কৃষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। এতে কক্সবাজার জেলার লবণ চাষীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও ন্যায্য দাম ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা এখনোও কাটেনি। এদিকে লবন আমদানি স্থগিতের খবরে কক্সবাজারের চাষীরা উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানান তারা।
চাষিরা জানান, লবণ বিক্রি হয় মন হিসেবে সরকারী হিসেবে সেখানে ৪০ কেজিতে ১ মন ধরা হয়, সেখানে মহাজন ও ব্যবসায়ীর ৫৫ থেকে ৬০ কেজিতে এক মন হিসেব করে লবণ নিচ্ছে। অতিরিক্ত ওজনে লবণ দিতে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি লবনের মূল্য না থাকায় এ বছর হাজার একর চাষের জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, লবণ আমদানির সরকারি অনুমতির প্রতিবাদে এবং দেশীয় লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর ঢাকার বুকে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ ই জানুয়ারি) সকাল ১০ টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতির উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে লবণ আমদানি বাতিলের দাবী চাষীরা আন্দোলন নামে। সেখানে বুদ্ধিজীবি মহেশখালীর সন্তান ড. সলিমুল্লাহ খান তার বক্তব্যে লবণ আমদানীর সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহবান জানান। এবং তিনি সিন্ডিকেট ও সরকারের তীব্র সমলোচনাসহ আন্দোলনের মুখে বানিজ্যে মন্ত্রণালয় লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্থগিত করে দেন।
জানাগেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে লবণ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমানে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিকের লবণ সেলের প্রধান মোঃ সরোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ মেট্রিক টন লবণ আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়। সে অনুযায়ী সিসিআই (প্রধান নিয়ন্ত্রক আমদানি-রপ্তানি দপ্তর) থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আগ্রহী আমদানিকারকদের আবেদনের আহ্বান করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার শেষ সময় ছিল ১১ জানুয়ারি।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২০–২৫ হাজার মেট্রিক টনের জন্য এলসি খোলা সম্ভব হওয়ায় সরকার আর সময় বাড়ায়নি।বুধবার কক্সবাজারের লবণ শিল্প সংশ্লীষ্টরা বৈঠক করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সাথে। বৈঠকের পর শিল্প উপদেষ্টা বাণিজ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে যারা এলসি করেছে বা করেনি, সকল প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রাখতে বলেন।
মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, “এখন আর কেউ লবণ আমদানি করতে পারবে না। বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত আমদানি স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত সবার সামনে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।বিসিকের চেয়ারম্যান এবং কক্সবাজারের লবণ সংশ্লিষ্টরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।”
১ লাখ টন লবণ আমদানির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২৪৭ টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠিয়েছিলো শিল্প মন্ত্রণালয়। এই তালিকা থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩১টি প্রতিষ্ঠান কে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
