শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তিতে পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল মানুষের গণ সাক্ষাৎকার

শান্তিচুক্তির ২২ বছরে ব্যাপক অর্জন সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্রই পার্বত্য শান্তির প্রধান অন্তরায়

fec-image

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির ২২ বর্ষপূর্তি সোমবার। সুদীর্ঘ ২২ বছরে শান্তিচুক্তি পাহাড়ের জনজীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে- এ প্রশ্ন নিয়ে পার্বত্যনিউজের প্রতিনিধিরা পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মুখোমুখী হয়। শান্তিচুক্তি নিয়ে পাহাড়ী মানুষের ভাবনাগুলো পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন, এইচএম প্রফুল্ল, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, মাইনুদ্দীন বাপ্পী, আবুল বাশার নয়ন ও আবদুর রহমান

পার্বত্যাঞ্চল শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জায়গায় এসেছে- বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন- পার্বত্যঞ্চলে দুই যুগের অধিক অশান্তি, সংঘর্ষ, রক্তক্ষয়ী অবস্থা বিরাজ করেছে। সেই অবস্থা থেকে পার্বত্যাঞ্চলকে আজকে উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতির জায়গায় নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চুক্তির অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে তাও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী এই পার্বত্যঞ্চলকে দেশের সম্ভাবনাময়, সম্পদশালী এলাকা করার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ উন্নয়ন করেছেন, আগামীতে আরো করবেন। তৃতীয় কোন পক্ষের সহায়তা ছাড়া একমাত্র শেখ হাসিনার  আন্তরিকতার কারনে আন্দোলনকারীদের সাথে শান্তি চুক্তি করেছেন। শান্তিচুক্তির ২২বছর পূর্তি দিবসে তিন পার্বত্যজেলাসহ সারাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান।

চুক্তি বাস্তবায়নের নামে সরকার অব্যাহতভাবে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে- সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যেই সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেই আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বর্তমানে এক নাগাড়ে ১১ বৎসর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলেও চুক্তির অবাস্তবায়িত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে কোন কার্যকর পদক্ষেপ ও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পক্ষান্তরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ জুম্ম জাতিসমূহের জাতীয় অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি মোতাবেক বহিরাগত সেটেলারদেরপার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন প্রদান না করে এবং পার্বত্য চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ অবাস্তবায়িত রেখে সরকার উল্টো ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে অব্যাহতভাবে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণা দেশে বিদেশে চালিয়ে যাচ্ছে।

সন্তু লারমা আরো জানান, বস্তুত সরকার জুম্ম জাতিসমূহকে চিরতরে নির্মূলীকরণের হীন উদ্দেশ্যে যুগপৎ বাঙালিকরণ ও ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে চলেছে। এই উদ্দেশ্যে একই সাথে শাসকদল এবং সরকার ও সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, প্রতিরক্ষা বিভাগ এর একটা বিশেষ মহল চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করা, জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বকে ধ্বংস করা ও চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করার আগে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র দুর করতে হবে- এমপি দীপংকর তালুকদার

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, আমরা কি বলেছি শান্তিচুক্তি একশো ভাগ বাস্তবায়ন করেছি? আমি ওইদিন ইন্টারনেটে দেখেছি চুক্তির ৬৫ভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এমপি দীপংকর আরও বলেন, আমরা কি বলেছি ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভুমি সমস্যা দূর করেছি। সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। কিন্তু এখানে নেতিবাচক মনোভাবটা বেশি। আর নেতিবাচক মনোভাবটা বেশি থাকলে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরাণ্বিত হয়।

তিনি জানান, এ অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগঠনগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সাবেক এ মন্ত্রী আরও জানান, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করার আগে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

পাহাড়ী-বাঙালির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে- কংজরি চৌধুরী

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পাহাড়ের চিত্র বদলে দিয়েছে। পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নের দ্বার খুলে দিয়েছে। পর্যটনসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গতি বেড়েছে। কতিপয় মহলের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ হলে উন্নয়নের গতি আরো বাড়বে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

চুক্তির পরিপূর্ণ স্বাদ আমরা এখনো পাচ্ছি না- ঊষাতন তালুকদার

রাঙামাটি আসনের  সাবেক সংসদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, চুক্তির পরিপূর্ণ স্বাদ আমরা এখনো পাচ্ছি না। চুক্তির মূলধারাগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক হলেও আমলাতান্ত্রিক সমস্যাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবে চুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।  তাই চুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে।

আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে- ফিরোজা বেগম চিনু

মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছেন, আ‘লীগ সরকার শান্তি চুক্তি করেছে, শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের নামে যদি সাধারণ মানুষকে খুন, গুম এবং চাঁদাবাজি করা হয় তাহলে এটা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে চুক্তি বাস্তবায়নে আরও সমস্যা হবে।

আন্দোলনের অনেক পথ খোলা আছে। মানুষের ক্ষতি করে কারো মঙ্গল আনা যায় না। এজন্য যারা এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাদের অচিরেই এসব অপকর্ম বন্ধ করে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে শান্তির জয়গান গাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

কিছু অস্ত্র জমা দিয়ে কিছু অস্ত্র হাতে রেখে চুক্তি বাস্তবায়ন কিভাবে আশা করে- একেএম জাহাঙ্গীর আলম

বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর বলেছেন,  এক হাতে তালি বাজে না। চুক্তি হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে। একটি পক্ষ সরকার, অন্যটি যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন, সংগ্রাম লড়াই করেছে। এখন কিছু অস্ত্র জমা দিয়ে যদি কিছু অস্ত্র হাতে রাখে তাহলে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন কিভাবে আশা করবেন?

বর্তমানে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সেটিকে দেখা হচ্ছে। উদারচিত্তে, ভালো মনে, এই জনপদের উন্নয়ন, মঙ্গল, জনগণের শান্তি শৃংখলার কথা বিবেচনা করে পাহাড়ে সন্ত্রাস না করে অস্ত্র জমা দিয়ে তাদেরকে উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে। এতে পূর্ণাঙ্গতা পাবে চুক্তি। অন্যথায় প্রতিবন্ধকতা থেকে যাবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেই পাহাড়ে শান্তি আসবে- শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান

রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান বলেন, শান্তি চুক্তির আগে আমাদের পাহাড়ে যে ভয়ংকর পরিবেশ ছিলো তা এখন অনেকাংশে কমে গেছে।

শান্তি চুক্তির পর আমাদের পাহাড় এখন সমতলের ন্যায় এগিয়ে যাচ্ছে এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুকৌশলী নেতৃত্বের কারণে। পাহাড়ে পুরোপুরি শান্তি তখনই আসবে যখন পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে এবং চাঁদাবাজি, গুম এবং খুনের মতো হত্যাকাণ্ড একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

শান্তিচুক্তির ফলে পার্বত্যাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে- লক্ষ্ণীপদ দাশ

বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষী পদ দাশ বলেছেন, শান্তিচুক্তির ফলে পার্বত্যাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। স্কুল, কলেজ, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হয়েছে। চিকিৎসাখাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মসজিদ-মন্দির, ক্যাং হয়েছে। সর্বোপরী অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনগনের আর্থিক ক্ষমতাবৃদ্ধি পেয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের গরীব কৃষকের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ এবং সরকারী চাকরী পাচ্ছে। এটাই আমি মনে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবর্তন বা উন্নয়ন। আজ থেকে ২২বছর আগে ছিল একটা বিধ্বস্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাইশ বছর পরে একটা সম্প্রীতি সমৃদ্ধির পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে উঠেছে।

সহিংসতা কমেনি বরং বেড়েছে- খামলাই ম্রো

থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো বলেছেন, বান্দরবানে আজকাল অশান্তি বিরাজ করছে। কোন শান্তি শৃংখলা নেই এখানে। সহিসতা কমেনি বরঞ্চ বেড়েই চলেছে। এর একমাত্র কারণ আমরা মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া।

পাহাড়ে এখন আর গুলির আওয়াজ শোনা যায় না- রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের সমস্যা ছিল রাজনৈতিক। সমাধানও করেছেন রাজনৈতিকভাবে। যার সুফল পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ পাচ্ছে। পাহাড়ে এখন আর গুলির আওয়াজ শোনা যায় না। শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। চুক্তির কারণে পাহাড়ে উন্নয়ন হচ্ছে। চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকী ধারাগুলোও বাস্তবায়িত হবে।

পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সাথে সরকারের ধোঁকাবাজী করেছে- প্রবীণ চন্দ্র চাকমা

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাথে সরকারের ধোকাবাজি বলে আখ্যায়িত করে বলেন, এ চুক্তির ফলে পাহাড়ে শান্তির বদলে অশান্তি বেড়েছে।

চুক্তির পর আওয়ামীলীগ সরকার চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় আসলেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না। পার্বত্যবাসীকে সব কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি মনে করেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসার অসহযোগিতার কারণে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে না- শ্যামল কান্তি চাকমা

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, প্রসীত বিকাশ খীসার ইউপিডিএফ‘র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্তু লারমার অসযোগিতার কারণে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তার মতে, ইউপিডিএফ মুখে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের কথা  বললেও প্রতিপক্ষের নেতাকর্মী ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদেরও হত্যা করছে।

প্রসীতের ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা এখন পকেট ভারী নেতা হিসেবে পরিচিত। মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে নীতিহীন, আদর্শহীন, লক্ষ্যভ্রষ্ট, দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এ সব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের আর্থিক দণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ইউপিডিএফ’র বর্তমান নেতৃত্ব জুম্ম জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শান্তিচুক্তি করেছি- বিমল কান্তি চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন)-এর খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা পার্বত্য শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরাও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

এ দেশের  সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করি। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে নিয়ে সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তি করেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রী এ চুক্তির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে পুরুস্কৃত হয়েছেন। এ পুরস্কার যদি সত্য হয়, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়নে বাঁধা কোথায়?

সংঘাত, চাঁদাবাজী বেড়েছে- সুদর্শন দত্ত

খাগড়াছড়ি চেম্বার অব কর্মাসের পরিচালক সুদর্শন দত্ত বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি নিয়ে যা আশা করেছি,তার প্রতিফলন হয়নি। ভ্রাতিঘাতি সংঘাত বেড়েছে। উন্নয়ন কাজে চাঁদাবাজি বেড়েছে। এখন একাধিক গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে।

ভূমি কমিশন কার্যকরী হচ্ছে না- জুয়ামলিয়ান আমলাই

বান্দরবান বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেছেন- পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রতিবছর সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোন বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে ভূমি কমিশন কার্যকরী হচ্ছে না।

ভূমি কমিশন কার্যকর হলে আমরা ধরে নেবো পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারনে নতুন নাম না জানা অনেক সন্ত্রাসী দল সৃষ্টি হচ্ছে। এই কারনে পার্বত্য বান্দরবানের মানুষ আতংকে আছে। আমরা চাই চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হউক, শান্তি বিরাজ করুক। পার্বত্যঞ্চলে অবৈধভাবে পরিবেশ ধ্বংস, পাথর তোলা, যথাযথ পাথরকাটা গাছ কাটা, ইটভাটা বন্ধ করার দাবী জানান তিনি।

গত কয়েক বছরে বান্দরবান অশান্ত হয়েছে- অংচমং মারমা

বান্দরবান জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং মার্মা বলেছেন, বান্দরবানে এক সময় শান্তি শৃংখলা থাকলেও গত কয়েক বছরে এখানকার শান্তি শৃংখলা অশান্ত হয়েছে। এরমধ্যে অনেকগুলো প্রাণ ঝরে গেছে।

সরকার যদি দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন করে তাহলেই শান্তি শৃংখলা ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রিমিনালাইজেশন হচ্ছে- বুদ্ধ্যজ্যোতি চাকমা

দৈনিক প্রথম আলো’ বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধ্যজ্যোতি চাকমা বলেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২বছরেও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এই কারনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ হতাশাগ্রস্ত। তারা বিশ্বাস করতে পারছে না পার্বত্য শান্তি চুক্তি কবে পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে।

চুক্তির পরে লাভবান হয়েছে কিনা তাও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই মানুষের আস্থা, বিশ্বাসকে ধারণ করে সরকারের অতিদ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন করা উচিত। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রিমিনালাইজেশন হচ্ছে। এর কারণে হত্যা পাল্টা হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন জেলার সিনিয়র এই সাংবাদিক।

পাহাড় ও সমতলের দুরত্ব কমেছে- হিরঞ্জয় ত্রিপুরা

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়-সমতলের মধ্যে দুরত্ব কমেছে। পাহাড়ে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে।

পাহাড়ের মানুষের মধ্যে কাজের গতি বেড়েছে। সরকারী উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমন করার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির ফলে সাধারন মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে।

পাহাড়ের প্রতিটি সেক্টরে পার্বত্য চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে- হুমায়ুন মোরশেদ খান

ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচিত হয়েছে দাবী করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম. হুমায়ুন মোরশেদ খান বলেন, অপার সম্ভাবনাময় পাহাড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। পাহাড়ের প্রতিটি সেক্টরে পার্বত্য চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির বদৌলতে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন আর পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ফলে শিক্ষা, অবকাঠামো, কৃষি, পর্যটনসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এমনটাই বলেছেন এম. হুমায়ুন মোরশেদ খান।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও শান্তি আসবে কিনা সন্দেহ- জাহাঙ্গীর আলম মুন্না

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, ১৯৯৭ সালের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি সরকার যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তখন আমরা মনে করেছিলাম দীর্ঘ ২৩বছরের সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ হবে। পাহাড়ি-বাঙালী সকল সম্প্রদায় মিলে মিশে বসবাসের সহাবস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পর থেকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, খুন, গুম করছে।

এ নেতা বলেন, ২০১৪ সালে সরকারের যখন মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয় স্থাপন করছে তখনি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জনগণের মৌলিক অধিকারে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব হবে, চুক্তি বাস্তবায়ন হলে এখানকার মানুষের শান্তি আসবে কিনা এনিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

পার্বত্য চুক্তির অর্জনকে ম্লান করার অপচেষ্টা চলছে- এমএম জাহাঙ্গীর আলম

নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অর্জনকে ম্লান করার অপচেষ্টা চলছে দাবী করে মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পার্বত্য চুক্তি পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশার ফসল। চুক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ের মানুষে মানুষে দুরত্ব গুছিয়ে দিয়েছেন। পাহাড়ে আস্থার সঙ্কট কেটে গেছে। তবে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিবদমান সংঘাত পাহাড়ের জন্য অশনি সংকেত বলেও মনে করেন এ সংবাদকর্মী।

তিনি বলেন, চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুচিত হয়েছে। উন্নয়নের মুল স্রোতধারায় যুক্ত হয়েছে পাহাড়ী জেলাসমুহ। পাহাড়ে কৃষি-পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শান্তির সুবাতাস পাচ্ছে না পার্বত্য জনগণ- মিজানুর রহমান

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা আহবায়ক মো: মিজানুর রহমান বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই দশক পার হলেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস পাচ্ছে না পার্বত্য জনগণ। পার্বত্য অঞ্চলে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ ও এমএনপি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং জনপ্রতিনিধি খুনের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিচুক্তি যদি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে চুক্তির বিতর্কিত ধারা এবং উপধারা পরিবর্তন এনে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, তৎকালীন আওয়মীলীগ সরকারে সঙ্গে জনসংহতি সমিতি ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি। যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। চুক্তির পরে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামটিতে চার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে। মারা যান বহু মানুষ। এই সময় পাহাড়ে একমাত্র শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল বান্দরবান। কিন্তু এখানেও সম্প্রতি মগ বাহিনী নামে তৈরি হয় একটি সশস্ত্র গ্রæপ। এই বাহিনী গঠনের পর থেকে আওয়ামলীগ ও জেএসএস উভয় পক্ষের মারা যান ৬জন নেতাকর্মী।

চুক্তি হলেও শান্তি আসেনি- জাহাঙ্গীর আলম

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,  তৎকালীন  (বর্তমান সরকার) আ‘লীগ সরকার  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সাথে শান্তিচুক্তি করেছে পাহাড়ে শান্তির জন্য। কিন্তু চুক্তি হলেও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। পাহাড়ে প্রতিনিয়ত হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি চলছে।

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের এ নেতা আরও জানান, পাহাড়ে শান্তি আনতে হলে আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এরপর চুক্তির সাথে বাঙ্গালী স্বার্থের সাংঘর্ষিক ধারাগুলো বাতিল করতে হবে। তারপর পাহাড়ে শান্তি চলে আসবে।

১৯৯৭ সনে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে| উন্নয়নের চাকা সচল হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই| মৃর্ত্যু উপত্যকা হিসবে পরিচিত পাহাড়ের মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ তৈরী হয়েছে| শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২২ বছরে এলাকার ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট অবকাঠামোগত  নির্মানের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে| পাহাড়ে অসংখ্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে পশ্চাত্‌পদ জনগোষ্ঠী|
একই প্রশ্নের উত্তরে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম বলেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে| ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের ফলে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে| সারা দেশ থেকে শত শত পর্যটক এখানে আসছে সেটাও শান্তি চুক্তির অবদান|
এব্যাপারে ২নং বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেএসএস এমএন লারমা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে, পাহাড়ী বাঙ্গালীর মধ্যে যে দূরত্ব তা কমে গিয়ে ভাতৃত্ববোধ তৈরী হয়েছে|
এব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা) দীঘিনালা উপজেলা কমিটির সহ সভাপতি লোচন দেওয়ান জানান, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পর পাহাড়ী বাঙ্গালীর মধ্যে বৈরী মনোভাব নাই| তিনি আরো জানান, শান্তিচুক্তির ধারা মতে ল্যান্ড কমিশন গঠন, সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে, বেদখল এবং বিরোধপুর্ণ ভুমি সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে|
পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ দীঘিনালা উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ আল আমিন জানান,  দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তির সু বাতাস বইছে| তিনি আরো জানান, শান্তিচুক্তির কিছু ধারা বাঙ্গালীদের স্বার্থ পরিপন্থী, যা আইনের মাধ্যমে সংশোধন করা দরকার|
Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: শান্তিচুক্তি, সাক্ষাৎকার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × one =

আরও পড়ুন