে অবশ্যই একজন বারবাডিয়ান। বারবাডোজে ক্রিকেট খেলে বড় হয়েছে সে। তাই জোফরা যা করছে সেটা আমাকে বিস্মিত করে না। দুর্ভাগ্য যে এমন সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়েছিল। কিন্তু সে একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়।’

তবে শুধু আর্চার নয়, পুরো ইংল্যান্ডকে বধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোল্ডার, ‘আমাদের কাজ হবে কাল (শুক্রবার) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা এবং তাদের হারানো।’সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ঘটনাপ্রবাহ: ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ, খেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 8 =

আরও পড়ুন