সেন্টমার্টিনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানব পাচারসহ চোরাচালান রোধে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ টেকনাফ উপজেলাস্থ ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্টমার্টিনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, মানব পাচার ও চোরাচালান থেকে মুক্ত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বদ্ধপরিকার। এজন্য বিজিবি সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে জানান, সেন্টমার্টিন বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ মেজর জিএম সিরাজুল ইসলাম।

প্রায় ৮ হাজার জনসংখ্যার বসবাসকারী এ সেন্টমার্টিন দেশের একটি পরিচিত পর্যটন অঞ্চল। সে হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও বিজিবি সদস্যরা অস্ত্রসস্ত্রসহ সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

৮ এপ্রিল (সোমবার) সরেজমিনে সেন্টমার্টিন ঘুরে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা ভারী অস্ত্রসস্ত্রসহ দ্বীপাঞ্চলের অলিতে গলিতে পাহারা দিচ্ছেন।

গত রবিবার থেকে বিজিবি সদস্যরা এখানে অবস্থান করছেন। ১৯৯৭ সালের পর থেকে সেন্টমার্টিনে বিডিআর/বিজিবি মোতায়েন হয়নি। অবশেষে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল রবিবার দীর্ঘ ২২ বছর পর সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

মোতায়েন বিজিবি-১ কোম্পানীর প্রায় শতাধিক সদস্য বর্তমানে সেন্টমার্টিন হাসপাতালের পাশে আবহাওয়া অফিসে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খান বলেন, মিয়ানমার সরকার আমাদের দেশের একমাত্র এই প্রবালদ্বীপের সৌন্দর্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বার বার তাদের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে যুক্ত করে তাদের নিজেদের অংশ তথা নিজেদের দ্বীপ বলে দাবি করেই যাচ্ছে। পরে অবশ্য বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই দাবি থেকে তারা সরে আসতে বাধ্য হয়।

এছাড়াও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে সেন্টমার্টিনে অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, মানব পাচার ও চোরাচালানের ভয় আমাদের কম নয়। এটি একটি দ্বীপাঞ্চল ও মিয়ানমারের একদম পাশের অঞ্চল হিসেবে মাদক পাচারকারী, মানব পাচারকারী ও চোরাচালানকারীরা নির্ভয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। কিন্তু বর্তমানে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় এসব অবৈধ কার্যকালাপ ও মাদক ব্যবসায়ীদের পতন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এজন্য সেন্টমার্টিনকে আশঙ্কামুক্ত করতে বিজিবির অসাধারণ কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো সেন্টমার্টিনবাসী কৃতজ্ঞত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ জানান, বিজিবি যখন ছিলনা তখন আমরা নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে সর্বদা আতঙ্কে থাকতাম কিন্তু এখন বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় আমরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করে যাচ্ছি।

স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা বজলুর রহমান জানান, দীর্ঘ ২২ বছর পর বাংলাদেশ সরকার সেন্টমার্টিনে বিজিবি মোতায়েন করায় এলাকাবাসীসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে আগত পর্যটকরা নিরাপদ এবং তারা উপকৃত হয়েছে। চারপাশে পানি তার মাঝে একটি দ্বীপ হিসেবে এখানে চলাফেরা করতে বিভিন্ন ভয়ভীতি থাকার কথা। কিন্তু বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় সেই ভয়ের আশঙ্কা থেকে আমরা মুক্ত। নিঃসন্দেহে বিজিবি মোতায়েন সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ, আমরা সকলে এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

বিজিবি মোতায়েনে পুরো সেন্টমার্টিনবাসীর মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। তারা চান নিরাপদে বসবাস করতে এজন্য বিজিবির ভুমিকাকে বড় করে দেখছেন তারা। দীর্ঘ ২২ বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেন্টমার্টিনে বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় প্রবালদ্বীপবাসী এখন নিজেদের নিরাপদ বলে জানান এবং সরকারের এ উদ্যোগকে সকলে স্বাগত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 4 =

আরও পড়ুন