অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ৬ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালো বিজিবি

fec-image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২৩ জুন) বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধীনস্থ লেম্বুছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৫০/২ এস সংলগ্ন সীমান্তের বাহিরমাঠ নামক স্থান দিয়ে ৬ জন রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বিজিবি তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে শুরু হওয়া মিয়ানমার রাখাইনে আরাকান আর্মি ও স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা পালানোর চেষ্টা করে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের বরাতে জানা গেছে রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ দিন দিন বেড়েই চলছে। সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন। টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের অপর পাশে রাখাইনের মংডুর টাউনশীপ এলাকার বিভিন্ন সীমান্তে শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা অবস্থান করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানা যায় স্থানীয় এক সূত্রে।

এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নিরাপত্তা চৌকি ও ক্যাম্পে হামলার ঘটনার জেরে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফে। এখনো পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার কোনো রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত নেয়নি।

পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয়ের পরে এ দুই উপজেলার বেড়েই চলেছে খুন, অপহরণ ও মাদক কারবার। এজন্য নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা যেন সীমান্ত পেরিয়ে আসতে না পারে সেজন্য সর্তক থাকতে হবে।

এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবির সদস্যরা। সার্বক্ষণিক রাখাইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার, রোহিঙ্গা, সীমান্ত উত্তেজনা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন