স্বাস্থ্যসম্মত ও মজাদার বাঁশ কোড়লের রেসিপি

fec-image

জাপান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে বাঁশ কোঁড়ল একটি জনপ্রিয় খাদ্য। তবে এটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় জাপানে। বিশ্বে প্রতিবছর বাঁশ খাদকদের কাছে প্রায় আড়াই হাজার টন বাঁশের কোঁড়লের চাহিদা রয়েছে। বিশ্ব বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ বাঁশের কোঁড়লের ক্রেতা জাপান।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি বাঁশের কোঁড়ল উৎপন্ন হয় চীনে। চীন প্রতিবছর বিশ্বের ৩৭টি দেশে গড়ে ১৩৭ হাজার টন টিনজাত বা প্যাকেটজাত বাঁশের কোঁড়ল রপ্তানি করে থাকে। কোরিয়া, জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর, জার্মানী, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন প্রভৃতি দেশে বাঁশের কোঁড়লের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

বাঁশের কোড়লকে ‘স্বাস্থ্যকর খাবারের রাজা।’ বলে থাকেন চীনারা। তাজা বাঁশের কোঁড়লে ৮৮-৯৩% পানি, ১.৫-৪% প্রোটিন, ০.২৫-০.৯৫% চর্বি, ০.৭৮-৫.৮৬% চিনি, ০.৬০-১.৩৪% সেলুলোজ এবং ১.১% খনিজ পদার্থ আছে। ভিটামিনও আছে অনেক।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, বাঁশ কোঁড়ল দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এটি কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, হাঁপানী, ডায়াবেটিস, তীব্র জ্বর, মৃগি রোগে মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি নিরাময়েও যথেষ্ট অবদান রাখে। তাই যে কোনো সবজির সাথে তুলনা করলে বাঁশের কোঁড়ল কোনোভাবেই হেলাফেলার নয়।

তবে পার্বত্য চট্ট্রগ্রামের অনেকে বাঁশের কোড়ল খাওয়ার কারণে বাঁশ সম্পদ নষ্ট ও পাহাড় ধ্বস হচ্ছে বলে মনে করেন।

নিচে বাঁশ কোড়লের কয়েকটা রেসিপি দেয়া হলো:

প্রথমে বাঁশের কোড়লের উপরের সবুজ শক্ত অংশটাকে ছাড়িয়ে ফেলতে হবে। সবুজ শক্ত অংশ সরানো অবস্থায়ও অনেক জায়গায় বাঁশের কোড়ল কিনতে পাওয়া যায়। এরপর আপনার প্রয়োজনমত ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে ভালো করে পানিতে ধুয়ে একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে বাঁশ কোড়ল সিদ্ধ করবেন। সিদ্ধ করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

এই সিদ্ধ হওয়া বাঁশ কোড়ল বিভিন্ন আইটেমে রান্না করে খেতে পারবেন। কয়েকটা নিম্নরুপ:

১. পুঁইশাকের সাথে : একটি পাত্রে পরিমাণমত পানি নিয়ে তাতে শুটকি, পেঁয়াজ, মরিচ ও পরিমাণমত লবণ দেবেন। পাহাড়িরা এই আইটেমে ছাঁকা নাপ্পির পানি দিয়ে থাকে। নাপ্পি হল পাহাড়িদের তরকারী রান্নার প্রিয় একটি মশলা যা মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। লক্ষ্য রাখবেন এই আইটেমে হলুদ গুঁড়া দেয়া হয় না।

এরপর এটি চুলায় বসিয়ে ৪-৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। পানি ফুটতে থাকায় অবস্থায় এতে বাঁশ কোড়ল দিতে হবে। এর ১০-১৫ মিনিট পর এতে হালকা পুঁইশাক দিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রান্নাটা হয়ে আসবে।

২. শুধু বাঁশ কোড়ল : সিদ্ধ করা বাঁশ কোড়ল কুচি কুচি করে কেটে তেল দিয়েও রান্না করে খেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি পাত্রে পরিমাণমত তেল ‍দিয়ে চুলায় বসাতে হবে। পেঁয়াজ একটা কুচি করে কেটে শুটকি তেলে ভাজাতে হবে। কিছুক্ষণ ভাজার পর কুচি করে কাটা বাঁশ কোড়ল দিতে হবে। এতে লবণ ও হালকা লাল মরিচের গুঁড়া মেশাতে হবে। এরপর সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে মিডিয়াম তাপে রান্নাটা করে নিতে হবে। চাইলে আপনারা শুটকি ভাজার স্থানে টাটকা চিংড়ি ভাজিয়েও দারুণ স্বাদের রান্না করে নিতে পারেন। এ জন্য হালকা জিরা গুঁড়া মেশাতে হবে।

৩. মাংসের সাথে : মাংসের সাথে বাঁশ কোড়ল রান্না বেশ মানায়। মাংসের সাথে বাঁশ কোড়ল রান্না করে খাওয়া পাহাড়িদের খুব প্রিয়। পাহাড়িরা সাধারণত মুরগি ও শুকরের মাংসের সাথে বাঁশ কোড়ল রান্না করে খায়। তবে অন্যান্য সকল মাংসের সাথেই রান্না করে খাওয়া যায়।

প্রথমে আপনাকে স্বাভাবিক নিয়মেই মাংসটা রাঁধতে হবে। শুধুমাত্র মাংসটা হওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে কুচি করে কাটা সিদ্ধ বাঁশ কোড়লগুলো দিতে হবে। বেশ হয়ে গেলো দারুণ রান্না।

ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য চট্ট্রগ্রাম, বাঁশ কোঁড়ল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + seventeen =

আরও পড়ুন